পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে ঘনীভূত হচ্ছে কুবি পরিস্থিতি প্রক্টরিয়াল বডি ও প্রভোস্টসহ ৪ জনের পদত্যাগ

এম আহসান হাবীব, স্টাফ রিপোর্টার :–

শিক্ষকদের পরস্পরবিরোধী দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বে দিন দিন ঘনীভূত হয়ে আসছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক পরিস্থিতি। ধারাবাহিক আন্দোলনের মাঝে সোমবার পদত্যাগ করেছেন প্রগতিশীল শিক্ষক জোট সমর্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. সৈয়দুর রহমান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট ড. বিশ্বজিত চন্দ্র দেব, সহকারী প্রক্টর শামিমুল ইসলাম ও জুলহাস মিয়া। শামিমুল ইসলাম একই সাথে নবাব ফয়জুন্নেসা হলের হাউস টিউটরের দায়িত্ব থেকেও পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে কোন প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেয়ার প্রতিবাদে এরা সবাই প্রগতিশীল শিক্ষক জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পদত্যাগ করেছেন বলে ঐ জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। গতকাল দুপুর দুইটায় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার ড. তৌহিদুল ইসলামের নিকট পদত্যাগপত্র জমা দেন। তবে রেজিস্টার ড. তৌহিদুল ইসলামের মোবাইল বন্ধ থাকায় পদত্যাগপত্র প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায় নি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের পদত্যাগকারী প্রভোস্ট ড. বিশ্বজিত চন্দ্র দেব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে একের পর এক চলমান বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোন ব্যবস্থা না নেয়ার প্রতিবাদে প্রগতিশীল শিক্ষক জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা সবাই পদত্যাগ করেছি। প্রশাসনের ভুল, অন্যায় ও ব্যর্থতার দায়ভার নিতে আমরা কেউই রাজি নই। প্রগতিশীল জোটের অন্যান্য শিক্ষকগণও শীঘ্রই তাদের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করবেন বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. আমির হোসেন খান জানান তিনি এ সম্পর্কে অবগত নন।
এদিকে, শিক্ষক লাঞ্চনাকারী ও ক্যাম্পাসে নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী ড. জি. এম. মনিরুজ্জামানের বহিষ্কারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান ঘন্টাব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি পালন করে প্রগতিশীল শিক্ষক জোট । গত ১৬ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে ড. জি.এম. মনিরুজ্জামান একই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও বাংলা অনুষদের ডিন ড. মো: গোলাম মাওলাকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করার অভিযোগ এনে এ প্রতিবাদ করেন তারা। প্রগতিশীল জোটের সমন্বয়ক দুলাল চন্দ্র নন্দী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর জানানো হয়।
অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদের শিক্ষকেরা গতকালও ভিসি কার্যালয় ও অবরুদ্ধ করে রাখেন। ভিসির দুর্নীতি ও প্রশাসনে জামায়াতীকরণের প্রতিবাদে এ ধারাবাহিক আন্দোলন চলছে বলে জানান বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদের সভাপতি ড. জি এম মনিরুজ্জামান। রোববারের সিন্ডিকেটেও তাদের দাবি আদায়ের কোন সিদ্ধান্ত না হওয়ায় ভিসির পদত্যাগের এক দফা দাবিতে তারা মাঠে নামবেন বলে জানান তিনি। প্রগতিশীল শিক্ষক জোট কর্তৃক তার বহিষ্কারের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, দুই মাস আগের ঘটনা নিয়ে এ দাবি হাস্যকর ও অযৌক্তিক। পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে ও নিজের দুর্নীতি ধামাচাপা দিয়ে আরো কিছুদিন পদ ধরে রাখতে ভিসি ড. আমির হোসেন খানই এ আন্দোলন করাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply