নাঙ্গলকোট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নানা সংকটে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত

মোঃ আলাউদ্দিন, নাঙ্গলকোট :–

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক তীব্র জনবল সংকটে স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রায় ৪ লক্ষ মানুষ। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, ১৯৯৩ সালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি উদ্ভোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জনবল সংকটে ভুগে আসছে হাসপাতালটি। এছাড়াও রয়েছে আসবাবপত্র, এক্সরে মেশিনসহ নানা যান্ত্রিক সংকট। জানা গেছে, উদ্ভোধনকালে হাসপাতালটি ৩০ শয্যার হলেও বর্তমানে তা ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। কিন্তু বাড়েনি ওই পরিমাণ স্বাস্থ্য সেবার প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, লোকবল, আসবাবপত্র ও যন্ত্রপাতি। এখানে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোসহ ৩২ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও রয়েছে মাত্র ১০ জন। যার মাঝে মেডিসিন বিভাগে ২জন, অর্থপেডিক বিভাগে ২জন, গাইনি ৩জন, নাক-কান-গলা, দন্ত ও শিশু বিভাগে ১জন করে চিকিৎসক রয়েছে। ৪টি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মধ্যে শুধুমাত্র বক্সগঞ্জ উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ১ জন চিকিৎসক রয়েছে। এছাড়াও ১৫জন নার্সের পদে রয়েছে মাত্র ৭জন। ২জন নৈশ প্রহরী, ৬জন ফার্মাসিষ্ট, ১জন স্টোর কিপার, ২জন অফিস সহকারি ও ১জন পরিসংখ্যানের পদ সম্পূর্ণ শূণ্য রয়েছে। তবে ৬জন সুইপার পদে ২জন, ৫জন পিয়নের মধ্যে ২জন, ৩ জন ওয়ার্ডবয়ের মধ্যে ২জন কর্মরত রয়েছে। এ হাসপাতালে আসা রোগীদের এক্স-রে ও আল্ট্রাসোনোগ্রাফি বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিক থেকে করে আনতে দেখা যায়। এ প্রসঙ্গে ডাঃ অঞ্জন কুমার পাল জানান, আমাদের এক্স-রে যন্ত্রটি ১বছর ধরে বিকল হয়ে আছে এবং এক্স-রে টেকনেশিয়ানের একমাত্র পদটিও শূণ্য রয়েছে দীর্ঘ দিন।
অপরদিকে, উপজেলার গোহারুয়া গ্রামে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ২০শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটি বর্তমানে গো-চারন ভূমিতে পরিণত হয়েছে। গত জোট সরকারের আমলে সাবেক শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী আমান উল্যা আমান ও স্থানীয় সাংসদ আবদুল গফুর ভূঁইয়া হাসপাতালটি উদ্বোধন করে। কিন্তু তা উদ্বোধনের সাড়ে ৬ বছরেও চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে এ উপজেলার ৪ লক্ষ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সু-চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই দরিদ্র অসহায় মানুষ লাকসাম, কুমিল্ল¬া, ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে গিয়ে অধিক টাকা ব্যয় এবং সময় নষ্ট করে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছে।
স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানান, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, সরঞ্জাম ও জনবল সংকট নিরসনে কুমিল্লা সিভিল সার্জনের অফিস ও স্থানীয় প্রশাসন উদ্যোগ নিলে ভুক্তভোগী মানুষের দূর্ভোগ কিছুটা হলেও লাগব হবে। এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ লিয়াকত আলী জানিয়েছেন, আমরা বিভিন্ন সময়ে হাসপাতালের সমস্যা সমাধানে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি এবং গোহারুয়া হাসপাতালটির চালু করতে অধিদপ্তরকে একাধিকবার চিঠি লিখেছি। কিন্তু অধিদপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছেনা।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply