লাকসামে উচ্চ বিদ্যালয়’র ম্যানেজিং কমিটি ও এলাকাবাসীর দ্বন্দ চরমে ॥ এলাকাতে উত্তেজনা ॥ সংঘাতের আশংঙ্কা

আজিম উল্যাহ হানিফ:—

শিক্ষা জাতির যেমন মেরুদন্ড তেমনি আদর্শ শিক্ষক হচ্ছে শিক্ষার মেরুদন্ড। যে সমাজে শিক্ষিত লোকদের মূল্যায়ন হয় না, সেখানে শিক্ষিত লোক জন্মে না। বর্তমান সমাজে কিছু আদর্শহীন নৈতিকতা বিবর্জিত রয়েছে যাদের কারণে সৃষ্টি হয় সামাজিক বিশৃংঙ্খলা। বর্তমানে গণতান্ত্রিক সরকার শিক্ষা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেশ পরিচালনা করছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এক বক্তব্যে বলেছিলেন এদেশের সকল স্কুল-কলেজ মাদ্রাসর পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হবে আদর্শবান,শিক্ষানুরাগী ও স্বার্থহীন ভাবে এলাকার জনগণের কাছের শ্রদ্ধেয় এবং শিক্ষাঙ্গনটি যাতে দল মতের উর্ধ্বে রেখে আধুনিক এবং মান সম্মত প্রতিষ্ঠানের রুপ দেয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর এসব কথাকে আমলে না নিয়ে দেশের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং পরিচালনা পর্ষদের সভাপতিগণ তাদের নিজের ইচ্ছামতে কমিটির অন্যান্য সদস্যদের সাথে পরামর্শ না করে একনায়কতন্ত্র কায়েমের চেষ্টা করছে। যার প্রেক্ষিতে যেমন শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ বিনষ্ট হয়, তেমনিভাবে প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টদের মাঝে সৃষ্টি উত্তেজনা। এমনই এক অভিযোগ পাওয়া গেছে কুমিল্লা দক্ষিন জেলার লাকসাম উপজেলার বাকই ইউপির অশ্বদিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে। ১৯৯৩ সালে মরহুম মোঃ সিরাজুল হক প্রতিষ্ঠা করেন স্কুলটি। এলাকাবাসীর আপ্রাণ প্রচেষ্টায় ধীরে ধীরে পা পা করে বর্তমানে দ্বিতলা ভবন। অত্যান্ত মনোরম পরিবেশে স্কুলটি থাকা স্বত্তেও বর্তমান সভাপতি (আয়কর উপদেষ্টা) মোঃ এনায়েত উল্যাহ একক সিদ্ধান্তের কারণে চলছে এলাকাতে উত্তেজনা। বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির ৩জন সদস্য এর সমন্বয়ে এলাকাবাসীর অভিযোগ হচ্ছে সভাপতি নিজের খেয়াল খুশিমত প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করতে গিয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ব্যতিরেকে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ, পরিচালনা পর্ষদের অন্যান্য সদস্যদের কাছে স্কুলের আয়-ব্যয় এর হিসাব উপস্থাপন না করে প্রধান শিক্ষক দিপক চন্দ্র দাসের উপর অর্থ কেলেঙ্করীর অভিযোগ এতে নিয়ম বর্হিভূতভাবে বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট অফিসকে না জানিয়ে সাদা কাগজে জোর পূর্বক দুই দুই বার পদত্যাগ করার জন্য স্বাক্ষর নেয়া, কোন নোটিশ ব্যতিরেকে নিজের পছন্দের এবং সুযোগ মতে মিটিং কল করা, মিটিং এ বসে সভাপতি নিজের অনুগত সদস্যদের ছাড়া অন্যকোন সদস্যদেরকে কথা বলতে না দেয়া, অডিট রিপোর্ট মিটিং এ উপস্থাপন না করা ইত্যাদি। এসব বিষয়ে উক্ত স্কুলের অভিভাবক ও এলাকাবাসীদের মাঝে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। ২০১০সাল থেকে নির্বাচন ছাড়া সিলেকশনের মাধ্যমে অধ্যবদি পর্যন্ত সভাপতি হিসাবে মোঃ এনায়েত উল্যাহ দায়িত্ব পালন করার ক্ষেত্রে শিক্ষক নিয়োগে তৃতীয় স্থান অধিকারকারী কে নিয়োগ দেওয়াসহ অনেক অনিয়মের তথ্য এলাকাবাসী আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে। ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মোঃ শফিকুর রহমান, মোঃ নূরুল হক, মোঃ আবুল কাশেম জানান সরকারি কোন অনুদান স্কুলের জন্য আসলে তা আমাদেরকে জানানো হয় না। বিষয়গুলো নিয়ে প্রধান শিক্ষক দিপক চন্দ্র দাসের সাথে কথা বললে তিনি জানান আমার ব্যাপারে অর্থনৈতিক যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ন মিথ্যা, বানোয়াট। আমি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোক হিসাবে জোরালো প্রতিবাদ করতে ভয় পাওয়াটা স্বাভাবিক। আরো জানার জন্য সরাসরি কথা হয় লাকসাম উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার গাউসুল আজমের সাথে। তিনি বলেন আমাকে কেউ লিখিতভাবে কোন অভিযোগ দেয়নি। বিভিন্ন মারফত শুনেছি উক্ত স্কুলের প্রধান শিক্ষক থেকে জোর পূর্বক সাদা কাগজে সই নিয়েছে যা নিয়মবর্হিভূত বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিষয়টি আরো জানার জন্য বর্তমান সভাপতির ব্যক্তিগত মুঠোফোন ০১৭২৬-২০৯১৯৫ মোবাইলে এবং ০৩১-২৫১৮২৩৮ ফোন নাম্বারে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।সংবাদটি লেখা পর্যন্ত এ নিয়ে এলাকাতে উত্তেজনা এবং সংঘাতের আশংঙ্কা করছে অনেকেই।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply