হাতিয়ায় আঘাত হেনেছে ‘মহাসেন’

নোয়াখালী :–
প্রচণ্ড বেগে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় ‘মহাসেন’। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে হাতিয়ার সাগর ও নদী সংলগ্ন চরের ওপর দিয়ে ‘মহাসেন’ ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার বেগে বয়ে যাচ্ছে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ওই এলাকার অসংখ্য কাঁচা ঘরবাড়ি ও গাছপালা ভেঙে পড়ছে।

এদিকে, ঘূর্ণিঝড় ‘মহাসেন’ উপকূল থেকে ৪০০ কিলোমিটারের মতো দূরে থাকলেও এর প্রভাবে দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্বের জেলাগুলোতে দমকা বাতাসের সঙ্গে চলছে ভারী বর্ষণ। ঝড়ের বর্ধিতাংশের প্রভাবে বাতাসের বেগ বাড়তে থাকায় পটুয়াখালীতে শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সাগরের পানি বেড়ে যাওয়ায় উপকূলীয় জেলাগুলোর নিচু এলাকা তালিয়ে গেছে দুই থেকে তিন ফুট পানির নিচে। তবে এসব এলাকার প্রায় ১০ লাখ বাসিন্দাকে বুধবার রাতেই নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

উপকূলের কাছাকাছি এলে সাধারণত ঘূর্ণিঝড়ের গতি বাড়লেও মহাসেনের ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকালে আবহাওয়া অধিদফতরের বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, ঝড়টি বৃহস্পতিবার দুপুর নাগাদ উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

চট্রগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে আগের মতোই ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর। আর মংলা বন্দরকে দেখাতে বলা হয়েছে ৫ নম্বর বিপদ সংকেত।

বুলেটিনে আরও বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম থেকে ৪৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। কক্সবাজার থেকে এর দূরত্ব ছিল ৩৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে। মংলা সমুদ্র বন্দর থেকে এটি ৩২০ কিলোমিটার দক্ষিণে ছিল। ঝড়টি ঘনীভূত হয়ে আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে পটুয়াখালীর খেপুপাড়া থেকে কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা ঝড়ো হাওয়ার আকারে বেড়ে ৯০ কিলোমিটারে উঠছে। ঝড়ের কেন্দ্রের কাছে সাগর রয়েছে উত্তাল।

উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল জেলা এবং অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ৭ নম্বর সঙ্কেতের আওতায় রয়েছে।

পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা জেলা এবং এর অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোতে পাঁচ নম্বর সঙ্কেত প্রযোজ্য হবে।

উপকূল অতিক্রম করার পরও ঝড় পুরোপুরি সরে না যাওয়া পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন অধিদফতর।

উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা, ট্রলার এবং সমুদ্রগামী জাহাজকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে। ঝড়ের প্রভাবে চট্টগ্রাম বিভাগে পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে বলেও সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদফতর।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply