লাকসামে শিবির-ছাত্রলীগ সংর্ঘষে পৃথক দুই মামলা: আটক ২

জামাল উদ্দিন স্বপন :–
লাকসাম নওয়াব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজে ছাত্রলীগ-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ ও ছাত্রলীগ কর্তৃক শহরে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুরের ঘটনায় রোববার সকালে ছাত্রশিবির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। অপরদিকে, ছাত্রলীগ কর্মীরাও বিকেলে মিছিল বের করে। সংঘর্ষ ও ভাংচুরের ঘটনায় লাকসাম থানায় পৃথক ২টি মামলা ও ১টি জিডি দায়ের করা হয়েছে।
শনিবার রাতে ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম রাজুর পিতা আবদুল আজিজ বাদী হয়ে এবং ভাংচুরের ঘটনায় শহরের এল.জি বাটার ফ্লাই শো-রুমের ম্যানেজার জহিরুল ইসলাম আকন্দ মামলা দু’টি দায়ের করেন। দু’মামলায় শতাধিক লোককে আসামি করা হয়েছে। অপরদিকে ইসলামী ব্যাংকের এটিএম বুথ ভাংচুরের ঘটনায় লাকসাম থানায় ব্যাংকের ম্যানেজার ছানাউল্যাহ পৃথক একটি জিডি করেছেন।
জানা যায়, ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম রাজুর পিতা আবদুল আজিজ বাদী হয়ে ২০ জন বিএনপি ও ছাত্রশিবির নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং ভাংচুরের ঘটনায় এল.জি বাটার ফ্লাই শোরুমের ম্যানেজার অজ্ঞাতনামা ৬০/৭০ জনকে আসামী করে লাকসাম থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
উল্লেখ্য, শনিবার লাকসাম নওয়াব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজে ছাত্রলীগ ও ছাত্র শিবিরের হাতাহাতির ঘটনায় দুপুরে ও সন্ধ্যায় দৌলতগঞ্জ বাজার, বাইপাসসহ বিভিন্ন স্থানে ১০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়েছে বলে ব্যবসায়ীদের দাবী।
এ ঘটনায় ছাত্রলীগ, ছাত্রশিবির ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। আহতদের লাকসাম ও কুমিল্লার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সন্ধ্যায় ফখরুল ইসলাম নামে এক বিএনপি কর্মীকে ছাত্রলীগ কর্মীরা বেদম পিটুনির খবরে ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা-কর্মীদের মাঝে উত্তেজনা দেখা দেয়।
জানা যায়, কলেজ সভাপতি আবু সাঈদ ওইদিন সকাল ১১টায় কলেজ ক্যাম্পাসে গেলে ছাত্রলীগ নেতা সিহাব তার গায়ে মোটর সাইকেল দিয়ে ধাক্কা দেয়। পরে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে শিবিরের কর্মীদের সাথে ছাত্রলীগের ধাওয়া প্লাটা ধাওয়া হয়।
এ সময় কলেজ ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম রাজু, আবদুল্লাহ আল মাহমুদ সোহেল, ফারুক আহমেদ শাওন, তাসকির শাহরিয়ার জিসান, ওমর ফারুক, পেয়ার আহমেদ সুজন, আনিসুর রহমান সোহেল, জাবেদ আহমেদ অপু, আবদুল মমিন, আবদুল আউয়াল আহত হয়। আহতদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম রাজুর অবস্থা গুরুতর।
অপরদিকে, শিবিরের কলেজ সভাপতি আবু সাঈদ, অর্থ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মচারী মারিয়ম, শাফায়েত, জাহাঙ্গীর, লটন, স্বপ্না আহত হয়।
এ ঘটনার পর পর বিক্ষুদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা বাইপাসস্থ ইসলামী ব্যাংকের এটিএম বুথের ১ কোটি, এল.জি বাটার ফ্লাই শো-রুমের ৩ লাখ ৩০ হাজার, লাকসাম ডায়াগনষ্টিক সেন্টার এন্ড হসপিটালের ফার্মেসির নগদ ২৫ হাজারসহ ২৫ লাখ, ইউনাইটেড মটরস ২০ হাজার, লাকসাম ক্যামব্রিয়ান স্কুল এন্ড কলেজের প্রশাসনিক কার্যালয় ৫০ হাজার, নোয়াখালী রোডস্থ আলী টিম্বারর্স নগদ ২৫ হাজারসহ ৫০ হাজার, প্রত্যাশা বিজনেস ও প্রত্যাশা মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ কার্যালয়ের নগদ আড়াই লাখসহ ৪ লাখ, মেঘনা স্টিল, পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের ওয়াল্ড কমিউনিকেশনের নগদ টাকাসহ ২ লাখ টাকার মালামালসহ প্রায় ১০টি প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাংচুরে অন্তত দেড় কোটি টাকার ক্ষতি সাধন করে।
এ সময় কলেজ মসজিদের কাঁচ ও পার্শ্ববর্তী মেসে হামলা চালিয়ে শিবির কর্মীদের ল্যাপটপ, মোবাইল সেট লুটসহ আগুন দেয়া হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

এ ব্যাপারে লাকসাম থানার ওসি মোঃ আবুল খায়ের জানান, সংঘর্ষ ও ভাংচুরের ঘটনায় থানায় ২টি মামলা ও একটি জিডি হয়েছে। এ ঘটনায় ১ শিবির কর্মী ও পূর্বের মামলায় ১ জামায়াত কর্মীকে আটক করে কোর্টে চালান দেয়া হয়েছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply