রমজানেও বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়ার বিভিন্ন বাজারে বিষাক্ত ফলের ছড়াছড়ি

সৈয়দ আহাম্মদ লাভলুঃ–

রমজান মাসে ফলের চাহিদা একটু বেশী । ধর্মপ্রান মুসলমানদের প্রত্যাশা সাড়া দিন রোজা রেখে পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ফল দিয়ে ইফতার করা। এখন আর উপজেলার বাজারগুলোতে তরতাজা পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ফল নেই। আগে ফলের উপর মাছি বসে ভন ভন করত। ফল দোকানীরা বিক্রির পাশাপাশি ব্যস্ত থাকত মাছি তাড়াতে। এ দৃশ্যগুলো এখন আর চোখে পড়ে না। ফরমালিন নামক বিসাক্ত রাসায়নিক তরল পদার্থের দাপটে ফলগুলো এখন বিষাক্ত ফলে পরিণত হয়েছে। তাই মাছিরও দেখা মিলে না। বাজারগুলো এখন বিষাক্ত ফলের দখলে। রাসায়নিক দ্রব্য আর ফরমালিন দেদারছে ব্যবহার হচ্ছে ফলে। ‘ফল নয় যেন বিষ’। এই রমজান মাসেও আমরা ফলের নামে বিষ খাচ্ছি। ইফতারে পরিবেশন করা হচ্ছে এসব ফল। খেজুঁর, আম, পেঁপে, কলা, আপেল, মাল্টা আঙুর ও আনারসসহ প্রায় প্রতিটি ফলই এখন বিষাক্ত ফরমালিন ও ক্যামিকেল মাখানো। দ্রুত পাকতে ও পচনরোধে ফলগুলোতে এসব ক্যামিকেল মেশানো হচ্ছে । চলমান রমজান মাসে রোজাদার মুসল্লীদের রাসায়নিক যুক্ত ফল দিয়েই বাধ্য হয়ে ইফতার করতে হচ্ছে। এসব ফল খেয়ে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে রোজাদাররা। এই ক্যামিকেল মিশ্রিত ফলগুলো বিভিন্ন বাজারে দেদারছে বিক্রি হলেও প্রশাসনের নেই তেমন কোন নজরদারি। এসব ফল খেয়ে তাৎক্ষণিক কেউ মারা যায়না ঠিক কিন্তু তিলে তিলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণপাড়া স¦াস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ এমএ জাহের এ প্রতিনিধিকে বলেন, এসব ফল খেয়ে প্রতিনিয়ত বহু রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে। এর মধ্যে বিভিন্ন ধরণের ক্যান্সার, পাকস্থলি প্রদাহ, ফুসফুস সংক্রমক, কিডনি ও লিভারে আক্রান্ত রুগীর সংখ্যা বেশী। বিষাক্ত ফল খেয়ে শিশুরা যেমন মানসিক ও শারীরিকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি মহিলাদের সন্তান ধারণের ক্ষেত্রেও মারাত্মক ঝুঁকির প্রভাব ফেলছে। ক্যামিকেল ও ফরমালিন মিশ্রিত ফল স্বাস্থ্যের বড় ধরনের ক্ষতি করে। এসব ফল খেয়ে লিভার ক্যান্সার, পেটের পীড়া, আইবিএস, এন্ডোসকপি ও কোলোনস্কপি, জন্ডিসসহ মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এ ছাড়া লিভারে পানি জমা , খাদ্যে অরুচি ও পেটের বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে। তিনি বলেন, শুধু এ ধরণের ফলই নয়, মাছসহ শাক সবজিতেও রাসায়নিক মেশানো হচ্ছে। স্বাস্থ্য ভালো রাখতে হলে তিনি কেমিকেল মিশ্রিত ফল, মাছ ও শাক সব্জি বর্জন করা উচিত বলে মনে করেন। মাঝে মধ্যে দু উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালালেও বাজার ছেয়ে আছে বিষাক্ত ফলে। গত ১৯ জুন বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খাঁন উপজেলার বিভিন্ন ফলের দোকানে অভিযান চালিয়ে ফরমালিন সনাক্তকারী যন্ত্রের মাধ্যমে পরীক্ষা করে ফরমালিনযুক্ত ফল বিক্রির অপরাধে ৪টি ফলের আড়তের মালিককে ২১ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। অপরদিকে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান গত ২৪ জুন সকালে উপজেলার বিভিন্ন ফলের দোকানে অভিযান চালিয়ে ফরমালিযুক্ত ফল বিক্রির অপরাধে ৫টি ফলের আড়তের মালিককে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। ফরমালিনযুক্ত ফল গাড়ীর নীচে ফেলে পিষ্ট করা হয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় এরপরও ফরমালিনযুক্ত ফল বিক্রি বন্ধ করেনি কিছু সংখ্যক অসাধু ব্যাবসায়ী। এব্যাপারে এলাকার সচেতন মহল প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply