কুমিল্লা বরুড়ার লতিকচু রপ্তানী হচ্ছে বিশ্ব বাজারে

শাহিন জামান, বরুড়া:–

সবজী হিসেবে লতি কুচু (কুচুর লতি ) অনেকেরই খুব পছন্দ, প্রতিদিন না হলে ও মাঝে মধ্যে লতির ভাজি বা শুটকি দিয়ে লতি রান্না করা তরকারি অনেকের খাবার টেবিলে দেখাযায়। যার ইংরেজী নাম (colocasia esculenta var)|
কুমিল্লার বরুড়ায় গত কয়েক বছর ধরে প্রচুর পরিমানে লতি কচু চাষ হচ্ছে। যাহা স্থানীয় চাহিদা পূরন করে দেশের বিভিন্ন বড় বড় হাট-বাজার গুলোতে বাজার জাত করে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানী করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে চাষীরা। বরুড়া উপজেলা কৃষি সমপ্রসারন অফিস সূত্রে জানা গেছে, এখানে প্রতি বছর প্রায় ৩১০ হেক্টর জমিতে কচু চাষ হয়। প্রতি হেক্টরে উৎপাদন হয় প্রায় ১০ টন অথাৎ প্রতি বছর উপজেলার বিভিন্ন্ হাট বাজারে প্রায় ৩ হাজার ১শত মেট্রিক টন লতিকচু বিক্রি হয়ে থাকে। সরেজমিনে ঘুরে জানাগেছে উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশী লতি চাষ ও উৎপাদন হয়ে থাকে। উপজেলার বাতাইছরি পুরান বাজার, নতুন বাজার, শিকার পুর, জালগাও, দরগারনামা, পদুয়া, ভবানীপুর, মুগুজি, নিচিন্তপুর, চৌমুহনী, সরাপতি এসব হাট বাজার গুলোতে সাপ্তহে ২ দিন এবং গ্রামের রাস্তার উপর প্রতিদিন বিকালে তাদের উৎপাদিত লতি আরৎদার ও ব্যপারীদের নিকট বিক্রি করে। স্থানীয় আরৎদার ও চাষি জহিরুল ইসলাম জানান যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই খারাপ যার ফলে চাষিরা আনেক সময় উপযুক্ত মূল্য পায়না। মৌসুমের প্রথম দিকে ২০/২৮ টাকা দরে লতি কিনতে হয় যাহা ঢাকার কাওরান বাজার, শ্যামবাজার, যাত্রাবাড়ি সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। ঢাকার বাজার গুলোতে যাওয়া পর্যন্ত প্রতি কেজিতে ৩ টাকা করে খরচ হয়। এছাড়া বিশ্বের ২৫ টির বেশি দেশে রপ্তানী করা হয়। তিনি আরও জানান দামের ক্ষেত্রে উৎপাদিত লতি ৩ ভাগে ভাগ করা হয় যেমন লম্বা লতি, মাঝারী লতি, ছোট লতি। যাকে স্থানীয় ভাষায় আয়না লতি বলে। লম্বা লতির দাম কম এবং আয়না লতির দাম সবচেয়ে বেশী। আয়না লতি বেশী বিদেশে রপ্তানী হয়ে থাকে।
উপসহকারী কৃষি আফিসার সিরাজুল ইসলাম জানান এই এলাকায় লতি চাষ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে ওঠছে। আগে অনেকে শখের বশে লতি চাষ করলেও এখন বানিজ্যিক ভাবে চাষ করছেন। প্রতি শতাংশ লতিকচু চাষ করতে কৃষকদের প্রায় ৬ শত টাকা থেকে ৮ শত টাকা খরচ হলেও বছর শেষে বিক্রি আসে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। কচুর চারা লাগানোর ৩ মাস পর ক্ষেত থেকে লতি উত্তলন শুরু হয়, ক্ষেত থেকে প্রতি ১০ থেকে ১৫ দিন পর পর লতি তোলা যায়। প্রতি বছরই নতুন চারা লাগাতে হয়। ফেব্রয়ারী থেকে মে মাস পর্যন্ত লতির ভরা মৌসুম থাকে , বার্ষাকালে ফলন বেশী হলেও দাম কিছুটা কম থাকে। এ সময় এক একটি লতি ৩/৪ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। এখানে ২ জাতের কচু চাষ হয় লতি রাজ ও পানি কচু, লতিরাজ জাতের কচুতে লতি বেশী হয়ে কান্ড একবারেই ছোট হয় যাহা অনেক সময় খাওয়ার উপযুক্ত হয়না, আর পানি কচুর কান্ড বড় হয়। এলাকার চাষী আবদুস সাত্তার জানান, প্রতি বছর প্রায় ৩১০ হেক্টর জমিতে কচু চাষ হয়। প্রতি হেক্টরে উৎপাদন হয় প্রায় ১০ টন অথাৎ প্রতি বছর উপজেলার বিভিন্ন্ হাট বাজারে প্রায় ৩ হাজার ১শত মেট্রিক টন লতিকচু বিক্রি হয়েথাকে। লতি তোলা হয়ে গেলে চাষীরা ওই কচুও বাজাওে বিক্রি করে থাকেন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply