শুভ্র’র কারণে আমি জেলে : মডেল ইমা

ঢাকা :–
মডেল কন্যা রেজোয়ান খালিদ ইমাকে প্রতারণা মামলায় বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে থাকা পুরো সময় মডেল ইমাকে কাঁদতে দেখা যায়।

কাঁদতে কাঁদতে সাংবাদিকদের মডেল ইমা বলেন, আব্দুল করিম মজুমদার শুভ্র’র কারণে আমি আজ জেলে। ষড়যন্ত্র করে আমাকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে। আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। শুভ্র একজন ইয়াবাখোর। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়। ঢাকার ধানমণ্ডির জিগাতলায় থাকে সে।

শুভ্রর বিষয়ে মডেল ইমা সাংবাদিকদের জানান, শুভ্র আমার সাবেক প্রেমিক। কয়েকমাস থেকে তার সঙ্গে আমার সম্পর্কের অবনতি হয়। সম্পর্কের অবনতি হওয়ার পর থেকে সে আমাকে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র করে।

ইমার প্রথম স্বামী মইন আহম্মেদ। মডেল ইমা সাংবাদিকদের জানান, ২০০৫ সালের মইনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। প্রেম করেই বিয়ে করেছিলেন। তার সাবেক স্বামী মইন তখন গ্রামীণফোনের উচ্চপদে চাকরি করতেন।

গ্রামীণফোনে কর্মরত এক নারীর সঙ্গে মইনের সম্পর্ক হয়। ওই মেয়ের নাম হিবু চৌধুরী। যিনি বর্তমানে মইনের স্ত্রী। মইনের সঙ্গে হিবুর এ অবৈধ সম্পর্কের কথা ইমাকে জানান শুভ্র।

স্বামীর পরকীয়ার কারণে ২০০৭ সালে মইনের সঙ্গে ইমার ডিভোর্স হয়। তখন থেকে শুভ্রর সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে উঠে। শুভ্র ইস্টওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিল। লেখাপড়া শেষ করতে পারেনি।

ওয়ারি থানায় দায়ের করা প্রতারণা মামলার বিষয়ে মডেল ইমা সাংবাদিকদের জানান, আমার ভাই তানভীর খালেদের সঙ্গে মামলার বাদী মনিরুজ্জামানের পরিচয় হয়। মনিরুজ্জামানকে ভিওআইপি লাইসেন্স দিবে বলে আমার ভাই খালেদ এগার লাখ টাকা নেয়।

ভিওআইপির সেই লাইসেন্স সে করে দিতে না পারায় মনিরুজ্জামানকে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা পরিশোধ করে দিয়েছে। আমার সঙ্গে মনিরুজ্জামানের কোনও চুক্তি হয়নি। আমাকে ষড়যন্ত্র করে এ মামলার আসামি করা হয়েছে।

শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে মডেল ইমা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি নিজেকে কখনও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি নিয়েছি বলে কোথাও বলিনি। আমি ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত লেখাপড়া করেছি।

ঢাকার ইউনিভার্সিটি অফ ওমেন ফেডারেশন থেকে আইএ পাস করি। এসএসএসি পাশ করেছি ঢাকার ধানমন্ডির একটি স্কুল থেকে।’ নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে মডেল ইমা সাংবাদিকদের বলেন, আমি স্টার ডোম নামের একটি বিনোদন পত্রিকা সম্পাদন করি। ‘স্টার ডোম’ নামে একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

তার বিরুদ্ধে ওঠা প্রতারণা বিষয়ে মডেল ইমা সাংবাদিকদের বলেন, আমি কোনো অন্যায় করিনি। কাওকে ঠকাইনি। আমার সাবেক প্রেমিক শুভ্র আমার মান-সম্মান শেষ করে দিয়েছে। তার কারণে আমি আজ জেলে। তার কারণেই আমাকে মামলার আসামি হতে হয়েছে।

মডেল ইমার বাবার নাম আলমগীর খালেদ। গ্রামের বাড়ি জামালপুর। ছোটবেলা থেকে সে ঢাকায় আছে।

মডেল ইমার বিরুদ্ধে প্রতারণার তিনটি মামলা হয়েছে। গুলশান, রামপুরা ও ওয়ারি থানায় এ মামলাগুলো দায়ের করা হয়।

গুলশান থানার মামলায় ইমার বিরুদ্ধে অন্যের গাড়ি বিক্রির অভিযোগ আনা হয়। প্রতারণা করে সে অন্যের গাড়ি দীপঙ্কর দিপু নামের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে। ইমার ওই গাড়ির কাগজপত্র নিজের নামে করে নিয়েছিলেন।

মূলত এ মামলাতেই তাকে গ্রেফতার করা হয়। গুলশান থানায় দায়ের করা মামলায় ইমা দুই দিনের রিমান্ডে ছিলেন। দুই দিনের রিমান্ড শেষে ওয়ারি থানার মামলায় মডেল ইমাকে সাত দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়।

মডেল ইমার আইনজীবী মো. মাসুম আদালতকে বলেন, ইমা ষড়যন্ত্রের শিকার। এ মামলায় তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনও অভিযোগ আনতে পারেনি প্রসিকিউশন।

রিমান্ড বাতিল করে জামিন দেওয়া হোক। শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর হাকিম এসএম আশিকুর রহমান ইমাকে কারাগারে পাঠান।

একইসঙ্গে ইমাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন। ইমাকে গত বৃহস্পতিবার হাতিরঝিল এলাকা থেকে রাত দশটার দিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

Check Also

সভাপতি শাকিব খান ও সম্পাদক অমিত হাসান

বিনোদন ডেস্ক :– বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন দ্বিতীয়বারের মত সভাপতি পদে বিজয়ী হয়েছেন শাকিব ...

Leave a Reply