দুবাই জয় করা আবদুল হালিমের বাড়িতে এখন খুশির বান বইছে

শাহিন জামান, বরুড়া:–
সততা দিয়ে দুবাই জয় করা আবদুল হালিমের কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার কালিঞ্জিপাড়া গ্রামের বাড়িতে এখন খুশির বান বইছে। গ্রামবাসীসহ বিভিন্ন এলাকার লোকজন আসছেন আবদুল হালিমের সততার গল্প শুনতে। এনিয়ে খুশির অন্ত নেই আবদুল হালিমের বাবা মনু মিয়া, মা শ্যামলা বেগম ও স্ত্রী কোহিনুর আক্তার আঁখির। যারা আসেন তাদের সবাইকেই হাসি মুখে বরণ করেন আবদুল হালিমের পরিবার। হালিমেরা ২ ভাই ৩বোন। বড় ভাই আবদুল করিম সৌদি প্রবাসী। বোনদের বিয়ে হয়ে গেছে। ১৯৯৮ সালে এসএসসি পাশ করা আবদুল হালিম ঢাকা কলেজ থেকে বিকম পাশ করেন। কর্মজীবনে প্রথমে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে যোগ দেন আবদুল হালিম। পরে বাড়তি আয়ের চিন্তায় ৩বছর আগে দুবাই পাড়ি জমান। কুমিল্লা কোটবাড়ি এলাকায় বিয়ে করেন ১০ বছর পূর্বে। তার আজমাহিন নামের ৬ বছরের ছেলে এবং ছামিহা জারিন নামের ৩ বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। মাস্টার্স পরীক্ষার্থী স্ত্রী কোহিনুর আক্তার আঁখি জানান,বাংলাদেশী টাকায় প্রায় আড়াই কোটি টাকার দিরহাম ও অলংকার পেয়ে ২৫মে রাত ১১টায় আমাকে ফোন দেয় আবদুল হালিম। দাম্পত্য জীবনের প্রথম থেকেই আবদুল হালিমকে সৎ মানুষ হিসেবে দেখে এসেছি। তার এ কৃতিত্বে স্ত্রী হিসেবে আমি আনন্দিত। কোহিনুর আক্তার আঁখি জানান, সেদিনের ঘটনা। আব্দুল হালিম দুবাইয়ের রোড অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (আরটিএ) অধীনে চাকরি করেন। ২৫ মে সকালবেলা ট্যাক্সি নিয়ে বের হন, বিকেলে আরেকজন চালকের হাতে ট্যাক্সি বুঝিয়ে দিয়ে তাঁর ছুটি। সেদিন ১১টা নাগাদ দুবাইয়ের জেএলটি এলাকার আলমাস টাওয়ারের সামনে থেকে আব্দুল হালিমের ট্যাক্সিতে উঠলেন দুজন মিসরীয় ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে থাকা ব্যাগ রাখেন গাড়ির পেছনের ডালার ভেতরে। গন্তব্য গোল্ড সোউক। আধঘণ্টার যাত্রাপথ। সাড়ে ১১টা নাগাদ যাত্রী দুজনকে নির্ধারিত স্থানে নামিয়ে দিয়ে হালিম নিজের পথ ধরলেন। সারা দিন আরও অনেক যাত্রী হালিমের ট্যাক্সিতে উঠলেন এবং নামলেন। যথারীতি বিকেল চারটায় ডিউটি শেষ হলো। গাড়ি ঠিকঠাক বুঝিয়ে দেবেন বলে শেষবারের মতো গাড়ির সবকিছু দেখে নিচ্ছিলেন হালিম। দেখলেন, বাদামি রঙের একটি চামড়ার ব্যাগ। হালিম ব্যাগ খুললেন। দেখলেন ব্যাগভর্তি চকচকে ৫০০ দিরহামের বান্ডিল, সঙ্গে বেশ কিছু হীরার গয়না আর দামি ঘড়ি! হালিম ভাবলেন যাঁর জিনিস তাঁকে ফেরত দেওয়া দরকার, এতক্ষণে তিনি হয়তো চিন্তা করছেন। হালিম সঙ্গে সঙ্গে আরটিএতে তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ফোন করলেন। তিনি দ্রুত ব্যাগটা কাছাকাছি কোনো থানায় পৌঁছে দিতে বললেন। হালিম ব্যাগসহ সবকিছু থানায় পৌঁছে দিলেন। থানায় বসেই তাঁরা গণনা করলেন। একটা নোটও এদিক-ওদিক হয়নি। সব মিলিয়ে নগদ দুই লাখ দিরহাম, আর প্রায় ১০ লাখ দিরহাম সমমূল্যের স্বর্ণালংকার ছিল ব্যাগের ভেতরে। সবকিছু ফেরত পেয়ে ব্যাগের মালিক বিস্মিত! হালিমকে সততার পুরস্কার দিয়েছে আরটিএ কর্তৃপক্ষ। আরটিএর চেয়ারম্যান মাত্তার আল তায়ার নিজ হাতে হালিমের হাতে সনদ তুলে দিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল হালিফ আল রুমাইতি, জাবের আল-বাশার, চিফ ইন্সপেক্টর আবদুল আজিজ আল-সালেমিও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। মাত্তার আল তায়ার দুবাইয়ের পত্রিকাগুলোর কাছে বলেছেন, ‘আমরা তাঁকে (হালিম) নিয়ে খুবই গর্বিত।’ আব্দুল হালিম বললেন, ‘স্যার আমাকে বলেছেন, তুমি বাংলাদেশ সম্পর্কে আমাদের ধারণাই বদলে দিয়েছো।’ বিশ্বের বিভিন্ন পত্রিকায় উঠে এসেছে এই খবর। প্রতিটি খবরেই হালিমের নামের পাশে লেখা একটি শব্দে চোখ আটকে যায় বাংলাদেশি! তার বাবা মনু মিয়া পেশায় একজন ঠিকাদার ও মা শ্যামলা বেগম, তারা জানান, এমন সন্তান জন্ম দিতে পেরে আমরা গর্বিত। সে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply