চিকিৎসা না কি নতুন রাজনীতির মেরুকরন : সিঙ্গাপুরে এরশাদ খালেদা একই সময়ে আসছেন

এম.আমজাদ চৌধুরী রুনু :–

প্রবাসীদের চিন্তা চেতনা , পাওয়া না পাওয়ার অনেক বেদনা ও কষ্ট মনে নিয়ে আছেন সাবেক রাষ্টপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ, অনেক আশা আকাঙ্গা নিযে যোগ দিয়েছিলেন মহাজোটে কিন্তু সে রকম প্রাপ্তি হয়নি বাংলাদেশের তিতীয় বৃহওর রাজনৈতিক দল জাতীয় পার্টি এরশাদ। একজন মন্ত্রী ছাড়া আর কোন পাওযা নেই নির্বাচনের আগে মহাজোট গঠনের প্রকালে বেশ জোরেসোরে আলোচনায় ছির এরশাদকে রাষ্টপতি অথবা মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত করা হবে তার কোনটায় পান নি সাবেক এ রাষ্টপতি, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের আশংকা এজন্য এরশাদ মনে ভীষম কষ্ট চাপাদিয়ে আছেন যে কোন সময় চাড়তে পারেন মহাজোট। আশংকা জাগেঁ এজন্য জাতীয় পার্টিও চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ দীর্ঘদিন পর গত সোমবার স্ত্রী রওশন এরশাদকে নিয়ে সিঙ্গাপুর গেছেন। উদ্দেশ্য চিকিৎসা। এদিকে আগামী ১৬ জুন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন। তিনিও যাচ্ছেন চিকিৎসার উদ্দেশ্যেই। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ একে সাধারণ স্বাস্থ্যগত চিকিৎসা বলে মানতে নারাজ। অনেকেই মনে করছেন, আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এটি হতে পারে নতুন মেরুকরণের ‘রাজনৈতিক চিকিৎসা’।
গুঞ্জনটা এরশাদ বলেই উড়িয়ে দিচ্ছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা মনে করছেন, মহাজোটের টানাপোড়েনে এরশাদ রাজনীতির পালে নতুন হাওয়া লাগালেও লাগাতে পারেন। কারণ এবার তিনি সফরসঙ্গী করেছেন মহাজোট তথা আওয়ামী লীগ বিরোধী স্ত্রী রওশন এরশাদকে। তাকে আবার অনেকেইজাতীয় পার্টির অভ্যন্তরে সবচেয়ে বড় ‘বিএনপি পন্থী’ বলে মনে করে থাকেন। তাই এক আর এক দুই এবং দুই আর এক তিনের অংক কষতে শুরু করেছেন অনেকেই।
বিএনপির সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক মিত্র জামায়াত এখন যুদ্ধাপরাধী ইস্যুতে কোনঠাসা। বিএনপির অনেক নেতা-কর্মীই জামায়াতকে ইদানিং রাজনৈতিক বোঝা বলে মনে করে। বিএনপির এই নতুন উপলব্ধিটা টের পাওয়া গেছে সম্প্রতি জামায়াতের ডাকে হরতালকে সমর্থন না দেওয়ার মধ্য দিয়ে। জামায়াতের গাঁটছড়া যদি ছাড়তেই হয় তাহলে বিএনপির দরকার নতুন রাজনৈতিক মিত্র। সেক্ষেত্রে সব দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ভুলে এরশাদের জাতীয় পার্টির সঙ্গে কোলাকুলি হতেই পারে। ক্ষমতায় আসা নিয়ে কথা। তাছাড়া দুটি দলের জন্মই তো সামরিক শিবিরে। আদর্শ-নীতিতেও আছে যথেষ্ট সমিল। কাজেই ক্ষমতা ভাগাভাগির প্রশ্নে দুটি দল সমঝোতায় পৌঁছালে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে ন।
মহাজোট তথা আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাতীয় পার্টির সম্পর্কটা ভাল যাচ্ছে না বেশ কিছুদিন ধরে। বিশেষ করে এরশাদের জীবনের শেষ খায়েশ আরেকবার প্রেসিডেন্ট হওয়ার স্বপ্ন মহাজোট সরকার পূরণ না করায় তিনি বেশ মনক্ষুন্ন। সেই ক্ষোভ থেকেই হয়তো আজকাল প্রায়ই তিনি আওয়ামী লীগ বিরোধী কথাবার্তা বলছেন। জীবনের শেষ সময়ে জাপা চেয়ারম্যানের পাশে দাঁড়িয়ে হয়তো কোনো আশার বাণী শুনিয়েছেন স্ত্রী রওশন এরশাদ। নয়তো কেন হুট করে সাত বছর পর তাদের এই আকস্মিক সিঙ্গাপুর সফর!
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সস্ত্রীক সিঙ্গাপুর যাবার পর পরই বিএনপি সূত্রে জানা গেল, খালেদা জিয়াও সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন । কাজেই নির্বাচন নিয়ে তাদের মধ্যে সিঙ্গাপুরে দেন-দরবারে বসার সম্ভাবনাটা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
অবশ্য বিএনপি ও জাতীয় পার্টি নেতৃস্থানীয়রা এ ধরনের সম্ভাবনা বাতিল করে দিয়েছেন। খালেদা জিয়া এবং এরশাদের মধ্যকার আনুষ্ঠানিক বৈঠকের কথা তারা অস্বীকার করছেন। তাদের মতে, এ ধরনের বৈঠক হলে দেশের মাটিতেই হতে পারে। সেজন্য সিঙ্গাপুরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের রাজনীতির অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তই অতীতে বিদেশের মাটিতে বসেই নেওয়া হয়েছে।

বিএনপি থেকে বলা হচ্ছে, সব ঠিকঠাক থাকলে চিকিৎসার জন্য আগামী ১৬ জুন রাতে একটি ফ্লাইটে খালেদা জিয়া সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা হবেন। চিকিৎসা শেষে আগামী ২৪ জুন তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। এর আগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। তারই ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তিনি সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন।
জাতীয় পার্টি সূত্র জানাচ্ছে, নয়দিনের সিঙ্গাপুর সফর শেষ করে বেগম রওশনসহ এরশাদ ১৮ জুন দেশের উদ্দেশ্য রওনা দেবেন।
১৬ জুন বিএনপি চেয়ারপারসন সিঙ্গাপুর গেলে শুধুমাত্র ১৭ তারিখ সময় পাবেন। সেক্ষেত্রে জাপা চেয়ারম্যান এরশাদের সঙ্গে তার দেখা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তবুও হঠাৎ করে একই সময়ে খালেদা জিয়া এবং এরশাদের এই সিঙ্গাপুর সফর নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতির নেয় মালয়েশিয়া ও নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। চাউর হয়েছে, সিঙ্গাপুরে তারা আগামী জাতীয় নির্বাচন ঘিরে সরকারবিরোধী আন্দোলন এবং জোটের রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করবেন। নতুন মেরুকরণের সম্ভাবনাও অনুমান করছেন কোনো কোনো রাজনৈতিক বিশ্লেষক। এ সম্পকে কুয়ালালামপুরস্থ কুতারায়া বাংলা মার্কেটের বিভিন্ন রেষ্টুরেন্টে আলোচনার অন্তনেই জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও মালয়েশিয়ার সভাপতি ও বিডি টিভির চেয়ারম্যান এস.এম রহমান পারভেজ ও বিএনপি মালয়েশিয়ার সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মোঃ সালাউদ্দিনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন রাজনীতির শেষ বলতে কিছুনেই দেখা যাক কি হয় বাংলাদেশের রাজনীতি যেহেতু জোটবদ্ধ তাই বিএনপি ও জাতীয় পার্টি জোট হলে তা আশ্চার্য হওয়ার কিছুনেই। মালয়েশিয়া আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মোঃ কাইয়ুম সরকার ও সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আবুল হোসেন বলেন আমাদের মনে হয় না এরশাদ সাহেব মহাজোট ছেড়ে অন্যকারো সংঙ্গে জোট করবেন কারণ এরশাদ সাহেব একমাএ আওয়ামীলীগের আমলেই অবাধ রাজনীতি করার সুযোগ পেয়েছেন যা কিনা জাতীয় পার্টিকে শক্তিশালী করেছে তাই আমাদের ঢড় বিশ্বাস এরশাদ মহাজোটে থাকবেন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply