মুরাদনগরের কোম্পানীগঞ্জ-নবীনগর সড়কের পাশের খালটি অপরিকল্পিত নির্মান ও দখলের ফলে চরম ভোগান্তিতে সাধারন মানুষ

মো: মোশাররফ হোসেন মনির, মুরাদনগর(কুমিল্লা):–

মুরাদনগরের কোম্পানীগঞ্জ-নবীনগর সড়কের পাশের সরকারী খালটি দখল হয়ে যাচ্ছে। দখল প্রবনতা ও দখলধারদের ক্ষমতা এতই বেশি যে সবাই যেন অসহায়। আর কতৃপক্ষের অবহেলায় দখলের প্রবনতা বেড়েই চলেছে।
মুরাদনগর উপজেলার প্রান কেন্দ্র হল ঐতিজ্যবাহী কোম্পানীগঞ্জ বাজার। এই কোম্পানীগঞ্জ বাজারের পয়নিস্কাসন ও কৃষকদের সেচ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এক মাত্র খালটি দখলধারদের কবলে পড়ে বেদখল হয়ে যাচ্ছে। কোথাও সারি সারি দোকান আবার কোথাও ’স’মিলের বিশাল বিশাল আকৃতির গাছ ফেলে খালটি পুরোপুরি বন্ধ কুরে ফেলা হয়েছে। দখলদারদের কবল থেকে রক্ষা পায়নি হিন্দু সম্প্রদায়ের মৃত্যূর পরের আশ্রয় শ্মশানটুকু। দখল যেন স্থানীয় কতিপয় অসাধু ব্যাক্তিদের রুটিন কার্যক্রম। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এই দখল কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে জানা যায়। এখানে রাত যেন আসে দখলের বার্তা নিয়ে। রাত হলেই বারে দখলের প্রবনতা। দিনের বেলায় খালি যায়গা থাকলেও রাত পেরিয়ে সকাল হলে দেখা যায় সেখানে নির্মিত হয়ে গেছে সুসজ্জিত দোকানপাট। যা দেখে অতি পরিচিত এই বাজারটি কে অপরিচিত ও অচেনা শহরের মত মনে হয়। । এসব দেখার যেন কেউ নেই। কোম্পানীগঞ্জ বাজারের পয়নিস্কাসনের এক মাত্র খালটি এই ভাবে দখল হয়ে যাওয়ায় একটু বৃষ্টি হলেই পানির নিচে তলিয়ে যায় বাজারের রাস্তাঘাট সহ নিচু নিচু দোকান পাট। আর ভোগান্তিতে পড়েন ক্রেতা এবং বিক্রেতা সবাই।
স্থানীয় ব্যাবসায়ীরা জানান, একটু বৃষ্টিতে রাস্তায় পানি জমে যাওয়ার ফলে আমাদের দোকানে ক্রেতা আসেনা। আমাদের ভাল বেচাকেনা হয় না। অপরদিকে ক্রেতারা অভিযোগ করে বলেন এই উপজেলার মধ্যে কোম্পানীগঞ্জ বাজারটি হল সবচেয়ে বড় বাজার। এত বড় বাজারে ভাল ড্রেনেজ ব্যাবস্থা নেই যার ফলে আমরা বাজার করতে এসে নানান ধরনে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। আমরা এই পরিস্থিতির সমাধান চাই।
ভোগান্তির এখানেই শেষ নয় এই খালটি দখল হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন নগরপাড়, কুলুবাড়ী ও বাখরনগর গ্রামের সাধারন কৃষক। যারা এই খালটির মাধ্যমে গোমতী নদী থেকে পানি এনে তাদের সেচ এর কার্যক্রম পরিচালনা করতেন তাদের দুর্ভোগের অন্ত নেই।
কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন এই খালটি বন্ধ হওয়ার ফলে আমরা আমাদের জমি গুলো নিয়ে বিপদের মধ্যে আছি,আমরা আপনাদের কাছে অনুরোধ করছি যেভাবে হোক এই খালটি দখলদারদের কবল থেকে উদ্ধার করে আমাদেরকে জমি গুলো চাষ করার ব্যাবস্থা করে আমাদের কে বাচান। আমাদেরকে জমি গুলো চাষ করতে না পারলে আমরা না খেয়ে মারা যাব।
এব্যাপারে নবী পুর পূর্ব ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা লুৎফর রহমান জানান, দখলদারদের বিরুদ্বে আদালতে ও হাইকোর্টে মামলা চলমান আছে এবং মামলা পরবর্তী আদেশ অনুযায়ী ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply