মেঘনায় ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে মোটা অংকের চাঁদা দাবিতে,মালিককে মারধর

মেঘনা প্রতিনিধি :–
কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার মানিকারচর বাজার মেঘনা ডায়গনষ্টিক সেন্টার এন্ড ইমেজিং সেন্টারে মেঘনার শীর্ষ সন্ত্রাসী মোঃ মহিউদ্দিন মহি দীর্ষদিন যাবত মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে আসছিল। গতকাল বৃহপতিবার দুপুরে ডায়গনষ্টিক সেন্টারের মালিক ডাঃ দিনেশ দেবনাথ মটর সাইকেল যোগে মানিকারচর বাজার নিজস্ব প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পথে মানিকারচর বাজারের মাঝখানে সন্ত্রাসী মহি চাঁদার টাকার জন্য মটর সাইকেলসহ ডাঃ দিনেশ দেবনাথকে আটক করে রাখে। টাকা আনতে দেরী হওয়ায় ডাঃ দেবনাথকে মারধর ও মটর সাইকেল ভাংচুরের চেষ্টা চালায়। মানিকারচর সাপ্তাহিক বাজারের দিন বৃহসপতিবার থাকার কারনে বাজারের লোকজন জড়ো হইলে ডাঃ দিনেশ দেবনাথ প্রানে রক্ষা পায়। পরবর্তীতে চাঁদার চাঁদার টাকা না দিলে ডাঃ দিনেশ দেবনাথের ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠানে বন্ধ এবং ডাঃ দিনেশ দেবনাথের প্রাননাশের হুমকি প্রদান করে মেঘনার শীর্ষ সন্ত্রাসী মহি। মহির সন্ত্রাসী গ্রুপের অত্যাচারে মেঘনাবাসী অতিষ্ট। আইনের আশ্রয় নিয়েও তাহার বিরুদ্ধে কোন প্রকার প্রতিকার পাচ্ছে না স্থানীয় মানুষ। মেঘনা উপজেলার সর্বত্র মহির রাজত্ব। মহি গ্রুপ সরকারী দলের ছত্রছায়ার নানা প্রকার অপকর্ম দাপটের সাথে করে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ। সাধারন জনগন মহির সন্ত্রাসী গ্রুপের কাছে জিম্মি। মহির সন্ত্রাসী গ্রুপের কারনে সরকারের ভাবমূর্তি মেঘনাতে অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এই বিষয়টি জানার পরও সরকারী দলের অনেক নেতা মহি গ্রুপপের পেশী শক্তিকে ব্যবহার করছে নিজেদের প্রয়োজনে। আবার সরকারী দলের লোকজনই মহি গ্রুপের কাছে অপমানিত, মারধর খেয়ে দিশেহারা। স্থানীয় লোকজন নামপ্রকার না করার শর্তে বলেন, মানিকারচর ও শিকিরগাঁও গ্রামের চোর-ডাকাতের অত্যাচারের ১৯৮৮ইং সালে পাশ্ববর্তী উপজেলার মানুষ হামলা করে এই দুইটি গ্রাম পুড়িয়ে ফেলেছিল। গ্রামবাসীদের মধ্যে অত্যাচারের ক্ষোভ দীর্ঘতর হচ্ছে। এলাকাবাসী বলছে, এই অবস্থা চলতে থাকলে হয়তো বা আবার ১৯৮৮ইং সালে ফিরে যেতে হতে পারে। বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ শফিকুল আলমকে প্রকাশ্যে মহি গালাগাল ও অপমান করার অভিযোগ আছে। যুবলীগের আহ্বায়ক মোঃ মজিবুর রহমান মজিকে মানিকারচর বাজারে প্রকাশ্যে চাঁদার দাবীতে আক্রমন করে। মজিবুর রহমান অবশ্য থানাতে মামলা করেছিল। রহস্যজনক কারনে মামলাটি পরবর্তীতে প্রত্যাহার করে। মেঘনা উপজেলার জায়গা-জমি ক্রয়-বিক্রয়ে,বিয়ে-শাদি,সামাজিক যেকোনে অনুষ্ঠানে মহি গ্রুপকে চাঁদা না দিলে অনুষ্ঠান সম্ভব না। যেকোনো সরকারী রাস্তা-ঘাট মেরামত, নতুন তৈরী সব কিছুতেই মহির আর্শীবাদ ছাড়া করা সম্ভব না। মেঘনার হিন্দু সম্প্রদায় মহি গ্রুপের অত্যাচারে অতিষ্ট। সরকারের উর্ধ্বত কতৃপক্ষ এবং সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন তদন্ত করলেই প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হবে। স্থানীয় আওয়ামীলীগের অনেক নেতার অভিযোগ, কোনো এক এমপির সরাসরি মদদে মহি হয়ে উঠেছে, বেপরোয়া। ডাঃ দিনেশ দেবনাথ মোবাইল ফোনে জানান, তিনি রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত মেঘনা থানাতে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply