সোনার বাংলা আছে

—-জান্নাতুল ফেরদৌসী (নীলু)

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিজ হাতে গড়া সোনার বাংলা আছে। কিন্তু সোনার মানুষ নাই। বাঙ্গালী জাতির ইতিহাসে অনেক কলঙ্কজনক অধ্যায় আছে বিরল। দেশের স্বাধীনতা বিরোধী ষড়যন্ত্র কারীদের পত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে ঘাতক চক্রের হাতে বাংলাদেশের লক্ষ্য লক্ষ্য মুক্তিযোদ্ধা বুদ্ধিজীবি, লেখক সাংবাদিক নৃশংস ভাবে খুন হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আর্দশের রাজনীতির ডাকে সাড়া দিয়ে এই ঘটনা গুলো কেবল বাঙ্গালীর ইতহাসে নয়, পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। আমাদের জাতীয় ইতিহাসে বঙ্গবন্ধুর অবদান অপরিসীম। তারই নেতৃত্বে বাঙ্গালী জাতি অর্জন করেছে বহু কাঙ্খিত স্বাধীনতা ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে তদানীন্তন ৫৮-এর সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন ৬৬-এর ৬ – দফা, ৬৯- এর গণ অভ্যূথান ও সাধারন নির্বাচন সহ এদেশের গণমানুষের আশা-আকাক্সক্ষা পূরণে প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে তিনি এই জাতিকে নেতৃত্ব দেন। এ জন্য তাকে বহু বার কারাগারে অমানুষিক নির্যাতন ও সহ্য করতে হয়েছে। তবু ও তিনি শত্র“র সাথে আপোস করেন নি। দেশ ও জনগনের স্বার্থকে সারা জীবন সমুন্নত রেখেছেন। দুঃখী মানুষের কল্যানে কাজ করে গেছেন। তাই ঘাতক চক্র, জাতির পিতাকে হত্যা করলে ও তাঁর আর্দশ ও নীতিকে ধ্বংস করতে পারেনি। এ দেশ ও জনগন যতদিন থাকবে ততদিন জাতির পিতার নাম এদেশের লাখো-কোটি বাঙ্গালির অন্তরে চির অক্ষয় হয়ে থাকবে। তবে আশার কথা, দীর্ঘ ৪২ বছর পরে হলে ও জাতির পিতা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যাকারী ঘাতকদের বিচার বাংলার মাটিতে সম্পন্ন হয়েছে। জাতি আজ অনেকটা কলঙ্ক মুক্ত। যেসব মৃত্যু দন্ড প্র্প্তা আজো বিদেশে পালিয়ে রয়েছে তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের রায় কার্যকর করতে সর্বোচ্চ তৎপরতা চালাতে হবে। জাতি জানবে হত্যা কারীদের ঠাঁই পৃথিবীর আর কোথা নাই । জাতির পিতা সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন। আমাদের দায়িত্ব হবে দেশকে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ দেশে পরিনত করে জাতির পিতার সেই স্বপ্ন পূরণ করা। তাহলে আমাদের জাতির পিতার আত্মা শান্তি পাবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুরদর্শী, গতিশীল এবং ঐ ইন্দ্রজালিক সাহসী নেতৃত্বে এই ভু-খন্ডের মানুষ হাজার বছরের পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙ্গে ছিনিয়ে এনে ছিল স্বাধীনতার রক্তিম সূর্য, বাঙ্গালী পেয়েছে নিজস্ব জাতি রাষ্ট্র। যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশে বঙ্গবন্ধু যখন সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে সোনার বাংলা গড়ার সংগ্রামে নিয়োজিত তখনই তাকে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে মুক্তি যুদ্ধের বিরোধী শক্তি বাঙ্গালির ঐতিহ্য সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও অগ্রযাত্রাকে স্তব্ধ করার অপপ্রয়াস চালায়। অসাম্প্রদায়িক গনতান্ত্রিক বাংলাদেশের রাষ্ট্র কাঠামোকে ভেঙ্গে ফেলাই ছিল তাদের মুল লক্ষ্য। ২০০৮ সালের ঢিসেম্ভরের নির্বাচনে জনগন আওয়ামীলীগকে বিপুর ভোটে বিজয়ী করে। বর্তমান সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ জাতির পিতা শেখ মুজিবুরের সোনার বাংলা গড়তে চেয়েছে ঠিক তখনি যুদ্ধাপরাধী দুর্নীতিবাজ ও লুটেরা এবং বিভিন্ন স্থানে ভাংচুর এবং সাধারন জনগনের উপরে হামলা করা ও হত্যা করা শুরু করেছে। আসুন আমরা সকলে দলবদ্ধ হয়ে জাতির পিতার সপ্নের সোনার বাংলাকে ষড়যন্ত্রের হাত থেকে রক্ষা করি। আজো বাংলার কোটি মানুষের অন্তরে গেথেঁ আছে জাতির পিতার আর্দশের রাজনীতি। আসুন, জাতির পিতা শেখ মুজিবুরের সু-কন্যা সম্মানিত মাননীয় প্রধান মন্ত্রি শেখ হাসিনার ডাকে সাড়া দিয়ে দেশকে সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলি, সোনার বাংলা বাস্তবায়নের সংগ্রামে এগিয়ে যাই। ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও নিরক্ষতা মুক্ত এবং অর্থনৈতিক ভাবে সমৃদ্ধ একটি গণতান্ত্রিক শান্তিকামী বাংলাদেশ গড়ে তুলি। অতীতে দেশের জন্য যুদ্ধ করতে গিয়ে লক্ষ্য, লক্ষ্য মানুষ শহীদ হয়েছে। তা-নিয়ে ব্যাখ্যা করে লিখে ছিলেন আমাদের প্রিয় কবি শ্রদ্ধেয় শামসুর রহমান একটি কবিতা-

এ লাশ আমার রাখব কোথায়?
তেমন যোগ্য সমাধি কই?
মৃত্তিকা বলো পর্বত বলো
অথবা সুনীল সাগর জল-
সবকিছু ছেঁদো, তুচ্ছ শুধুই।
তাই তো রাখিনা এ লাশ আজ
মাটিতে পাহাড়ে কিংবা সাগরে,
হৃদয়ে হৃদয়ে দিয়েছি ঠাঁই।

আমাদের প্রিয় শ্রদ্ধেয় কবি, শামসুর রহমানের কবিতার সারাংশ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আমি একজন ক্ষুদ্র লেখিকা হিসেবে যেটুকু পেয়েছি আমার মাঝে তাই লিখলাম, যাঁরা দেশের জন্যে প্রাণ দিয়েছে এই সোনার বাংলার মাটিতে তাঁদেরকে হৃদয়ে ঠাঁই দিতে বলছে কবি, শামসুর রহমান। আমি এই কবিতার সাথে এক মত পোষন করলাম। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো আমরা শহীদদেরকে হৃদয়ে ঠাঁই দিয়ে হৃদয়ে রাখতে পারিনা কারণ কিছু কুচক্রের ষড়যন্ত্রের হাতে আমরা যেই কোন সময় গুলিবিদ্ধ হতে পারি। তাই আমি বলতে চাই সকল শহীদদের স্থান শুধু হৃদয়ে নয় জাতির পিতার পাশে হোক সোনার বাংলার তাদের সমাধি। আজ খুব মনে পড়ে জাতির পিতার কথা যে দেশটির জন্য আর্দশের রাজনীতির জন্য সপরিবার নৃশংসভাবে হত্যা হয়েছে। আজ সেই সোনার বাংলা আছে, কিন্তু সোনার মানুষ কই। তাই পরিশেষে বলতে চাই-

পিতা, একদিন তুমি ছিলে স্বপ্নের ভেতর,
তোমার স্বপ্নের মধ্যে আমি খুঁজে পেয়েছিলাম
আমার অখন্ড নীলাকাশ,
কিন্তু তুমি তো জানো না পিতা স্বচ্ছ সুন্দর সেই নীলাকাশকে
ঢেকে দিয় যে শ্রাবনের ঘন কালো মেঘ।
আর তার পেছনে লুকিয়ে থাকা যে বজ্রের হুংকার
উদ্বত আক্রাশে গর্জে উঠে পৃথিবীকে ভম্মীভূত করে,
আমি সেই গর্জনের অগ্নি থেকে জেগে ওঠা বিভ্রান্ত বালিকা
কিছুই বুঝতে পারি না।
তবে এ টুকু যেনে রাখো আমি তোমাকে ভালোবাসি
তোমার সোনার বাংলাকে ভালবাসি
তাই তো তোমার সুরে সুর মিলিয়ে বলতে চাই,
সোনার বাংলা আছে।
কিন্তু সোনার মানুষ কই

================
জান্নাতুল ফেরদৌসী নিলু
বুড়িচং, কুমিল্লা।

Check Also

প্রবাসে বাংলা ভাষার প্রসারে সরকার ও আমাদের ব্যর্থতা

—দেলোয়ার জাহিদ ‘দুনিয়ার সবচেয়ে কঠিন কাজ হচ্ছে নিজকে সংশোধন করা এবং সবচেয়ে সহজ কাজ হচ্ছে ...

Leave a Reply