সকল জল্পনা কল্পনার অবসান : তিতাস-হোমনা নিয়েই কুমিল্লা-২ সংসদীয় আসন

নাজমুল করিম ফারুক, তিতাস :–

তিতাস-হোমনা উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা-২ সংসদীয় আসন বহাল রাখায় অবশেষে সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটলো।
২০০৪ সালের ২২ ফেব্র“য়ারি একনে সভায় সিদ্ধানে বাস্তবায়িত হয় দাউদকান্দি উত্তরাঞ্চল নামে পরিচিত ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে তিতাস উপজেলা। ২০০৮ সালের ২৯ এপ্রিল স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত নির্বাচন কমিশন নবগঠিত তিতাস ও হোমনা উপজেলা সমন্বয়ে কুমিল্লা-২ নির্বাচনী এলাকা পুনঃনির্ধারণ করেন। এতে সিংহভাগ জনগোষ্ঠী আনন্দিত ও উৎফুল্লিত হলেও একটি মহল তখন নির্বাচন কমিশনের এ সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে লিখিত আপত্তি জানায়। ২০০৮ সালের ২২ জুন কুমিল্লা সার্কিট হাউসে আপত্তি শুনানী শেষে নির্বাচন কমিশন তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকলে তথাকথিত ঐ মহলের অপচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। কিন্তু তাদের নীলনক্সা বাস্তবায়নের তারা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ থেকে যায়। সুযোগ বুঝে এবারও তারা মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। তিতাসকে দাউদকান্দির সাথে একত্রীভূত করে নির্বাচনী এলাকা পুনর্বিন্যাসে নির্বাচন কমিশনে ৫০টিরও বেশি আবেদন জমা দেয়। সচেতন জনগোষ্ঠীর নাম ভাঙ্গিয়ে পোস্টার ছাপানো হয়। বিষয়টি তখন টক অব দি তিতাসে পরিণত হয়। সর্বত্র প্রতিবাদের ঝড় উঠে এবং পাষ্পরিক আলোচনায় এ ঘটনার প্রতি নিন্দা জ্ঞাপন করে তিতাস-হোমনা উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা-২ বহাল রাখার পক্ষে পাল্টা আবেদন ও পোস্টার ছাপানো হয়। নির্বাচন কমিশনে জমা পড়ে পক্ষে বিপক্ষে শত শত জনগনের স্বাক্ষর সম্বলিত প্রায় শতাধিক আবেদন। চলে পাল্টা-পাল্টি সংবাদ সম্মেলন, সমাবেশ, মানব বন্দনসহ বিভিন্ন কর্মসূচী। অবশেষে গত ৩ জুলাই বিকালে নির্বাচন কমিশন সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটান। কুমিল্লা-৬, ৭, ৮ ও ১০ আসনে ব্যাপক পরিবর্তন আনলেও কুমিল্লা-১ ও ২ এর উপর কোন প্রভাব পড়েনি। তাই ২০০৮ সালের সিদ্ধান্ত মোতাবেক দাউদকান্দি-মেঘনা নিয়ে কুমিল্লা-১ এবং তিতাস-হোমনা নিয়ে কুমিল্লা-২ নির্বাচনী এলাকা বহাল রইল।
এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান পারভেজ হোসেন সরকার বলেন, তিতাস উপজেলা প্রতিষ্ঠায় স্বকীয়তা ও আত্মনির্ভরশীলতার পথ উম্মুক্ত হলেও নির্বাচন কমিশন কুমিল্লা-২ নির্বাচনী এলাকা বহাল রাখায় সকল জনপ্রতিনিধি ও সচেতন জনগোষ্ঠীর চুড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়েছে। উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মুন্সি মজিবুর রহমান বলেন, তিতাস ও হোমনা উপজেলাকে নিয়ে কুমিল্লা-২ নির্বাচনী এলাকা বহাল রাখায় তিতাসে নেতৃত্ব বিকাশের পথ সুগম হয়েছে। সাপ্তাহিক কালপুরুষ সম্পাদক মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ভূঁঞা বলেন, তিতাস-হোমনার সমন্বয়ে কুমিল্লা-২ নির্বাচনী এলাকা বহাল থাকায় জনগণের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটেছে। তিতাস উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আবদুল লতিফ বলেন, হোমনা ও তিতাসকে নিয়ে কুমিল্লা-২ নির্বাচনী এলাকার বর্তমান রায় ইসির সময়োপযোগী ও গণমুখী সিদ্ধান্ত। উপজেলা বিএনপির সভাপতি মনিরুল হক তপন ভূঁইয়া বলেন, হোমনা ও তিতাস উপজেলাকে একত্রিভূত করে কুমিল্লা-২ নির্বাচনী এলাকা বহাল রাখায় সাধারণ জনগণ ভীষণ খুশি হয়েছে। উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য সচিব মো. মহসীন ভূঁইয়া বলেন, তিতাস-হোমনাকে নিয়ে কুমিল্লা-২ আসন বহাল রাখা জনগণের দাবী ছিল তাই জনগণের বিজয় হয়েছে। গাজীপুর খান মডেল হাইস্কুল এন্ড কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন আহমেদ বলেন, সংসদীয় আসনের সীমানা বহাল রাখার ফলে তিতাসবাসীর লালিত স্বপ্ন পুনরায় বাস্তবায়িত হলো।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply