কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারজানা ছাত্রীনিবাসে চলছে সীমাহীন দুর্নীতি

রাসেল মাহমুদ, কুবি প্রতিনিধি:–

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী মেয়েদের বসবাসের জন্য একমাত্র মেস হিসেবে পরিচিত ফারজানা ছাত্রীনিবাস। এই ছাত্রীনিবাসটির মালিকের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীত আর অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন সেখানে বসবাসরত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুক্তভোগী ছাত্রীরা। আশেপাশের অন্যান্য মেসে মিল হিসেবে খাবারের নিয়ম চালু থাকলেও এখানে পুরো মাস না খেলেও তাদের কাছ থেকে পুরো মাসের খাবারের টাকা নেওয়া হয়। তিন তলাবিশিষ্ট এই ছাত্রীনিবাসের মালিক ও পরিচালক শাহ আলম মৈশান এলাকার প্রভাবশালী এক ব্যবসায়ী। শাহ আলম মৈশান বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ার পরিচালক হওয়ার সুবাদে ক্যাফিটেরিয়ায় সারা দিন বিক্রি শেষে যেসব খাবার অবশিষ্ট থাকে তা এখানকার ছাত্রীদের খেতে বাধ্য করেন, অধিকাংশ সময় দুর্গন্ধযুক্ত নস্ট খাবার দেওয়া হয়, রাতের বেলা প্রায়শই নিরামিষ এমনকি আলুভর্তা খেতে দেওয়া হয় বলে ছাত্রীদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। খাবারের মান খুবই খারাপ বলে ছাত্রীনিবাসের অনেকে বাহিরে খাবারের ব্যাবস্থা করেন। তবে মালিক ও পরিচালক শাহ আলম মৈশান এতে বিভিন্ন ভাবে তাদেরকে বাধা দেন বলে আভিযোগ রয়েছে। তারা এসব সমস্যা নিয়ে বারবার মেস মালিকের সাথে কথা বলেও কোন সমাধান পাননি। এমতাবস্তায় অনেকটা অসহায়ের মত তাদেরকে জীবন যাপন করতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছাত্রীনিবাসটিতে অবস্থানরত এক ছাত্রী জানান, হোস্টেল পরিচালক অনেক একরোখা। আমাদের কোন অভিযোগ তিনি মানতে চাননা,এখানকার নোংরা এবং নিন্মমানের খাবার খেতে আমাদের বাধ্য করেন। আমরা এর প্রতিকার চাই। তিন তলা এই ছাত্রী হোস্টেলটিতে চলছে ছয় তলা নির্মাণের কাজ। এই হোস্টেল ভবনটির একটি ফ্ল্যাটে পরিবার নিয়ে থাকেন শাহ আলম মৈশান, বাকি প্রতিটি ফ্ল্যাট থেকে ১৮০০০ হাজার টাকা করে ৪টি ফ্ল্যাট থেকে তার আয় হয় ৭২০০০ টাকা। এখানে প্রতি সিটের ভাড়া নেওয়া হয় ১৫০০ টাকা ও খাবারের জন্য নেওয়া হয় জন প্রতি ২৫০০ টাকা। বসবাসরত সব ছাত্রীদেরকে তিনি এখানে খাবার খেতে বাধ্য করেন। কেউ এক মিল খেলেও তাকে পুরো মাসের খাবারের টাকা দিতে হয়, কোন মিল ব্যাবস্থ নেই এই ছাত্রী হোস্টেলটিতে। এই ব্যাবসায়ীক প্রতিষ্ঠানটির নেই সিটি করপোরেশন বা পৌরসভার কোন অনুমোদন। এসব অভিযোগের ব্যাপারে ফারজানা ছাত্রীনিবাসের মালিক ও পরিচালক শাহ আলম মৈশানের সাথে কথা বললে তিনি আভিযোগ অস্বীকার করেন। ছাত্রীনিবাসটির সিটি করপোরেশন বা পৌরসভার অনুমোন আছে কি না এমন প্রশ্নে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেন নি। তিনি বলেন, “ আমি ছাত্রীদের অভিবাকদের সাথে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি সে আনুযায়ী কাজ করছি।” কথার এক পর্যায়ে তিনি সংবাদিকদের সাথে খারাপ ব্যাবহার করেন ও দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। সেখানে অবস্থানরত ছাত্রীরা এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply