অদ্ভূত উটের পিঠে চলছে কুবি

রাসেল মাহমুদ কুবি থেকে :–

শিরোনামটি বাংলা সাহিত্যের সনাম ধন্য কবি শামসুর রহমানের কাব্য গ্রন্থ থেকে ধার করা হলেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ক্ষেত্রে শিরোনামটি শতভাগ প্রযোজ্য। চলতি বছর ধরেই বিভিন্ন কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত হয়েছে বারবার। সাংবিধানিক ভাবে রাজনীতি মুক্ত এ ক্যাম্পাসে ছাত্রদের পাশা-পাশি সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন শিক্ষকেরাও। মুজিবীয় আদর্শে অনুপ্রাণিত শিক্ষকবৃন্দ বঙ্গবন্ধু পরিষদ গঠনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক রাজনীতি শুরু করেন। এর পর প্রগতিশীল শিক্ষক জোট সহ শিক্ষক সমিতির নির্বাচনও হয় ঢাক-ডোল পিটিয়ে। সব কিছু ভালই চলছিল, কিন্তু হঠাৎ করেই চলতি বছরের শুরু থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকে। সর্বশেষ গত ৯ জুলাই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আবার অস্থিতিশীল হয়ে পরে।

অনিয়ম,দুর্নীতি, নিয়োগ বাণিজ্য, স্বেচ্ছাচারিতা, অবৈধ পদোন্নতি সহ ১৩ দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আমির হোসেন খানকে ৯ জুলাই তাঁর কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু পরিষদ কর্তৃক অবরুদ্ধ করে রাখার মাধ্যমে এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। উক্ত অভিযোগের ভিত্তিতে আজ বুধবারও কুবি ভিসিকে অবরুদ্ধ করে রাখে আন্দোলনরত শিক্ষকেরা। তবে আন্দোলন চলাকালীন সময় বিকাল তিনটার দিকে উপাচার্য অসুস্থ হয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ শিক্ষকবৃন্দ মানবিক দিক বিবেচনা করে উপাচার্যকে বিশ্রামের জন্য তাঁর বাস ভবনে পাঠায়।

আন্দোলনরত শিক্ষকেরা গণমাধ্যমকে অভিযোগ করে বলেন, একটি মহল ভিসি স্যারের সকল দুর্নীতি গোপন করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। তারা এসব ষড়যন্ত্র দৃঢ় ভাবে মোকাবেলা করবেন বলেও গণমাধ্যমের কাছে বলেন। অসুস্থ উপাচার্যকে অফিসিয়াল কোন কাজ করতে দেওয়া হবেনা বলেও জানান তারা।

বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি ও বাংলা বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ড. জি এম মনিরুজ্জামান বলেন, আমরা চিকিৎসকের পরামর্শে অসুস্থ উপাচার্যকে বিশ্রামের জন্য তার বাসভবনে পাঠিয়েছি তবে তাঁকে কোন প্রশাসনিক কাজ করতে দেওয়া হবেনা। দুর্নীতি-অনিয়মের দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে।
এ আন্দোলনে শিক্ষক সমিতি সমর্থন দেবে কিনা জানতে চাওয়া হলে সমিতির সভাপতি ড. মুহম্মদ আহসান উল্লাহ বলেন, শিক্ষক সমিতি আগামী ১৬ তারিখ কার্যকরী পরিষদের মিটিং শেষে তাদের সিদ্ধান্ত জানাবে।
শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. এ কে এম রায়হান উদ্দিন বলেন, এ আন্দোলনের সাথে শিক্ষক সমিতির কোন সমর্থন নেই।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল দুর্নীতি-অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করেছে প্রগতিশীল শিক্ষক জোট। মানববন্ধন শেষে জোটের নেতারা দাবি করেন এখন যাঁরা আন্দোলনের নামে শিক্ষা-কার্যক্রমকে বাঁধাগ্রস্থ করছে তাঁরাই এক সময় দুর্নীতির হোতা ছিল। দুর্নীতিমুক্ত একটি সুন্দর ক্যাম্পাস পাওয়ার আশাও ব্যক্ত করেন তাঁরা।
অসুস্থতার কারণে উপাচার্য ড.আমির হোসেন খানের কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply