মুরাদনগরের রামচন্দ্রপুর বাজারে নৌকা বেচা-কেনার বিশাল হাট

মো: মোশাররফ হোসেন মনির, মুরাদনগর :–
বর্ষার শুরুতেই মুরাদনগর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ও ডুমুরিয়া বাজারে এখন স্থানীয়ভাবে তৈরি করে নৌকা বিক্রির অনেকটা ধুম পড়েছে। কোষা নৌকা হাটের জন্য বড় বাজার হিসাবে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার রামচন্দ্রপুর বাজার বেশ প্রসিদ্ধ।
মুরাদনগরসহ পার্শ্ববর্তী হোমনা, মেঘনা,দাউদকান্দি,তিতাস, বাঞ্চারামপুর ও নবীনগর উপজেলার ভাটি অঞ্চলের মানুষদের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এই কোষা নৌকা। কৃষকেরা গবাদি পশুর জন্য ঘাস কাটা ছাড়াও দৈনন্দিন নানা রকম কাজকর্মে এই কোষা নৌকা ব্যবহার করে থাকে। বর্ষায় এই কোষা নৌকায় পন্যদ্রব্য সাজিয়ে ফেরিওয়ালারা তাদের বিভিন্ন পণ্য নিয়ে গ্রামে গ্রামে ফেরি করে বেড়ায়। তাছাড়া বর্ষাকালে রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে গেলে গ্রাম্য বাজার করা এই কোষা নৌকাই যাতায়াতের সহজ মাধ্যম। সড়ক পথে আধুনিক যানবাহনে মানুষের যোগাযোগ বাড়লেও জল পথে কোষা নৌকার চাহিদার কোন কমতি নেই। উপজেলার কৈজুরী, পাঁচকিত্তা ও তিতাস উপজেলার মেলামচর গ্রামের স্থানীয় ছুঁতোররা এখন দিনরাত কোষা নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত।
কৈজুরী গ্রামের ছুঁতোর নৌকা বিক্রেতা স্বপন কুমার সরকার জানান, গত বারের তুলনায় কাঠের দাম বেশি হওয়ায় এবার নৌকার গড় পড়তা মূল্য একটু বেশি পড়ছে। দৈর্ঘ্যে সাড়ে ১২ হাত প্রস্থে সোয়া দুই হাতের মাপের একটি কড়ই কাঠের কোষা নৌকার দাম বিক্রেতারাূ ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা হাকাচ্ছেন। ক্রেতা সাধারণেরা এবার কোষা নৌকার দাম চড়া বলে হিমশিম খাচ্ছেন। অনেকটা নিরুপায় হয়েই ক্রেতা সাধারণ এবার চড়া দামে স্থানীয় বাজার থেকে কোষা নৌকা কিনে নিচ্ছেন। বর্ষাকালে নদীতে পাল তোলা নৌকা চোখে কম পড়লেও কোষা নৌকা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য এ্খনো ধরে রেখেছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply