সিংড়ায় কোরআন বুকে নিয়েও ধর্ষনকারীদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি বউ-শাশুড়ী : ধর্ষকদের জরিমানা দশ হাজার টাকা !

সাইফুল ইসলাম, সিংড়া(নাটোর )প্রতিনিধি:—
নাটোরের সিংড়া উপজেলার সুকাশ ইউনিয়েনের জিয়া পাড়া গ্রামে রাতের আঁধারে কয়েক পাষন্ড যুবক আট মাসের গর্ভবতী এক গৃহবধু ও তার বয়স্ক শাশুড়ীকে গণধর্ষণ করেছে। পাষন্ডদের হাত থেকে বাঁচার জন্য এই গর্ভবতী গৃহবধু ও তার বয়স্ক শাশুড়ী পবিত্র গ্রন্থ আল্ কোরআন বুকে নিয়ে হাত জোর করলেও নরপশুদের মন নরম হয়নি বরং কোরআন শরীফ ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে ওই গৃহবধু ও তার শাশুড়ীকে ঘর থেকে টেনে হিঁচড়ে নির্জন জায়গায় নিয়ে চারজন পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় বিচার প্রক্রিয়াও বন্ধ হয়ে গেছে।
বউ-শাশুড়ীকে গণধর্ষণের ঘটনায় গ্রাম্য শালিসে চার ধর্ষককে দশ হাজার করে টাকা জরিমানা ও প্রত্যেককে একুশটি করে জুতা পেটা করার রায় দেয় গ্রাম প্রধানরা। রায় না মানায় বিচার প্রক্রিয়াও বন্ধ হয়ে গেছে। এ ঘটনায় ওই গৃহবধুর দিনমজুর শশুড় মহসিন আলী স্থানীয় মেম্বার ও চেয়ারম্যানের কাছে বিচার চাইলে তারা মামলা না করে শালিসের মাধ্যমে মিমাংসা করে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে এক সপ্তাহ অতিবাহিত করে। ৮ জুন রাতে ঘটলেও বিভিন্ন অজুহাতে শালিসে বসার কথা থাকলেও প্রভাবশালীদের চাপে তা হতে দেরী হয়। পরে স্থানীয় লোকজনের চাপে ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পর শনিবার সুকাশ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলামকে প্রধান করে ১৭ সদস্যের শালিসী বোর্ড গঠন করা হয়। ধর্ষিতার বাড়িতে বসে ওই বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ধর্ষক চার জনকে দশ হাজার করে টাকা জরিমানা ও প্রত্যেককে ২১টি করে জুতা পেটা করার সিন্ধান্ত হয়। শালিসের ওই সিদ্ধান্ত স্থানীয় জণসাধারণে মনঃপুত না হওয়ায় তারা বিক্ষোভ শুরু করলে এক পর্যায়ে ইউপি চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম ও ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আব্দুল জলিল ঘটনাস্থল ত্যাগ করে দ্রুত সেখান থেকে চলে যান। ধর্ষিতা বউ ও শাশুড়ী সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গেলে তারা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। গৃহকর্তা দিনমজুর মহসিন জানান, ওই দিন দিনমজুরীর কাজে তিনি ও তার ছেলে ছাব্বির (২৪) বগুড়ায় ছিলেন। বাড়িতে তার বৃদ্ধা মা (৭০), ছেলের বউ (২২), তার স্ত্রী দুই মেয়েসহ ঘুমিয়ে ছিলেন। গভীর রাতে পাষন্ডরা মুখোশ পড়ে ঘরের দরজা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে তাদের জাপটে ধরে। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে চারজনের মধ্যে তিনজনের মুখোশ খুলে গেলে তার স্ত্রী ধর্ষক জিয়াপাড়া গ্রামের আনিসুরের ছেলে হাম্বু (২৫), ইউসুফের ছেলে জালাল (৩২ এবং বড় পুকুড়িয়া গ্রামের আফসারের ছেলে আসাদুল (৩০) কে চিনে ফেলেন। মহসিনের বউমা ওদের হাত থেকে বাঁচার জন্য কোরআন শরীফ বুকে নিয়ে অনেক আকুতি মিনতি করে কিন্তু তাতেও তাদের মন গলেনি। ছোট মেয়েকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এক পর্যায়ে তার স্ত্রী ও ছেলের বউকে টেনে হিঁচড়ে নির্জন স্থানে নিয়ে গণধর্ষণ করে। তাদের চিৎকারে লোকজন এগিয়ে গেলে তারা পালিয়ে যায়। পরে বিষয়টি স্থানীয় মেম্বারকে জানালে তিনি বিচারের আশ্বাস দেন। ঘটনার পর ধর্ষকদের লোকজন আপোষের নামে এই দুই বউ-শাশুড়ীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতেও বাঁধা দেয়।
ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল বলেছেন, এ ঘটনায় ভুক্তভুগিরা তার কাছে এসেছিলেন। তিনি উদ্যোগ নিয়ে স্থানীয় ভাবে মীমাংসার জন্য উভয় পক্ষকে শালিসে ডেকে সিদ্ধান্ত দিলে গ্রামবাসী তা মেনে নেয়নি। সুকাশের ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা আজহারুল ইসলাম বলেছেন, শালিস না মানায় আমরা মর্মাহত। সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ এইচ এম ফয়জুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে থানায় কেঊ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply