বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে যাবে নাতো?

স্টাফ রিপোর্টার:–
বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে যাবে নাতো? দখলদারদের নানা তৎপরতায় এমন প্রশ্নই দেখা দিয়েছে বুধল-জংগলীসার গ্রামের মানুষের মাঝে। ভুমিদসুৎরা বিদ্যালয়ের জায়গাটি গ্রাস করতে ইতিমধ্যে বিদ্যালয়ের মাঠ আর আশপাশের জায়গা নানা ভাবে নিজেদের দখলে নিয়েছে। বাশের স্তুপ ফেলে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের পানি খাওয়ার পথও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। নলকূপটি চাপা পড়েছে বাশ ব্যবসায়ীর বাশের স্তুপের নিচে। বিদ্যালয়ের মাঠে বনের কুঞ্জি, লাকড়ীর স্তুপ ফেলে যথেচ্ছার করা হচ্ছে। পাশের রাস্তায় ইটের ¯তুপ। বিদ্যালয়ের জায়গাটি নিজেদের দখলে নিতে অক্টোপাশের মতোই থাবা ফেলেছে ভূমিদসুৎরা। গ্রামের মানুষ জানান,এমনটি নতুন নয় এর আগে বিদ্যালয়ের
টেবিল, চেয়ার, বেঞ্চ, ব্ল্যাকবোর্ড, দরজা-জানালা ও বেড়া ভেঙ্গে ফেলে দেয়া হয়। তখন বিদ্যালয়ের দেড় শতাধিক শিশু শিক্ষার্থীকে ক্লাস করতে হয় খোলা আকাশের নিচে। গতকাল বুধবার সরজমিনে বিদ্যালয়টিতে গেলে এর মাঠে দাড়িয়ে আবদুল কুদ্দুস নামের একজনকে বলতে শুনা যায় আর ক’দিন পর ইসকুলে তালা মাইরা দিমু। এমন অবস্থায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে আসা ছেড়ে দিয়েছে। জানা যায়, জঙ্গলীসার গ্রামের ৩১৯ দাগের ১০ শতক পরিমান ডুবা ভরাট করে সেখানে গ্রামবাসীরা নিজ উদ্যোগে টিনশেড একটি ঘরে বেসরকারি এই প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করে। ২০০৪ সালের ১ জানুয়ারি ১৫০ শিক্ষার্থী ও চার জন নারী শিক্ষক নিয়ে বিদ্যালয়টির যাত্রা শুরু হয়। পরে ওই জায়গা স্থায়ী বন্দোবস্ত পেতে গত ২০০৬ সালের ২০ জুন বিদ্যালয়টির তৎকালীন প্রধান শিক্ষক মরিয়ম আক্তার জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করেন। ওই বছরের ২৯ আগস্ট স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা তদন্তপূর্বক জায়গাটি বন্দোবস্ত দেওয়ার ব্যাপারে সদর উপজেলার সহকারি কমিশনারের (ভূমি) নিকট সুপারিশ প্রতিবেদন জমা দেন। একই বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে কৃষি খাস জমি ব্যবস্থাপনা ও বন্দোবস্ত কমিটির সভায় এ জায়গাটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনুকুলে অকৃষি নীতিমালা অনুযায়ি শ্রেণী পরিবর্তন সাপেক্ষে বন্দোবস্ত দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এরপর সেখানে আরেকটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করা হয়। কিন্তু জায়গাটি বুধল বাজারের পাশে হওয়ায় সময়ের পরিবর্তনে এর অনেক মুল্য বেড়ে যাওয়ায় ভূমিদস্যুদের নজর পড়ে এই জায়গার ওপর। তাদের একজন আবদুল সাত্তার। বিদ্যালয়ের জায়গাটি খাস জমি বলে তিনি স্বীকার করলেও বলেন তার পূর্ব পুরুষরা এই জায়গা ভোগ দখল করেছেন। সোজা কথা সেজন্যে জায়গাটি তার চাই। এর আগে খাস এই জায়গাটি মরা গরু ফেলার স্থান ছিল বলে জানান সাত্তার মিয়া। তার সঙ্গে এই দখল তৎপরতায় জড়িত জামাল মিয়া,মোমিন মিয়া,গিয়াস উদ্দিন,কুদ্দুস মিয়া,মন মিয়া,মতি মিয়া,জামাল মিয়া। খোজ নিয়ে জানা গেছে,তাদের মধ্যে গিয়াস উদ্দিন ও সাত্তার মিয়া জায়গাটিতে মার্কেট নির্মাণের উদ্দেশ্যে ওই বিদ্যালয়ের জায়গা স্থায়ী বন্দোবস্ত নিতে গত বছরের ৪ জুলাই জেলা প্রশাসক বরাবর একটি আবেদন করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, পাশের দাগের (৩১৮ দাগ) জমি তাদের। তাই জায়গাটি স্থায়ীভাবে বন্দোবস্ত পাওয়া তাদের অগ্রাধিকার।
আবেদনের প্রেক্ষিতে তদন্ত করে সেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়ায় জেলা প্রশাসক তাদের আবেদন নাকচ করে দেন।
প্রশাসনিকভাবে সাড়া না পেয়ে ওই দুই ব্যক্তি গ্রামের কিছু টাউটদের সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়টি উচ্ছেদের ষড়যন্ত্রে নেমে পড়ে। গত বছরের ২৭ আগস্ট তারা বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তায় জোরপূর্বক আধা পাকা দোকানঘর নির্মাণ করে। পরে বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানালে তার নির্দেশে একজন ম্যাজিস্ট্রেট গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর এসব স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলেন। এর জের ধরে ওই বছরের ২৫ নভেম্বর তারা বিদ্যালয়ে সন্ত্রাসী হামলা করেন। এ ঘটনায় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি জাহের মিয়া বাদি হয়ে গিয়াস উদ্দিন ও সাত্তার মিয়াসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মূখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে মামলা করেন। গতকাল বুধবার সরজমিনে সেখানে গিয়ে দেখা যায় নানা মালপত্র ফেলে বিদ্যালয়ের জায়গাটি দখল করার চেষ্টা হচ্ছে। বিদ্যালয়ের মাঠে ফেলা হয়েছে বাশের স্তুপ। আর এর নিচে চাপা পড়েছে বিদ্যালয়টির নলকূপ। বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে ঈদগাহ মাঠে যাওয়ার একটি রাস্তা বন্ধ করা হয়েছে ইটের স্তুপ করে। গ্রামবাসী জানান,এদিক দিয়ে রাস্তাটি বন্ধ করে দিতে রাস্তাটির মুখেই সাত্তার গং মানুষের কবর দিয়েছে। বিদ্যালয়টির পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবু জাহের মিয়া বলেন পুরো গ্রামের মানুষ মিলে এই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেছে। গ্রামবাসীর টাকায় মাটি ভরাট করা হয়েছে। তারাই চাদা দিয়ে শিক্ষকদের বেতনের সংস্থান করেছেন। কয়েকমাস আগে সরকারী ভাবে জায়গাটি দখলমুক্ত করে দেয়া হয়। এখন আবার এটি দখলের চেষ্টায় নানা তৎপরতা চালানো হচ্ছে। তিনি বিদ্যালয়টিকে রক্ষার জন্যে সরকারের কাছে আবেদন জানান। বারবার এই অবস্থার কারনে শঙ্কা দেখা দিয়েছে এর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে। প্রায় অর্ধশত ছাত্রছাত্রী বিদ্যালয় ছেড়ে চলে গেছে।

Check Also

আশুগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি :– ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মো. হারুন মিয়া (৪৫) নামে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির ...

Leave a Reply