প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত চাঁদপুরে শিশু পার্কের উদ্যোগ মাঝপথে থেমে আছে

চাঁদপুর প্রতিনিধি:–

চাঁদপুর পৌরসভার উদ্যোগে শহরে শিশু পার্ক করার উদ্যোগ নেয়া হলেও কাজ চলছে খুবই ধীর গতিতে। পৌর মেয়র নাছির উদ্দিন আহামেদ ১৫ একর জায়গা চিহ্নিত করেছেন শিশু পার্কের জন্যে। কিন্তু কাজের ধীরগতির কারণে এটি আলোর মুখ দেখতে আরো অনেক সময় লাগবে। অথচ এটি প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত একটি উন্নয়ন প্রকল্প। দুই থেকে আড়াই বছর আগে এটির উদ্যোগ নেয়া হলেও এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ ক্ষেত্রে কিছুটা অমনোযোগী বা গাফিলতি লক্ষ করা গেছে। তবে মেয়র কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিতে ওই কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন।

নানা দিক দিয়ে চাঁদপুর অত্যন্ত প্রসিদ্ধ একটি জেলা। মেঘনা-ডাকাতিয়ার কোল ঘেঁষে এই জেলাটি নানা দিক দিয়ে ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে। শিক্ষা, সংস্কৃতি, খেলাধুলা, রাজনীতিসহ আরো অনেক দিক দিয়ে এই জেলার যথেষ্ট খ্যাতি রয়েছে। তবে বিনোদন বা অবকাশ যাপনের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আছে এই জেলাটি। ২৫ লক্ষাধিক মানুষের অধ্যুষিত এই জেলাটি আগে কুমিল্লা জেলার অন্তর্ভুক্ত চাঁদপুর মহকুমা ছিলো। ১৯৮৪ সালে এটিindex জেলা থেকে পৃথক হয়ে চাঁদপুর জেলা রূপে আত্মপ্রকাশ ঘটে। জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত তিনটি রাজনৈতিক দলের শাসন পার করেছে এই জেলা। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সরকার ছিলো দু’বার। তিনটি রাজনৈতিক দলের শাসনামলেই চাঁদপুর থেকে সরকারের মন্ত্রণালয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীত্ব ছিলো। শুধু মন্ত্রীই নয়, প্রধানমন্ত্রী পর্যনত্দ ছিলেন চাঁদপুরের। তবে সে তুলনায় সার্বিক দিক দিয়ে চাঁদপুরের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। এই ২৯ বছরে চাঁদপুরে যেসব উন্নয়ন হয়েছে এর সিংহভাগই দুইবারের আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হয়েছে। তবে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়েছে বর্তমান সরকারের সময়।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাঁদপুরে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মধ্যে একটি শিশু পার্ক করার প্রতিশ্রুতি ছিলো। ২০১০ সালের এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী যখন চাঁদপুর আসেন তখন তিনি যেসব উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তার মধ্যে শিশু পার্ক একটি। তাঁর প্রতিশ্রুতির পর চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র নাছির উদ্দিন আহামেদ বেশ উদ্যোগী হন চাঁদপুর পৌর এলাকায় একটি আধুনিক মানের শিশু পার্ক করার জন্যে। তিনি মূল শহরের বাইরে গিয়ে পৌরসভার বর্ধিত এলাকায় নদীর পাড়ের একটি জায়গা বেছে নেন। তিনি চাঁদপুর-ফরিদগঞ্জ সেতুর উত্তর পাড়ে ডাকাতিয়া নদীর পাশে ঘোড়ামারা আশ্রায়ন প্রকল্পের সাথে একটি জায়গা চিহ্নিত করেন শিশু পার্কের জন্যে। এখানে তিনি ১৫ একর জায়গা চিহ্নিত করেন। যা অধিগ্রহণ করতে ৮৫ থেকে ৮৭ কোটি টাকা লাগবে। এই জায়গার নকশা করে জমি অধিগ্রহণ বাবদ অর্থ চাহিদাসহ ডিপিপি তৈরি করে পৌরসভা থেকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পরিকল্পনা কমিশনের একজন জয়েন্ট চীফ রয়েছেন। তিনি ডিপিপিটি পর্যবেৰণ করে তা চাঁদপুর পৌরসভায় ফেরৎ পাঠিয়ে দেন পুনরায় ডিপিপি তৈরি করে তা দাখিল করার জন্যে। বর্তমানে এটি এ পর্যায়েই রয়েছে। অর্থাৎ পুনরায় ডিপিপি তৈরি করে এখনো পাঠানো হয়নি।

পৌরসভায় গিয়ে মেয়র নাছির উদ্দিন আহামেদের কাছে শিশু পার্কের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। তখন তিনি পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ও সহকারী প্রকৌশলীকে ডেকে এনে শিশু পার্কের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে জানেন। তখন তিনি তাদেরকে পুনরায় ডিপিপি তৈরি করে সহসা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেন। জানা গেছে, এই ডিপিপি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে পরিকল্পনা কমিশনে যাবে। সেখান থেকে একনেকে পাঠানো হবে। একনেকের বৈঠকে উঠলে এটি প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত প্রকল্প হিসেবে পাস হবে বলে আশাবাদী পৌর মেয়র। তবে সময় অনেক গড়িয়ে গেছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply