কুমিল্লার মেঘনায় অবৈধ বালি উত্তোলন: বহু বাড়ি-ঘর বিলীন

শামীমা সুলতানা, দাউদকান্দি :–

মেঘনা উপজেলা চালীভাঙ্গা ইউনিয়নের রামপ্রাসাদেরচর গ্রামসহ ওই এলাকাবাসী অবৈধভাবে নদী থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন এবং নদী ভাঙন থেকে বাঁচতে চায়। তারা তাদের অবশিষ্ট বাড়ি-ঘর রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে।
জানা যায়, সরকারি ইজারাকৃত বালুমহল মেঘনা ও সোনারগাঁ উপজেলা নদীর মাঝখানে ইজারা নেয় শেলী আক্তার গং। কিন্তু তারা ওই নির্ধারিত স্থান ছাড়া চালীভাঙ্গা ইউনিয়নের রামপ্রাসাদেরচর গ্রাম বরাবর নদী থেকে অবৈধভাবে ১০/১৫টি ড্রেজার দিয়ে দীর্ঘদিন বালু উত্তোলন করে আসছে। যার ফলে, চালীভাঙ্গা ইউনিয়ন রামপ্রাসাদেরচর গ্রামসহ ওই এলাকার বহু মানুষ নিজেদের কৃষিজমি ও শত শত বাড়ি-ঘর হারিয়ে পথে বসছে। আর যাদের বাড়ি-ঘর ও কৃষিজমির কিছু অংশ বাকি রয়েছে তারা প্রতিনিয়তই তা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ভয়ে মানবেতর দিনযাপন করছে।
এব্যাপারে স্থানীয় চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির বলেন, ‘ভূমিদস্যুরা অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালি উত্তোলন বন্ধ না করলে চালীভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের ভবন ও বাড়ি-ঘর রক্ষা করা যাবে না। গ্রাম থেকে ৩/৪ হাজার ফুট দূরে নদী থেকে বালি উত্তোলন করার ইজারা দিয়েছে সরকার। কিন্তু রামপ্রাসাদেরচর গ্রাম থেকে ২/৩ শ ফুট দূরে নদী থেকে এক শ্রেণীর প্রভাবশালী সিন্ডিকেট অবৈধভাবে জোরপূর্বক বালি উত্তোলন করে প্রচুর অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে’।
গ্রামের সাধারণ জনগণ জানান, ‘বালি উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে বিভিন্ন মামলা-হামলা ও ভয়-ভীতি দেখিয়ে হয়রানী করা হয়। বাধাঁ দিতে গিয়ে অনেকের প্রাণও খোয়া গেছে বলে কেউ কেউ বলেন। আব্দুল বারী নামক এক ব্যক্তি জানান, ‘গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে একাধিক লিখিত অভিযোগ কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে। এমনকি আদালতেও মামলা করা হয়েছে। কিন্তু নদী ভাঙন থেকে শত শত বাড়ি-ঘর, কৃষিজমি রক্ষা করতে কেউ এগিয়ে আসেননি। প্রশাসন নীরব থাকার কারণে ভূমিদস্যুরা দীর্ঘদিন অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে’। এলকাবাসী ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘আর কত বাড়ি-ঘর ও কৃষিজমি নদী ভাঙনে বিলীন হলে এ অবৈধ বালি উত্তোলন বন্ধ হবে?

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply