গোলাম আযমের জন্মস্থান ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জামায়াত নিরব

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :–

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বীরগাঁওয়ে জন্মেছেন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযম। মানবতাবিরোধী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সোমবার গোলাম আযমের বিরুদ্ধে রায় ঘোষিত হয়েছে। রায়ে গোলাম আযমের ৯০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। রায় ঘোষণার পর বীরগাঁও গ্রামে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। অনেকটা স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে। এদিকে নাশকতার আশঙ্কায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন স্থান থেকে ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে জেলা পুলিশ।

জানা গেছে, গোলাম আযমের সকল আত্মীয়স্বজন ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে বসবাস করেন। আর সঙ্গত কারণেই বীরগাঁও গ্রামে গোলাম আযমের রায় নিয়ে তেমন কোনো মাতামাতি নেই। তবে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত আলোচিত সমালোচিত জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমের ফাঁসির দাবিতে সকাল থেকেই আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠন খণ্ড খণ্ড মিছিল ও সমাবেশ করেছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর কাউকেই মাঠে মিছিল করতে দেখা যায়নি। গোলাম আযমের রায়কে কেন্দ্র করে তার নিজ গ্রাম বীরগাঁও এবং নবীনগর উপজেলায় কঠোর নিরাপত্তা বলয় সৃষ্টি করেছিল পুলিশ। এদিকে নাশকতার সৃষ্টির আশঙ্কায় রোববার গভীররাতে জামায়াতের চার কর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা হলেন মোশারফ হোসেন (২৮), মিজানুর রহমান (২৫), আবুল খায়ের (২০), সাক্কু মিয়া (২২)।

অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। জামায়াতের কোন নেতাকর্মীকে মাঠে দেখা যায়নি। তবে রায় ঘোষণার পর বেলা তিনটার দিকে উপজেলা সদরটিকে খানিকটা নিরব পেয়ে হঠাৎ জামায়াতের কিছু কর্মী লঞ্চঘাট থেকে ঝটিকা মিছিল বের করার চেষ্টা করে। এসময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ধাওয়ায় মিছিলটি পণ্ড হযে যায়। এদিকে দুপুরে রায়ের খবরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দেয়। আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট শিবশঙ্কর দাস বলেন, ‘আমরা ফাঁসি চেয়েছিলাম। কিন্তু এই রায়ে আমরা খুশি হতে পারলাম না এবং নবীনগরকেও ভারমুক্ত করা গেল না।’ গ্রামের বৃদ্ধ লিয়াকত আলী বলেন, ‘স্বাধীনতা যুদ্ধে তার (গোলাম আযম) ভূমিকায় গ্রামের মানুষ তাকে প্রত্যাখান করেছে। গ্রামে ইসলামের নামে সাধারণ মানুষদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেছিলেন। গ্রামের ১৩ জন মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধের পর (দেশ স্বাধীনের পর) অপেক্ষায় ছিলেন গ্রামে আসলে তাকে (গোলাম আযম) মেরে ফেলবে। কিন্তু তিনি গ্রামের সাথে কোনোরকম সম্পর্কই রাখেননি। একটি ঘরসহ ভিটে খালি পরে আছে। গ্রামে তার প্রতিষ্ঠিত একটি মসজিদ ও একটি মাদ্রাসা রয়েছে।’ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহ জিকরুল আহমেদ খোকন বলেন, ‘আমরা রায়ে খুশি। পাঁচটি অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। এ রায়ের কারণে প্রকারান্তরে তাকে জেলেই মরতে হবে।’ ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মেজর (অব.) জহিরুল হক খান (বীর প্রতীক) বলেন, ‘আমরা আরো বেশি সাজা প্রত্যাশা করেছিলাম।’ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার হারুন অর রশিদ বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী রায় হয়নি। তার পরও আমরা খুশি।’ নবীনগরের বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান কবীর আহমেদ জানান, ‘অপরাধ অনুযায়ী তার সাজা হয়েছে। এজন্য আমরা অত্যন্ত খুশি।’

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply