বেড়েছে অবৈধ ট্রাক্টর চলাচল; ‘সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব ঘটেছে দুর্ঘটনা’

জামাল উদ্দিন স্বপন :–
প্রায় দুই হাজার ট্রাক্টর কুমিল্লার রাস্তাঘাটে দাবড়ে বেড়াচ্ছে। এসব ট্রাক্টরের মাত্র ৫০টির ফিটনেস সার্টিফিকেট রয়েছে। তবে সড়ক-মহাসড়কে চলাচলের জন্য এটিকে কোন ধরনের রুট পারমিট দেয়া হয় না। তারপরও হাজারো ট্রাক্টরের অনিয়ন্ত্রিত চলাচলে কুমিল্লার রাস্তাঘাটের করুণ দশা সৃষ্টি হয়েছে।
বিশেষ করে কুমিল্লা মহানগরসহ সদরের সংস্কার করা রাস্তাগুলো ট্রাক্টরের অবাধ চলাচলের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে। কৃষি উপকরণ হিসেবে বিদেশ থেকে নামমাত্র শুল্ক পরিশোধে দেশে আনা হচ্ছে ট্রাক্টর। এসব ট্রাক্টর ফসলি জমিতে খুব একটা ব্যবহার না দেখা গেলেও পণ্য পরিবহনে দেখা মিলছে সড়কগুলোতে।
অথচ রাস্তায় চলাচলের জন্য বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথারিটি-বিআরটিএ’র কোন অনুমতি নেই কৃষি উপকরণ ট্রাক্টরের। বিশেষ করে ভারত ও চীন থেকে আমদানি করা এসব ট্রাক্টর কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে আমাদের দেশে কৃষি উপকরণ হিসেবে আনা হয়। কৃষকের চাষাবাদের সুবিধার্থে কিস্তিতে কেনার সুযোগও রয়েছে। দুটি উঁচু আকারের চাকাসহ চার চাকার কৃষি উপকরণ ট্রাক্টর ক্রেতারা ডিলার থেকে কিনে নিয়ে আরও দুই চাকার একটি মজবুত বডি তৈরি করে তা চাষাবাদের কাজে ব্যবহৃত অংশের সঙ্গে সংযুক্ত করে ইট, বালু, সিমেন্টসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহনের কাজে ব্যবহার করছে।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথারিটি-বিআরটিএ কুমিল্লার মোটরযান পরিদর্শক মাইদুল ইসলাম বলেন, ‘কুমিল্লা জেলায় প্রায় দুই হাজার ট্রাক্টরের পেছনের অংশে অতিরিক্ত বডি সংযোজন করে সড়ক-মহাসড়কে চলাচল করছে। যা সর্ম্পূণ রূপে অবৈধ। সড়কে চলাচলের জন্য কোন রুট পারমিট দেয়া হয়নি। আর দেয়ারও বিধান নেই। এটা কৃষি উপকরণ। পণ্য বহন করে ট্রাকের মতো বাণিজ্যিক পরিবহনে রূপ নিয়েছে এসব ট্রাক্টর। ট্রাক্টর কৃষি উপকরণ হওয়ায় অন্যান্য পরিবহনের চেয়ে এটির রেজিস্ট্রেশন ফি অত্যন্ত কম নির্ধারণ রয়েছে। ফিটনেসসহ রেজিস্ট্রেশন ফি সর্বসাকুল্যে দুই হাজার টাকা খরচ পড়ে। অথচ এটিকে পণ্যবাহী পরিবহন হিসেবে রাস্তায় নামিয়ে লাখ লাখ টাকা উপার্জন করা হচ্ছে।
মোটরযান পরিদর্শক আরও বলেন, ট্রাক্টরের বড় চাকা দুটি সাধারণ সড়কের জন্য হুমকিস্বরূপ। অহরহ চলাচলে রাস্তাঘাটের ক্ষতি সাধিত হয়। তিনি বলেন, দুই হাজার ট্রাক্টরের মধ্যে মাত্র ৫০টি ট্রাক্টরের ইঞ্জিন ফিটনেস রয়েছে। বাকিগুলো জমিতে ব্যবহারের জন্যও অযোগ্য। কেবল তা-ই নয়, অনেকেই রেজিস্ট্রেশন নবায়ন করছে না। আমরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে এসব অবৈধ যানবাহন ধরার প্রক্রিয়া শুরু করেছি। কুমিল্লার পদুয়ার বাজার লাকসাম-চাঁদপুর সড়ক এলাকার ট্রাক্টর বিক্রয় পরিবেশক মেটাল প্লাসের ম্যানেজার আরিফ বলেন, ‘ট্রাক্টরগুলো সাধারণত কৃষি উপকরণ হিসেবেই আমরা সরকারি নিয়মনীতি মেনে এনে থাকি। লোকজন কিনে নিয়ে কোন কাজে ব্যবহার করছে এটা আমাদের জানার বিষয় নয়’।
কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ নুরুল্লাহ বলেন, ‘নগরীতে ট্রাক্টরের অবাধ চলাচলে রাস্তাঘাটের ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। এদের বেপরোয়া চলাচলে নানাস্থানে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনাও ঘটছে। নগরীতে ট্রাক্টর চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারির কী কী আইন রয়েছে তা দেখে আমরা পদক্ষেপ নেবো’।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply