জোয়ার নয়, সরকারের ভাটার টান শুরু হয়েছে —-কাজী জাফর

জামাল উদ্দিন স্বপন: —
জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমেদ বলেছেন, দেশ ও জাতি আজ একটি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে। সম্প্রতি চারটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে শাসকদলের শোচনীয় পরাজয়ের মধ্যদিয়ে এই পট পরিবর্তনের একটি প্রামাণ্যচিত্রই ফুটে উঠেছে।
সরকারের জন্য এখন কোন সংবাদ আশার সম্ভাবনা দিন দিন ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে। এখন দু:সংবাদের পালা শুরু হয়েছে। এ বাংলাদেশে রাজনীতিতে সবসময় জোয়ার-ভাটার খেলাই চলে।
তিনি রবিবার বিকেলে চৌদ্দগ্রামের জগন্নাথ দীঘি ইউনিয়ন জাতীয় পার্টি আয়োজিত গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
চৌধুরী বাজারস্থ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সামনে ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সভাপতি মোহাম্মদ হোসেনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জাতীয় পার্টির চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সাধারণ সম্পাদক সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবুল কাশেম, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল্লা চৌধুরী পাশার, উপজেলা যুবসংহতির সভাপতি মনিরুল ইসলাম, শ্রমিক পার্টি নেতা রফিকুল ইসলাম মিয়াজী, গুনবতী ইউনিয়ন সভাপতি এয়াকুব ভেন্ডার, উজিরপুর ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক এরশাদ উল্যাহ, চিওড়া ইউনিয়ন সভাপতি খবির আহম্দে মজুমদার প্রমুখ। এসময় অন্যান্যের মাঝে আরো উপস্থিত ছিলেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আফজালুর রহমান কামাল, বাতিসা ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক নজির আহমেদ, সাইফুল মেম্বার, হাফেজ নজির আহমেদ, উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মাও. মাহবুবুল হক, আবুল কালাম মেম্বার, কাজী শহিদ, জাপা নেতা আবদুল জলিল মিয়াজী, জালাল মজুমদার, যুবনেতা ওবায়দুল হক ও আলী আকবর প্রমুখ।
কাজী জাফর আরো বলেন, এখন মাথা গরম না করে ঠান্ডা মাথায় সমস্ত পরিস্থিতি বিবেচনা করে সুস্থির রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। ভেবে দেখতে হবে যে এরশাদের সমর্থনে সাড়ে চার বছর আগে এত বিশাল বিজয় অর্জন করা সম্ভব হয়েছিল সেই জাতীয় পার্টিকে এবং এরশাদকে কেন অবমূল্যায়ন করে হয়েছিল?
কেন দূর্নীতির মূলোচ্ছেদ করার কথা নির্বাচনী মেনোফেষ্টোতে সরবে ঘোষিত ওউচ্চারণরিত হওয়ার পরও কেমন করে শুরু হলো দূর্নীতির মহোৎসব? দূর্নীতি দমন না করে দূর্নীতিবাজদের প্রশয় কেন দেয়া হল? শেয়ার মার্কেটের হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাটের হওয়ার পর ইব্রাহিম খালিদের রির্পোটে বর্ণিত ও সনাক্ত লোপাটকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হলো না কেন? হত্যা,খুন ও গুম বেড়ে চলল কেন?
দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়ার লাগাম কেন টেনে ধরা হলো না? কেন বহু পরিচিত সিন্ডিকেট বেনিয়াদের কঠোর হস্তে দমন করা হলো না? কেন নরম পলিমাটির দেশ এ বাংলাদেশে বিরোধীদলকে দমন করার জন্য আক্রমণাত্মক ভাষায় ও আগ্রাসী ভূমিকা গ্রহণ করা হলো? ইসলামীশক্তি বিশেষ করে হেফাজতে ইসলামের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী দমন করার এমন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলো কেন?
গ্রামে গ্রামে আজ জনগণের মধ্যে বদ্ধমুল ধারণার সৃষ্টি হয়েছে সরকার একদিকে ইসলামের উপর আঘাত করছে অন্যদিকে নাস্তিক মুরতাদরা সরকারের সকল প্রকার সাহায্য ও প্রশয় পাচ্ছে। শাহবাগ চত্তরে নতুন প্রজন্মের নামে একটি বিশেষমহলকে পুলিশ, র‌্যাব’র প্রত্যক্ষ প্রহরায় এবং সরকারী আপ্যায়নের মাধ্যমে ৩ মাস পর্যন্ত অবস্থান ধর্মঘট করতে দেওয়া হলো আর গ্রাম থেকে আসা শান্তিপ্রিয় ওলামায়ে কেরাম তথা হেফাজত ইসলামকে একরাতের জন্য শাপলা চত্তরে অবস্থান করতে দেওয়া হলো না কেন?
সেখানে যৌথবাহিনী গঠন করে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে তাদেরকে বিতাড়িত করা হলো কেন? হতাহতের সংখ্যা সর্ম্পকে যে গুজব গ্রামে গ্রামে রটেছে তার অবসানের জন্য সরকার উচ্চতর বিচার বিভাগীয় তদন্তের ব্যবস্থা করা হলো না কেন?
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ সমস্ত প্রশ্নের উত্তর নিজেই খুঁজে বের করে সমস্যা সমাধানের পথে অগ্রসর হলে ভাটার টান বন্ধ হতে পারে। তবে জোয়ার প্রবাহিত হওয়ার কোন সম্ভাবনা আছে বলে মনে হয় না। আগেও বলেছি এখনো বলতে চাই আগ্রাসী দমন-পিড়ন বন্ধ করে এবং বিরোধী দলের সাথে অর্থবহ সংলাপের মাধ্যমে সমঝোতায় আসুন। নির্বাচন বন্ধ করার চেষ্টা করবেন না। কারণ সে চেষ্টা কখনো সার্থক হবে না বরং নিয়ে আসবে আরো সু-কঠিন ও মর্মান্তিক রাজনৈতিক বিপর্যয়।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply