তিতাসের ৫টি গ্রামে খাম্বা বাণিজ্য তুঙ্গে : গ্রাহকের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে ১৫ লাখ টাকা

তিতাস (কুমিল্লা) প্রতিনিধি :–
কুমিল্লার তিতাসের সাতানী ইউনিয়নের ৫টি গ্রামে খাম্বা বসানো বাবদ মিটার প্রতি ৫ হাজার টাকা করে ৩শ গ্রাহকের কাছ থেকে একটি সিন্ডিকেট প্রায় ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে ।
সরেজমিনে উপজেলার বারকাউনিয়া, ফরিদপুর, হরিণপুর, সরস্বতীচর ও চরকুমারীয়া গ্রাম ঘুরে বিভিন্ন লোকজনের সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা বললে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পুরুষ ও মহিলা জানান, প্রত্যান্ত অঞ্চল হওয়ায় দীর্ঘদিন যাবৎ এলাকাবাসী বিদ্যুৎ থেকে বঞ্চিত। অবহেলিত গ্রামগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য বর্তমানে খাম্বা বসানোর কাজ চলছে। একটি সিন্ডিকেট রাস্তার পাশে খাম্বা (বিদ্যুাতের খুঁটি) জমা করে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে যারা মিটার নিতে ইচ্ছুক তাদের তালিকা করে মিটার প্রতি ৫ হাজার টাকা করে এবং গ্রাম থেকে বিচ্ছিন্ন বাড়ীতেগুলোতে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা খাম্বা বসানোর খরচ হিসেবে হাতিয়ে নিচ্ছে। ৫টি গ্রামের প্রায় ৩শ পরিবার থেকে প্রায় ১৫ লাখ আদায় করেছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ তুলেন। এলাকাবাসী অভিযোগে জানা যায়, বারকাউনিয়া গ্রামের যুবরাজ মেম্বারের নেতৃত্বে জলিল মিয়ার ছেলে লিটন মিয়া, গান্ধী মিয়ার ছেলে জাহাঙ্গীর আলম, মালেক মিয়ার ছেলে মনির হোসেন, ফরিদপুর গ্রামের আম্বর আলীর মেম্বারের ছেলে আজিজুর রহমান আজিজের নেতৃত্বে রোস্তম আলীর ছেলে শাহজামান, আমিন উদ্দিনের ছেলে আনিছুর রহমান ও শাহজাহান, ঘরজামাই রাজ মিয়া, হরিণপুর গ্রামের জোগেন্দ দাসের ছেলে সুমন দাস, কুঞ্জ লালের ছেলে সোনাবন্ধু, জাঙ্গাকীলের ছেলে হরিদাস, করিমোহন ভৌমিকের ছেলে অজিত ভৌমিক বাড়ী বাড়ী গিয়ে গত কয়েকদিন যাবৎ টাকা আদায় করছে। বিষয়টি উপজেলা চেয়ারম্যানের নজরে আসলে মাসিক সমন্বয় সভায় আলোচনার প্রেক্ষিতে মাইকিং করে গ্রাহকে টাকা দিতে নিষেধ করা হচ্ছে।
বারকাউনিয়া গ্রামের মেম্বার যুবরাজ জানান, আমাকে জড়িয়ে যে কথা উঠেছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তবে খাম্বা বসানো শ্রমিকদের খাবার ও খাম্বা সরবরাহের গাড়ীর ড্রাইভারকে বিক্শিস দেয়ার জন্য আবদার করলে আমরা গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে গাড়ী প্রতি ৩শ টাকা বক্শিস এবং ২০ জন শ্রমিকদের ৩ বেলা খাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। যার খরচ গ্রামবাসী বহন করবে। ফরিদপুরের মেম্বার মোঃ হাসান জানান, মিটার নিতে ইচ্ছুক প্রতিটি পরিবার থেকে ৪/৫ হাজার টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। সরস্বতীরচরের মেম্বার আঃ বারেক জানান, পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে খাম্বা বসানো বাবদ টাকা আদায় করা হচ্ছে শুনেছি কিন্তু আমার ওয়ার্ডে একধরনের কাছ হচ্ছে না। সাতানী ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন ধন মিয়া জানান, টাকা আদায়ের সত্যতা পাওয়া গেছে। এলাকায় মাইকিং করে টাকা না দিতে জনগণকে নিষেধ করা হচ্ছে। কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ গৌরীপুর জোনাল অফিসের ডিজিএম মোঃ শহীদ উদ্দিন জানান, আমি যতদূর জানি সরকারী উদ্দ্যোগে উক্ত গ্রামগুলোতে বিদ্যুতায়ন করা হচ্ছে এখানে গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা আদায় করা সম্পূর্ণ বেআইনী। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামলী নবী জানান, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে এবং ঘটনার সাথে জড়িত শীঘ্রই তাদের বিরুদ্ধে নোটিশ পাঠানো হবে। উপজেলা চেয়ারম্যান পারভেজ হোসেন সরকার জানান, এলাকার জনগণের দাবীর প্রেক্ষিতেই সরকারী ভাবে বিদ্যুতায়ন করা হচ্ছে। গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা আদায়কারীদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply