সংসদীয় আসনে সীমানা পুননির্ধারণ : নাঙ্গলকোট বাসীর ক্ষোভ-দায়ী করেন লিটন ও কালুকে

জামাল উদ্দিন স্বপন, কুমিল্লা প্রতিনিধি :—
স্বতন্ত্র আসনের আশায় যখন নাঙ্গলকোট আশায় বুক বেঁধেছে ঠিক সেই মুহূর্তে নির্বাচন কমিশনের সীমানা পুননির্ধারনের গেজেট প্রকাশ পাওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশ হয়ে পড়ছে তারা। এ জন্য এলাকাবাসী দায়ী করেন উপজেলা আ’লীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান লিটন ও উপজেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক পৌর মেয়র সামছুদ্দিন কালুকে। অবহেলিত চৌদ্দগ্রামের আংশিক ও লাকসামের আংশিক নিয়ে ১৯৮১ সালে নাঙ্গলকোট উপজেলা গঠিত হয়। পুরো উপজেলা নিয়ে একটি স্বতন্ত্র সংসদীয় আসন। এ আসনে ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির এম পি নির্বাচিত হন ওমর আহমেদ মজুমদার। ১৯৮৮ সনে আবার তিনি। ১৯৯১ সালে বিএনপি থেকে ডা: কামরুজ্জামান ১৯৯৬ সালে আ’লীগের জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া এবং ২০০১ সালে বিএনপির আবদুল গফুর ভূঁইয়া। শুরু হয় উন্নয়নের ধারা। এ ধারা অব্যহত থাকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত। যেখানে রিক্সা চলাচলের রাস্তা ছিল না কিন্তু এখন একাধিক পাকা রাস্তা হওয়ায় মানুষের জীবন যাত্রার মান বৃদ্ধি পেয়েছে। নাঙ্গলকোট কে অনেকটা সেমি টাউন বলা চলে। উপজেলা সদরে জমির দাম কয়েক’শ গুন বৃদ্ধি পেয়ে অনেক গরীব এখন বিত্তশালীতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু ২০০৮ সালের সাংসদ নির্বাচনের পর আবার আসে ৮০‘র দশকের আগের সেই খড়গ। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আসন পুনর্বিন্যাসে কুমিল্লা সদর দক্ষিনের ছয়টি ইউনিয়ন সম্পৃক্ত করে সংসদীয় সীমানা বড় করা হয়। সীমানা দৈর্ঘ্য প্রস্থে প্রায় ৭০ কি.মি লম্বা হয়ে যায়। আর সাংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আ’লীগের আ.হ.ম মুস্তফা কামাল লোটাস। একদিকে তিনি এলাকায় যান না অপরদিকে এলাকার উন্নয়ন নিয়ে মাথা ঘামান না। তিনি দায়িত্ব দিয়েছেন তারই পি এস রতন কে। এছাড়া নাঙ্গলকোটের কতেক আ’লীগ নেতাকেও দায়িত্ব দেন। কিন্তু দায়িত্ব পাওয়া স্থানীয় নেতারা নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত। ফলে উন্নয়ন বঞ্চিত নাঙ্গলকোট বাসী সংগঠিত হয়ে আবার স্বতন্ত্র আসনের দাবী তোলেন। তারা বর্ষীয়ান নেতা সাবেক চেয়ারম্যান ছাদেক হোসেনকে আহবায়ক করে নির্বাচন কমিশন বরাবরে স্মারক লিপি প্রদান করেন।
সে আলোকে নির্বাচন কমিশনের খসড়া গেজেট প্রকাশিত হয়। সেখানে নাঙ্গলকোট উপজেলাকে স্বতন্ত্র আসন হিসেবে উল্লেখ করা হয়। খুশীতে এলাকাবাসী একে অপরকে মিষ্টি খাওয়াইয়া আনন্দ উল্লাস ভাগাভাগি করেন। নাঙ্গলকোটবাসী লোটাস কামালের অধ্যায় থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। কিন্তু তাদের সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে দেয়নি কতেক কুচক্রী মহল।
এলাকাবাসী জানায় আ’লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক দলীয় প্যাডে নির্বাচন কমিশনের খসড়া গেজেটের বিষয়ে মতামত নিয়ে উপজেলা আওয়ামী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর পত্র প্রেরন করলে তারা সেটা গোপন রাখে। নেতাকর্মীদের অবহিত করেনি। এরই সুযোগে লোটাস কামাল তার ছয় ইউনিয়নের কয়েক ব্যক্তি দিয়ে নির্বাচন কমিশনের খসড়া গেজেটে আপত্তি জানিয়ে আপিল দায়ের করে।
তৎসময়ে আসন ও মনোনয়ন এ নিয়ে গত ১১মে নাঙ্গলকোট হ্যালিপ্যাড মাঠে মত বিনিময় সভা করে। সে সভায় মোস্তাফিজুর রহমান লিটন ও সামছুদ্দিন কালু সদর দক্ষিনের ছয় ইউনিয়নের সাথে একত্রে থাকার একমত পোষন করে। সাধারন সম্পাদক সামছুদ্দিন কালু তার দীর্ঘ দেড় ঘন্টার বক্তৃতা শুধু লোটাস কামালকে তৈল মেরে কথা বলেন। তিনি তার বক্তৃতা নাঙ্গলকোটের যারা মনোনয়ন চান তাদেরকে অবমূল্যায়ন করে স্বপ্ন স্বপ্নদোষে পরিণত হওয়ার কথা বলেন। কালু’র বক্তব্যে অসুন্তুষ্টি প্রকাশ করে এলাকাবাসী বলেন, আসন স্বতন্ত্র হলে আপাতত তার কোন লাভ নেই। তিনি মনে করেছেন পৃথক হলে আ’লীগের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে সালাহ্উদ্দিন আহমেদ অথবা উপজেলা চেয়ারম্যান শাহ্জাহান মজুমদার নতুবা বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম। কালু’র ধারনা আসন যেভাবে আছে সেভাবে থাকলে আ’লীগের মনোনয়ন পাবেন লোটাস কামাল। আর শত চেষ্টা করেও তিনি পাস করতে পারবে না। আর যখন পাস করবে না তখন একদিনের জন্যও নাঙ্গলকোটে যাবে না। তখন কর্মীদের মাঝে নেতার শূন্যতা দেখা দিবে তখনই কালু সুযোগ নিবে। এ কারনেই তিনি স্বতন্ত্রের পক্ষে নেই। এছাড়া আ’লীগের প্রতি তার আন্তরিকতার অভাব রয়েছে। এক সময়ে তিনি জাতীয় পার্টির উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। গত দফায়ে আ’লীগ ক্ষমতায় আসীন হলে অর্থাৎ ১৯৯৭ সালে জাতীয় পার্টি ত্যাগ করে সরকার দলে যোগ দেন। পরবর্তীতে লালমাই পাহাড়ে বিতর্কিত কাউন্সিলে প্রার্থী হয়ে দলের সাধারন সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন। দীর্ঘ আট বৎসর সম্মেলন নাই এ কারনে তিনি এখনো এ দায়িত্বে রয়েছেন। সুযোগ পেলে আবারো দল পরিবর্তনের ডিগবাজী দিতে পারেন। আর সভাপতি মোস্তাফিজুর লিটন পৈতৃক সূত্রে কুমিল্লায় সেটেল। উড়ে এসে জুড়ে বসে সেই বিতর্কিত কাউন্সিলে সভাপতির দায়িত্ব পান। নাঙ্গলকোট আ’লীগে নুন্যতম অবদান নাই। অগঠনতান্ত্রিক পদ্ধতির সুযোগে সভাপতি পদ পান। অথচ এর আগে তিনি বঙ্গবন্ধুর খুনী ফারুক-রশিদের ফ্রিডম পার্টি করতেন বলে এলাকাবাসী বলাবলি করেন। প্রায় কুমিল্লা থাকেন এবং নাঙ্গলকোটে আসা যাওয়া কম এ কারণেই নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বতন্ত্র আসন হউক তা তিনি চাননি।
অন্যদিকে খসড়া গেজেট দেখা গেছে কুমিল্লা সদর দক্ষিন উপজেলা পুরোটা বরুড়ার সাথে একত্রিত করে আসন নির্ধারিত হয়। ভৌগোলিক সীমারেখা সহবস্থান। কিন্তু বরুড়াতে আ’লীগ ও বিএনপি’র কিছু জাদবেল নেতা থাকায় বিএনপি নেতা মনিরুল হক চৌধুরী ও আ’লীগের লোটাস কামাল ভবিষ্যৎ অন্ধাকার দেখে সাফ-নেউল একসাথ হয়ে যায়। দু’জনেই চেষ্টা করেন সদর দক্ষিনের সাথে নাঙ্গলকোটকে সম্পৃক্ত করার। ফলে সেটাই বাস্তবায়ন হয়ে গেজেট প্রকাশিত হয়। অথচ মানচিত্রে দেখা যায় সদর দক্ষিন উপজেলার সাথে রয়েছে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের ৯টি ওয়ার্ড, যার দূরত্ব নাঙ্গলকোটের সাথে প্রায় শত কি.মি চেয়ে বেশি। চিত্রে আরো দেখা যায় নাঙ্গলকোটের পূর্বে সীমানায় চৌদ্দগ্রাম, ফেনী জেলার দাগনভূঁইয়া- দক্ষিনে নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলা- পশ্চিমে সোনাইমুড়ী, মনোহরগঞ্জ ও লাকসামের আংশিক উত্তরে লাকসামের বাকী অংশ তারপরে সদর দক্ষিন উপজেলা। নাঙ্গলকোটের সাথে জেলার ভৌগোলিক সীমা রেখা মিলে মনোহরগঞ্জ লাকসাম এবং চৌদ্দগ্রাম। সদর দক্ষিনের সাথে কোন ভাবেই মিলে না। যার ফলে নাঙ্গলকোটবাসী কোনভাবেই এই সীমানা নির্ধারন মেনে নিতে পারছেন না। তারা এ নিয়ে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নচেৎ যে অবহেলিত সেই অবহেলিত রয়ে যাবে। পাশাপাশি নাঙ্গলকোটের জনগন নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি পুনবিবেচনার অনুরোধ জানাচ্ছেন। একাধিক সূত্রে জানা গেছে তারা আইনের দ্বারস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর এসকল বিড়ম্বনার জন্য বেশীর ভাগ দায়ী করেন নাঙ্গলকোট উপজেলা আ’লীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান লিটন ও সেক্রেটারী সামছুদ্দিন কালুকে। ইতিহাস যেমনি করে কাউকে ক্ষমা করে না তেমনি করে হয়ত তারাও ক্ষমা পাবে না। এ মন্তব্য করেন অনেকেই।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply