হুরুবকৃত পাসপোটগুলোর ডাটা দূতাবাসের ওয়েবসাইট এবং জাতীয় পত্র পত্রিকায় প্রকাশ জরুরী

বিশেষ প্রতিনিধি :-

রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসে স্হবির হয়ে পড়েছে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত হুরুবকৃত প্রায় ৯০ হাজার পুরাতন পাসপোটের ডাটা এন্ট্রির কাজ । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা জানান, পর্যাপ্ত সময় এবং জনবলের অভাবে গুরুত্বর্পূন এই কাজটি অসম্পন্ন রয়েছে । প্রবাসী বিশিষ্টজন মনে করেন, হুরুবকৃত পুরাতন এই পাসপোটগুলোর ডাটা এন্ট্রির কাজ যথা সময়ে সম্পন্ন করে দূতাবাসের ওয়েবসাইট এবং জাতীয় পত্র পত্রিকায় প্রকাশ করলে ভুক্তভোগীরা বৃহত ভাবে উপকৃত হত । সেই সাথে হাজার হাজার নতুন পাসপোট এবং আউট পাসের আবেদন হ্রাস পেত ।

নতুন পাসপোট এবং আউট পাস প্রধানের স্হান ঘুরে সরেজমিনে দেখা যায়, একই ব্যক্তি নতুন পাসপোট এবং আউট পাসের আবেদন করছে । কাউন্টারগুলি আলাদা হলেও ঘন্টার পর ঘন্টা লম্বা লাইনে দাড়িয়ে তারা এ কাজটি করছে । আবার অনেকের পুরাতন পাসপোট থাকা সত্ত্বেও নতুন পাসপোটের জন্য আবেদন করছেন । এমন কয়েকজন প্রবাসীর সাথে কথা বললে তারা জানান, নতুন পাসপোট নিতেছি কপালার জন্য যদি না হতে পারি তাহলে আউটপাসে দেশে চলে যাব । প্রশ্ন ছিল কপালার সমস্যা কি উত্তরে বলেন, কপালা বা তানাজ্জল সহজে হওয়া যাবে কিনা সন্দেহ আছে, তাই দু‘টি রাস্তাই খোলা রাখলাম । আরেকজন বললেন, আমার পুরান পাসপোট আছে কিন্তু শুনলাম নতুন পাসপোট দিতেছে তাই আবেদন করলাম । একজনকে ক্রন্দরত দেখে প্রশ্ন ছিল কি সমস্যা ? তিনি বলেন, আমি দু‘বার এয়ারপোট থেকে ফেরত আসলাম ! কারন কি ? একবার আউটপাস নিয়ে হাতের ছাপ দিতে গেলাম দুইদিন লাইনে দাড়িয়ে কিন্তু সেখান থেকে বলা হল সরাসরি এয়ারপোটে যেতে । গেলাম তবে সেখান থেকে বলা হল পূর্বের স্হানে গিয়ে হাতের ছাপ দিয়ে এয়ারপোটে আসতে হবে । হাতের ছাপ দিয়ে আবার যখন এয়ারপোটে গেলাম তখন বলা হল তোমার হাতের ছাপ এখনো আমাদের সিষ্টেমে আসেনি, তোমাকে পরে আবার আসতে হবে । লোকটি জানান দুইবার বিমানের টিকিট করলাম দুইবারই নো শো জরিমানা হল প্রায় ৮০০ রিয়াল আর গাড়ী ভাড়া প্রায় ১৫০ রিয়াল কিন্তু কোন ফল পেলাম না । এখন আমি কি করব ?

সমস্যগুলো নিয়ে কথা বলতে চেষ্ঠা করি দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সাথে । সাংবাদিক পরিচয় দিয়েও অস্হায়ী দূতাবাসে প্রবেশের অনুমতি পাওয়া যায়নি । পরে অবশ্য একজন সৌদি নিরাপত্তা কর্মীর সহায়তায় ভিতরে প্রবেশ করতে পারলাম । নতুন পাসপোট এবং আউট পাস প্রধানের অস্হায়ী দূতাবাসের ভিতরে দেখা গেল অনেক বহিরাগত ঘুর ঘুর করছেন । আপনারা কি দূতাবাসের কর্মী না সেচ্ছাসেবক প্রশ্ন করতেই পেছন থেকে কয়েকজন কেটে পড়লেন । তখন সেচ্ছাসেবকদেরকেও তৎপর হতে দেখা যায় বহিরাগতদের তাড়া দিতে ।

সাধারন ক্ষমা ঘোষনার শুরু থেকেই দূতাবাসের সর্বস্তরের কর্মকর্মতা, কর্মচারীদের সাধারন এবং সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা হয়েছে । দিবারাত্রি বিরামহীন কাজ চলছে বাংলাদেশ মিশনের প্রত্যেক শাখা প্রশাখায় । সৌদি সময় রাত ১২ টায় কয়েকজনের কাছে প্রশ্ন ছিল নিদ্রা ও বিশ্রামবিহীন এই কর্মব্যস্ততা কেমন লাগছে ? সকলে সমস্বরে বলেন, আমাদের অসামন্য এ প্রচেষ্ঠা লক্ষ লক্ষ প্রবাসীর উপকারে আসলেই আমরা ধন্য । ২৪ ঘন্টার মধ্যে ৩/৪ ঘন্টা নিদ্রা ও বিশ্রামের সুযোগ পাই, বাকীটা কাজে ব্যয় করি । প্রবাসীদের দোয়ায় শরীর স্বাস্থ্য ঠিক থাকলে আমরা আপ্রান চেষ্টা করব নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজগুলো সমাপ্ত করতে ।

উল্লেখ্য, নতুন পাসপোট এবং আউট পাস প্রধানের নিমিত্তে ১৮ নং এক্সিটের নিকটে দুইটি এস্তেরাহ (কমিউনিটি সেন্টার) ভাড়া করে কার্য্যক্রম পরিচালনা করছে বিগত ২০ মে থেকে ।

সমস্যাগুলো নিয়ে আলাপ হয় কয়েকজন কর্মকর্মতার সাথে । তারা জানান, শুরুতে অনেক সমস্যা হলেও এখন তা অনেকাংশে কম । একজন প্রবাসী আউট পাস নিয়ে থাকলে আবার পাসপোটের আবেদন করবেন কেন ? পাসপোটের জন্য তারাই আবেদন করবেন যাদের পুরাতন মেয়াদোর্ত্তীন পাসপোট আছে কিংবা পাসপোট নাই আকামা আছে অথবা ফটোকপি আছে তারা । অর্থাৎ মেয়াদোর্ত্তীন, হুরুবকৃত, অথবা এক্সিটকৃত আকামা বা পাসপোট কিংবা এর ফটোকপি অথবা জাওয়াজাতের প্রিন্ট আছে । তারাই শুধু মাত্র নতুন পাসপোটের জন্য আবেদন করবেন । আউটপাস নিয়ে জাওয়াজাতে হাতের ছাপ দেওয়ার ১০ দিন পর এয়ারপোটে গেলে ফেরত আসতে হবে না । এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিমানকে নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে তারা টিকেট এজেন্সি গুলোকে জনাবেন । এতে করে সাধারন শ্রমজীবী প্রবাসীরা উপকৃত হবেন ।

কিছু অপেক্ষমান পাসপোট আবেদনকারী ক্ষোভের সাথে জানান, জরুরী পাসপোটের ফি জমা দিলেও তা যথা সময়ে প্রদান করছে না । আজকে যেইগুলো প্রদানের কথা তা দু‘দিন পরে দিবে বলছে । তাহলে জরুরী ফি নিবে কেন ? এই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেল একজন সেচ্ছাসেবকের ঘোষনা থেকে, তিনি বলছেন পাসপোটের কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না । আপনারা আগামীকাল আসুন ।

একজন কর্মকর্মতা জানান, যারা ৬ এপ্রিল ২০১৩ এর পরে পূর্বের মেয়াদোর্ত্তীন আকামা নবায়ন করেছেন তারাও এই সুযোগের আওতায় আসবেন ।

আগামী ৩ জুলাই পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে অবৈধদের বৈধ করার প্রশাসনিক তাগিদ দিয়েছে সৌদি সরকার । হাজার হাজার প্রবাসীদের ভীড়ে দূতাবাস কর্মকর্তাদের প্রতিদিনের নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করা সঠিকভাবে সম্ভব হচ্ছে না বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। দিন যতই এগিয়ে যাচ্ছে, প্রবাসীদের বৈধ পাসপোর্ট তৈরি করার জন্য কাজের ভীড়ে দূতাবাস কর্মকর্তারা কোনঠাসা হয়ে পড়ছেন। ইতিমধ্যে দূতাবাসকে সহযোগিতা করার জন্য প্রবাসে বাংলাদেশি স্কুল এবং কলেজ থেকে শিক্ষকরাও এগিয়ে এসেছেন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply