২০ দিনের মধ্যে লাকসামের ৩৫টি ভবন ভাঙ্গার নির্দেশ

কুমিল্লা প্রতিনিধি:–
লাকসাম ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে বাণিজ্যিক কার্যক্রম। শুধু বাণিজ্যিক নয়; আবাসিক কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নৈমিত্যিক কর্মকান্ডও পরিচালিত হচ্ছে নির্দ্বিধায়। লাকসাম পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ ও অনুমোদন বহির্ভূত তালিকার ৩৫টি ভবন চিহ্নিত করে ২০ দিনের মধ্যে এগুলো ভাঙ্গার নির্দেশ দিয়েছেন। পৌর এলাকায় অনেককে ২ তলার অনুমোদন নিয়ে ৪- ৫ তলা ভবন নির্মাণ করতে দেখা গেছে।
বাইপাসের চৌধুরী ম্যানশনের ফেরদৌসি বেগম ও তার স্বামী ইঞ্জিনিয়ার আবুল হাশেম চৌধুরী ১৯৮৮ সালে ২ তলা ভবনের অনুমোদন নিয়ে ৪ তলা ভবন ও তার ওপর মোবাইল কোম্পানীর ৩টি টাওয়ার বসিয়েছেন। গত ২০০৬ সালে পৌর কর্তৃপক্ষ ২ তলার উপরের অংশ অপসারনের চূড়ান্ত নোটিশ (স্মারক নং- ১৯৭) দিলেও তা আমলে নেয়নি ভবনের মালিক।
অন্যদিকে, এ তালিকায় রয়েছে ভারতীয় উপমহাদেশের একমাত্র মহিলা নবাব নওয়াব ফয়েজুন্নেছা চৌধুরাণীর স্মৃতি বিজড়িত নওয়াব ফয়েজুন্নেছা সরকারি কলেজ, নওয়াব ফয়েজুন্নেছা ও বদরুন্নেছা যুক্ত উচ্চ বিদ্যালয়সহ অনেক বাণিজ্যিক ভবন।
জানা গেছে, পৌরসভার নিয়ম অমান্য করে আবাসিকের স্থলে বানিজ্যিক, ৫তলা অনুমতি নিয়ে ৬তলা বা ৭তলা ভবন নির্মান, ভবন ঝুঁকিপূর্ন, ফাটল ধরা, ২০০০ সালের আগে কিছু ভবন নির্মান হলেও এগুলোর অনুমোদনের কোনো ডকুমেন্ট পৌরসভার ফাইলে না থাকায় ভবনগুলো ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ঝুঁকিপূর্ন, অনুমোদন বহির্ভূত ও সম্পুর্ন অবৈধ ভবনগুলোর মধ্যে পৌরসভা কর্তৃক ৩৫টি ভবন আগামী ২০ দিনের মধ্যে ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দেয়া ভবনগুলোর মালিকরা হচ্ছেন- আবদুল গফুর, পিতা- আমির উদ্দিন, জগন্নাথ দিঘীর পশ্চিম পাড়, প্রফেসার অহিদুর রহমান, পিতা- মৌলভী মোকলেছুর রহমান, জগন্নাথ দিঘীর পশ্চিম পাড়, আহসান উল্লাহ খোকন, পিতামৃত- সেরাজুল হক, দৌলতগঞ্জ বাজার, শহিদুল্লাহ মানিক, পিতামৃত- আইয়ুব আলী, দৌলতগঞ্জ বাজার, রফিকুল ইসলাম বাবুল, পিতা- আবদুর রউফ, উত্তর লাকসাম, জসিম উদ্দিন খান, পিতা- নুরুল ইসলাম খান, উত্তর লাকসাম, আবদুর রহমান মজুমদার, পিতা- ইসমাইল মজুমদার, উত্তর পশ্চিম গাঁও, শিবু বনিক, পিতামৃত- নিরঞ্জন বনিক, দক্ষিণ লাকসাম, গীতা বনিক, স্বামী- খোকন চন্দ্র বনিক, দক্ষিন লাকসাম, রহিমা খাতুন, স্বামী- আবদুল মালেক খলিফা, জগন্নাথ দিঘীর পশ্চিম পাড়, নাহার সুলতানা, স্বামী- রফিকুল ইসলাম, জগন্নাথ দিঘীর পশ্চিম পাড়, মনু মিয়া, পিতা- মক্রম আলী, জগন্নাথ দিঘীর পশ্চিম পাড়, মোহাম্মদ আলী, পিতা- সুজ্জত আলী, জগন্নাথ দিঘীর পশ্চিম পাড়, শাহজাহান, পিতা- ইউনুছ আলী, জগন্নাথ দিঘীর পশ্চিম পাড়, জাহাঙ্গীর আলম, পিতা- উজির আলী, জগন্নাথ দিঘীর পশ্চিম পাড়, রশিদা বেগম, স্বামী- দেলোয়ার হোসেন, জগন্নাথ দিঘীর পশ্চিম পাড়, মমতাজ মিয়া, পিতা- মোজাফ্ফর আলী, জগন্নাথ দিঘীর পশ্চিম পাড়, মীর হোসেন, পিতা- চান মিয়া, উত্তর লাকসাম, খোদেজা বেগম, স্বামী- নুরুল আমিন, উত্তর লাকসাম, ফেরদৌসী বেগম, স্বামী- মোঃ আবুল হাসেম, মধ্য লাকসাম, প্রফেসার বশির আহম্মদ, পিতা- হাজী রুস্তম আলী, নশরতপুর, হেদায়েত উল্লাহ বাবুল, পিতামৃত- হোসেন সওদাগর, উত্তর লাকসাম, অধ্যক্ষ, নওয়াব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজ, পশ্চিম গাঁও নবাব পাড়া, প্রধান শিক্ষক, নওয়াব ফয়জুন্নেছা ও বদরের নেছা যুক্ত উচ্চ বিদ্যালয়, পশ্চিমগাঁও পুরান বাজার, হারুনুর রশিদ, পিতা- সিদ্দিকুর রহমান, মধ্য লাকসাম, মোহাম্মদ উল্যাহ, পিতা- মৌলভী, মধ্য লাকসাম, নুর হোসেন তালুকদার, পিতা- নজির আহম্মদ, দক্ষিণ লাকসাম, ফরিদা ইয়াছমিন, স্বামী- আনোয়ার হোসেন মজুমদার, মধ্য লাকসাম, জেসমিন আক্তার, স্বামী- তাজুল ইসলাম, পশ্চিম গাঁও মিয়া পাড়া, তাজুল ইসলাম খান, পিতা- মকবুল আহাম্মদ খান, পশ্চিম গাঁও মিয়া পাড়া, আবুল কালাম আজাদ, পিতা- নাজির আহম্মদ, উত্তর লাকসাম, বেলায়েত হোসেন, পিতা- এরশাদ উল্লা মিয়া, উত্তর লাকসাম, ডাক্তার সিদ্দিক, পিতা- আনছার আলী, উত্তর লাকসাম, আবু আকতার, পিতা- মহিন উদ্দিন, উত্তর লাকসাম, বাচ্চু মিয়া, পিতা- বাদশা মিয়া, নশরতপুর, উত্তর লাকসাম শরাফত উল্লা হাফেজিয়া মাদরাসা।
লাকসাম পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জাকির হোসেন জানান, উল্লেখিত ভবনগুলো পৌরসভার দেয়া নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মালিকদের স্ব-উদ্যোগে ভাঙা না হলে পৌরসভা বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। সূত্র জানায়, পৌর এলাকায় নির্মিত ঝুঁকিপুর্ন, অবৈধ, অনুমোদনহীন আরো ভবনের তালিকা পর্যায়ক্রমে প্রকাশ করবে কর্তৃপক্ষ।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply