ঘোড়ামারা আশ্রায়ন প্রকল্পের বাসিন্দারা শিক্ষা চিকিৎসাসহ নানা সুবিধা থেকে বঞ্চিত

চাঁদপুর প্রতিনিধি:–

চাঁদপুর শহরের দক্ষিণ গুণরাজদীতে ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে অবস্থিত ঘোড়ামারা আশ্রায়ন প্রকল্পের প্রায় ৩ শতাধিক পরিবার শিক্ষা, চিকিৎসাসেবা সহ নানা সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে।

সরজমিনে দেখা যায়, যারা ঘোড়ামারা আশ্রায়ন প্রকল্পে বসবাস করছেন তাদের বেশির ভাগই দিনমজুর ও স্বল্প আয়ের মানুষ। উন্নত কোনো শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবার জন্য তাদের তেমন কোনো সামর্থ্য নেই। তাদের সুবিধার্থে সেখানে সরকারিভাবে গড়ে উঠেনি কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। তাই তারা প্রতিনিয়তই বঞ্চিত হচ্ছে বিভিন্ন সেবা থেকে।

এ আশ্রায়ন প্রকল্পে যদিও একটি বিদেশী এনজিওর তত্ত্বাবধানে আইসিও নামে একটি বেসরকারি ছোট স্কুল রয়েছে কিন্তু সঠিকভাবে তার কোনো কার্যক্রম নেই। একজন শিক্ষিকা নামেমাত্র সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত ক্লাস করিয়ে থাকেন। যদিও সেখানে উন্নত শিক্ষার জন্য আল-আমিন একাডেমীর ছাত্র শাখা রয়েছে, কিন্তু আশ্রায়ন প্রকল্পের মানুষের জন্য তা সামর্থ্যের বাইরে। তাই তারা বঞ্চিত হচ্ছে উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে। অপরদিকে সরকারি কোনো স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র না থাকায় তাদেরকে পড়তে হয় চরম বিপাকে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ সুমন ঢালী, আব্দুর রব বেপারী, জেসমিন বেগম, শাহানাজ বেগম, মাসুদ মিজি, সুফিয়া বেগম, মুক্তার হোসেনসহ বেশ ক’জন অভিযোগ করে বলেন, আমাদের এই আশ্রায়ন প্রকল্পে যদি কোনো লোক অসুস্থ হয়ে পড়ে এখান থেকে শহরে যাওয়ার জন্য রাস্তার ভালো ব্যবস্থা না থাকায় হাসপাতাল যেতে যেতে রোগীর অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়ে। শুধু তাই নয়, আমাদের এখান দিয়ে নদী ভাঙ্গন হচ্ছে। নদী ভাঙ্গন রোধে কোনো ব্যবস্থা নেই। নেই কোনো স্যানিটারী টয়লেটের ব্যবস্থা। পূর্বে টয়লেটগুলো স্যানিটারী সিস্টেমে নির্মাণ করা হয়েছে। সেগুলো ভেঙ্গেচুরে এখন খোলা টয়লেটে পরিণত হয়েছে। ময়লার দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। ভালো কোনো ধরনের ড্রেনেজ ব্যবস্থাও করা হয়নি।

বেশ ক’ বছর পূর্বে ঘোড়ামারা আশ্রায়ন প্রকল্পের ৫০টি পরিবারের মাঝে ব্যবসা করার জন্য ৫০টি মাছের খাঁচা দেয়া হয়। সেগুলোর ২৫ ভাগ বর্তমানে নদীতে ভেঙ্গে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তারা জানান, যাদেরকে এ খাঁচা দেয়া হয়েছে তারা কয়েক মাস হাইব্রিড তেলাপিয়া মাছের চাষ করার পর ব্যবসায় লোকসান দেখে তারা একটি সংস্থা হতে ৬ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে পুনরায় ব্যবসা শুরু করে। একইভাবে ব্যবসার অবনতি দেখে তারা মাছ চাষের ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়। পরে ঋণ শোধ করতে উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনুর শাহীন খানের মাধ্যমে ৩নং ওয়ার্ড মেম্বার সফিউল্লার কাছে তিন বছরের মেয়াদে একটি পুকুরসহ খাঁচাগুলো দেড় লাখ টাকায় টেন্ডারে লিজ দেয়।

অপরদিকে পাম চাষের জন্য বৃক্ষরোপণ করা হলেও সেগুলোও পড়ে আছে রক্ষণাবেক্ষণবিহীন। সবকিছু মিলিয়ে বর্তমানে ঘোড়ামারা আশ্রায়ন প্রকল্পটি অভিভাবক শূন্য হয়ে পড়ে আছে।

এমতাবস্থায় শিক্ষা, চিকিৎসা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, স্যানিটারী সিস্টেম টয়লেট এবং শহরমুখী ভালো রাস্তাসহ বিভিন্ন সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছেন প্রকল্পবাসীরা।

Check Also

যে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে : বিএনপি

চাঁদপুর প্রতিনিধি :– চাঁদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাধারণ সভায় বক্তারা বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম ...

Leave a Reply