আজ বিশ্ব বাবা দিবস

—আবদুর রহমান
আজ রবিবার ১৬ জুন বিশ্ব বাবা দিবস। প্রতিবছর জুন মাসের তৃতীয় রবিবার সারা বিশ্বে পালিত হয় বিশ্ব বাবা দিবস। প্রতি বছর নতুন বাজেট আসে বেড়ে যায় জিনিসপত্রের মূল্য। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাড়ে না উপার্জনক্ষম পরিবারের প্রধান ব্যক্তিটির আয়। তাই হিমশিম খেয়ে নাকাল অবস্থা এখন অনেক বাবার। আজ রবিবার ‘বাবা দিবস’। সাধারণ ওইসব বাবার জন্য শুভেচ্ছা। যারা পরিবার নিয়েও সব দুঃখ ভুলে অমলিন হাসি দিয়ে চালিয়ে নিচ্ছেন তাদের সংসার। বাংলাদেশের পুরুষতান্ত্রিক সমাজে পরিবার নির্ভরশীল বাবার ওপর। প্রতি মাসে পরিবারের ওই বাবাটিকে চলতে হয় বাজেট করে। সংসারে বাজেট করে চলতে সহযোগিতার জন্য শুভেচ্ছা আমাদের বাঙালি মা’দেরকেও; যারা আর্থিক অনটনে থেকেও সন্তান লালন-পালনে বিশেষ ভূমিকা রেখে চলছেন।
বাজেট বলতে আমরা বুঝি আর্থিক হিসাব নিরূপণে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাকে। তা হতে পারে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, দাপ্তরিকসহ রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের। এটা চলে আসছে যুগ-যুগ ধরে। যে-কোনও অর্থ সম্পর্কিত কাজে হাত দিতে গেলেই আগে তার একটি বাজেট করতে হয়। কত টাকা লাগতে পারে, কোন খাতে কত টাকা বরাদ্দ করলে ভালো মতো কাজটি সম্পন্ন হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রথম ৭৮৬ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়। এরপর জনসংখ্যা যেমন বেড়েছে, বেড়েছে জীবনযাত্রার মান, আর কমেছে টাকার দাম। স্বাধীনতার ৪২ বছর পর এ বছরের বাজেটটি তাই টাকার অঙ্কে পাহাড় সমান। ২ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকার এ বিশাল বাজেটটিকে তাই সবাই বলছে উচ্চাভিলাষী। তবে বাজেট নিয়ে সাধারণ মানুষ এতবেশি মাথা না ঘামালেও বাজেট পেশের দিন থেকেই হিমশিম খেতে হয় তাদের। বাজেটে জিনিসপত্রের দাম কমবে বা বাড়বে এটা বলা থাকে। তবে তা কার্যকর হবে বাজেট পাসের পর থেকে, এটাই নিয়ম। যেদিন বাজেট পাস করেন অর্থমন্ত্রী সেদিন মিডিয়াতে ফলাও করে আসার ফলে সবাই জেনে যায় কোন জিনিসটির দাম কমছে বা বাড়ছে। যেগুলোর দাম কমেছে সেগুলো আগের মূল্যে থাকলেও দাম বাড়ার তালিকার পণ্য গুলোর নতুন দাম বসিয়ে রাতারাতি বাজেট কার্যকর করতে ব্যস্ত সুবিধাবাদী অসাধু ব্যবসায়ীরা। সরকারের এ নিয়মে কোনও মাথা ব্যথা নেই। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম এমনিতেই আকাশছোঁয়া। তার ওপর বাজেটের ফলে এর প্রভাব সরাসরি গিয়ে পড়বে খুচরা বাজারে। যার ভুক্তভুগি সাধারণ ক্রেতারা। গ্রামপ্রধান বাংলাদেশে কেবল শহরে বসে পর্যায় দেশকে দেখলে হবে না। গ্রামের মানুষের আর্থিক উন্নয়নে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে আমরা দেখি না। ব্যক্তিগত আর্থিক পরিস্থিতির পরিবর্তনে উৎসাহমূলক কার্যক্রমের অভাব দেখা যায় প্রতিটি জায়গায়, কি গ্রাম কিংবা শহরে। দিনের বেলা যখন কর্মঘণ্টা চলছে তখন চায়ের দোকানে টিভিতে সিনেমা দেখে অলস সময় কাটাচ্ছেন অনেকেই। সবাই কাজ চায়, কিন্তু কাজ কোথায়। কর্মহীন মানুষকে কাজে লাগাতে পারলে দেশ আরও সমৃদ্ধ হবে এগিয়ে যাবে সামনে।
বাজেটের এই হিসাব-নিকাশে একটি পরিবার তাকিয়ে থাকে বাবার বাজেটের দিকে। কারণ অনেক পরিবারের বাবার কাছেই এখনও থাকে পুরো মাসের বাজেট। কিন্তু বাবার আয়ের বাজেট আর বাড়ে না। তাই বাবা থাকেন আমাদেরকে নিয়ে সর্বদা চিন্তিত। তাই বিশ্ব বাবা দিবসে আমরা চাই প্রতিটি বাবার জন্য তার সন্তানেরা যেন একটি সারপ্রাইজ দেয়। এতে বাবা অনেক আনন্দিত হবে। ভুলে যাবে সন্তান লালন-পালনের যে কষ্ট দুঃখ। প্রতিটি সন্তানের অবশ্য কর্তব্য তার বাবাকে বৃদ্ধ বয়সে সেবা করা। আসুন আমরা যারা সন্তান আছি তারা সকলে যাদের বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে দিয়েছি সম্ভব হলে বাবা দিবসের উপলক্ষ্যে বাবাকে এই বিশেষ দিনের সেবা করবো। আর প্রতিজ্ঞা করি আমাদের কারো কোন বাবাকে যেন আর কোনদিন বৃদ্ধাশ্রমে না যেতে হয়।
============================
লেখকঃ আবদুর রহমান, কলাম লেখক
মাছিমপুর, তিতাস, কুমিল্লা।
ইমেইল: m.a.rahman33@gmail.com
মোবাঃ ০১৫৫২ ৪৬ ৩৬ ১১

Check Also

মাদকসন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সরকারকেই জোরালো ভূমিকা নিতে হবে

—-মো. আলীআশরাফ খান লেখার শিরোনাম দেখে হয়তো অনেকেই ভাবতে পারেন, কেনো লেখাটির এমন শিরোনাম দেয়া ...

Leave a Reply