চৌদ্দগ্রামের সর্বত্র মাদক নিয়ন্ত্রণহীন

জামাল উদ্দিন স্বপন :–
মাদক এক ভয়াবহ মরণ নেশা। সীমান্তবর্তী অধিকাংশ মানুষ কোন না কোন ভাবে মাদকের সাথে জড়িত রয়েছে। মাদক ব্যবসা ও পাচার কাজে যুবক- যুবতী, নারী-পুরুষ, ধনী-গরিব কোন ভেদাভেদ নাই। কিন্তু পাচার কাজে জড়িতরা আটক হলেও ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় রাঘব বোয়ালরা। ফলে মাদক ব্যবসা ও পাচার বন্ধ করা কিছুতেই সম্ভব হচ্ছে না।
চৌদ্দগ্রাম পৌরসভাসহ উপজেলার আলকরা, জগন্নাথদীঘি, চিওড়া, বাতিসা, ঘোলপাশা, কালিকাপুর ও উজিরপুর ইউনিয়ন ভারতীয় সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত। এসব ইউনিয়নের এক তৃতীয়াংশ গ্রাম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পূর্ব পাশে তথা ভারতীয় সীমানার পশ্চিম পাশে রয়েছে। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে স্বাভাবিকভাবে মাদকদ্রব্য ব্যবসা ও পাচার সহজলভ্য হওয়ায় ওই এলাকার অধিকাংশ বেকার যুবক নৈতিক অবক্ষয় ও সঙ্গত কারণে মাদকের সাথে জড়িত পড়ে। কোন কোন ব্যবসায়ী আবার বেকারত্বের সুযোগে যুবকদের মাদক ব্যবসা ও নেশার সাথে জড়িত করে বলেও অনেকে অভিযোগ করেছেন। রাঘব বোয়ালরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকায় খুব কম সময় সীমান্ত এলাকায় আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে মাত্র ২’শ গজ থেকে ৩ কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে ভারতীয় সীমানা। ফলে মাদক ব্যবসায়ীরা উন্নতমানের গাড়ি ব্যবহার করে সহজেই মাদক পাচার করে। কখনো আইনশৃংখলা বাহিনী খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়। সেজন্য চৌদ্দগ্রামের সর্বত্র মাদক নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। গত এক বছরে ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা, রিকোডেক্সসহ প্রায় চৌদ্দগ্রাম সীমান্ত দিয়ে প্রায় বিশ কোটি টাকার মাদক পাচার হয়েছে। আটক হয়েছে ১০ ভাগেরও কম।
অভিযোগ উঠেছে, বিএসএফ ও বিজিবির কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা নিয়মিত মাসোহারা নিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের মাদক পাচার কাজে সহযোগিতা করে। বর্তমানে বিজিবি নির্দিষ্ট ফাঁড়ি সংলগ্ন এলাকায় মাদকের খবর পেলে মাদক ব্যবসায়ীকে অভিযানের পূর্বে আগাম জানিয়ে দিয়ে মাদক সরিয়ে রাখতে বলে। অবশ্য কোম্পানী সদর থেকে বিজিবি গিয়ে মাদক উদ্ধারের ঘটনা এখন রীতিমত লক্ষ্য করা যায়। তবে বিজিবি মাদক ও পাচারকারী ছাড়া কোন ব্যবসায়ীকে আটক করতে পারেনি।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে সীমান্তবর্তী মানুষ জানায়, পুলিশ ও র্যাব মাঝে মাঝে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের আটক করলেও কয়েকদিন পর আদালত থেকে তারা জামিনে বেরিয়ে এসে আবার মাদক ব্যবসা শুরু করে। ফলে সবসময় মাদক ব্যবসায়ীদের দৌরাত্মে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠে।
অভিজ্ঞ মহল জানান, মাদক ব্যবসায়ী ও পাচারকারীদের অভিভাবকরা সচেতন হলে এবং আদালত তাদের জামিনের ব্যাপারে আরো একটু কঠোর হলে মাদক ব্যবসা অনেকাংশে বন্ধ করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে ১০ বিজিবি ব্যাটেলিয়ানের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মামুন আল মাহমুদ জানান, পাচার কাজে দরিদ্র মহিলাদের ব্যবহার করা হচ্ছে এটা ঠিক, বিজিবির মহিলা সদস্য না থাকাই এর মূল কারন। তাছাড়া পাচার কারীরা প্রতিনিয়ত পাচারের নতুন নতুন কৌশল ব্যবহার করে। বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply