ড. মনিরুজ্জামানকে বাঁচাতে ফের স্থবির কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

কুবি প্রতিনিধি :–

শিক্ষক লাঞ্চনাকারী বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি ও বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামানকে বাঁচাতে আটঘাট বেধে নেমেছে ছাত্রদের একটি পক্ষ। এরই অংশ হিসেবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষকের বিরুদ্ধে উপস্থিত না থাকা সত্বেও নম্বর প্রদানের অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থবির হয়ে পড়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি)। বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো: মশিউর রহমান এর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠলে উত্তাল হয়ে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।
মঙ্গলবার শিক্ষার্থীরা মশিউর রহমানের শাস্তির দাবীতে তিনটি একাডেমিক ভবন সহ প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয়। জানা গেছে, মশিউর রহমান বিএনপি সমর্থিত শিক্ষক হওয়ায় শিক্ষক লাঞ্চনাকারী বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি ড. মনিরুজ্জামানকে বাঁচাতে শিক্ষকদের একটি মহল পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের নামিয়ে দেয়।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মো: মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। তারা আরও জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকবে, তবে পূর্ব নির্ধারিত সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা আন্দোলনের আওতামুক্ত থাকবে।
সূত্রে জানা যায়, কারাগারে আটক লোকপ্রশাসন বিভাগের ৫ম ব্যাচের ছাত্র আয়াতুল্লাহ বুখারী নামের এক শিক্ষার্থীকে সহকারী অধ্যাপক মশিউর রহমান কর্তৃক অভ্যন্তরীণ নম্বর দেয়ার অভিযোগ উঠে। আয়াতুল্লাহ বুখারী ছাত্র শিবিরের সমর্থক বলে জানা গেছে।
নম্বর প্রদানের বিষয়ে মশিউর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, কোর্স শিক্ষকের নম্বর নোটিশ বোর্ডে খসড়া টানিয়ে দেয়া হয়। এতে কারো অভিযোগ থাকলে পরবর্তীতে সংশোধন করে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে জমা দেয়া হয়। এক্ষত্রে যেটা হয়েছে তা হল, আমি ওই ব্যাচে রুরাল ডেভেলপমেন্ট কোর্স পড়াই। হাতে কলমে শিক্ষার জন্য বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) এ একটি প্রশিক্ষনের ব্যাবস্থা থাকে। যা ১৫ নম্বর ধরা হয়। এই নম্বরটি গড়ে সবাইকে দিয়ে দেয়া হয়। আমি আমাদের বিভাগের কম্পিউটার অপারেটরকে এই ১৫ নম্বর এর মধ্যে ৪ নম্বর এসাইনমেন্ট এবং ৮ নম্বর প্রেজেন্টেশনে সবার নামে বসিয়ে বাকি পরীক্ষার নম্বর যোগ করে নোটিশ বোর্ডে টানিয়ে দিতে বলি। এক্ষেত্রে অনুপস্থিত আয়তুল্লাাহ বুখারীর নামেও নম্বর যোগ হয়ে যায়। যা খসরা কপিতে অনিচ্ছাকৃত ভূল। পরর্তীতে বিষয়টি আমার নজরে আসলে আমি সংশোধন করে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে জমা দেই। এমনকি এ বিষয়টি সাথে সাথেই আমি বিভাগীয় প্রধানকে লিখিতভাবে জানাই।
জানতে চাইলে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রন অফিস থেকে জানানো হয়, সংশ্লিস্ট কোর্সের অভ্যন্তরীণ ৪০ নম্বররের কপি জমা দিয়েছেন। তবে আমরা খুলে দেখি না এখানে কার নম্বর আছে কি নাই। এটা কর্তৃপক্ষ যদি খুলে দেখার প্রয়োজন মনে করে তবেই দেখা হবে।
নোটিশ বোর্ডে সাটানো কপির ব্যাপারে জানানো হয়, খসরা কপি শিক্ষার্থীদের দেখার জন্য বোর্ডে টানানো হয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে সংযোজন কিংবা বিয়োজন করে আমাদের কাছে কোর্স শিক্ষকরা ফাইনাল কপি জমা দেয়।
লোকপ্রশাসন বিভাগের প্রধান মাসুদা কামাল জানান, উক্ত শিক্ষক আমাকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়েছেন। সংশোধন কপি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে। আর খসরা কপি বোর্ডে দেয়াই হয় শিক্ষার্থীদের দেখার জন্য।
জানতে চাওয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমান জানান, বিশ্ববিদ্যলয় প্রশাসন ইতিমধ্যে ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা করেছে। পরবর্তীতে আমরা সব কিছু জানাবো এখন পর্যন্ত এটা প্রক্রিয়াধীন আছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply