চান্দিনা আল-আমিন কামিল মাদ্রাসায় ফলাফল বিপর্যয়: পরীক্ষার্থীদের দোষ দিলেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ

মাসুমুর রহমান মাসুদ, চান্দিনা :–

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা সদরে অবস্থিত উপজেলার মাদ্রাসা শিক্ষার সর্ববৃহৎ প্রতিষ্ঠান চান্দিনা আল-আমিন ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসায় এবারের দাখিল পরীক্ষায় ফলাফল বিপর্যয় হয়েছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবারের ফলাফলে শিক্ষার্থী-অভিভাবকসহ এলাকাবাসী হতাশা প্রকাশ করেছে। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এর কোন সঠিক কারণ জানাতে পারেননি। শুধুমাত্র পরীক্ষার্থীদের দোষ দিয়ে দায় মুক্ত হয়েছেন তিনি।
বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ঢাকা’র অধীনে অনুষ্ঠিত দাখিল পরীক্ষায় এবছর ওই মাদ্রাসায় পাশের হার ৫৪%। এবছর দাখিল পরীক্ষায় ওই মাদ্রাসা থেকে মাত্র ২৬ জন ছাত্র-ছাত্রী অংশ গ্রহণ করে। এর মধ্যে ১১ জন ফেল করে এবং ১ জন অনুপস্থিত থাকে। এদিকে বিজ্ঞান বিভাগের ১১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯ জনই ফেল করেছে। যা অত্যন্ত হতাশাজনক বলে একাধিক পরীক্ষার্থীর অভিভাবকরা জানিয়েছেন।
সরেজমিনে ওই প্রতিষ্ঠানের বিগত দিনের ফলাফল পর্যবেক্ষণ করে জানাগেছে, দাখিল, আলিম, ফাযিল, কামিলসহ বিভিন্ন পরীক্ষায় ওই মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসা বোর্ডের সম্মিলিত মেধা তালিকায় সর্বোচ্চ ফলাফল করেও রেকর্ড করেছিল। গত ২০১২ সালে দাখিল পরীক্ষায় ৪৭ জন পরীক্ষা দিয়ে ৪৫ জন পাশ করে। এদের মধ্যে ৭ জন জিপিএ-৫ পায়। এর আগে ২০১১ সালে ২৬ জন দাখিল পরীক্ষা দিয়ে ২৫ জন পাশ করে। এদের মধ্যে ৪ জন জিপিএ-৫ লাভ করে।
ওই মাদ্রাসার প্রাক্তন ছাত্র মো. ফয়জুল্লাহ্ জানান, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ঢাকা’র অধীনে ১৯৯২ সালে দাখিল পরীক্ষায় তিনি সম্মিলিত মেধা তালিকায় ১ম স্থান, ১৯৯৪ সালে আলিম পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধা তালিকায় ৩য় স্থান, এবং ১৯৯৬ সালে ফাযিল (ডিগ্রি) পরীক্ষা দিয়ে সম্মিলিত মেধা তালিকায় ৮ম স্থান লাভ করেছিলেন।
মাদ্রাসার প্রভাষক মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী জানান, আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা বদরপুর ফাযিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে পরীক্ষা দেয়। এটিও একটি ফলাফল বিপর্যয়ে কারণ।
এ ব্যাপারে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা রুহুল আমিন জানান, নির্বাচনী পরীক্ষায় যারা পাশ করেছিল তাদেরকে আমরা পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের সুযোগ দিয়েছি। এছাড়া ১-২ বিষয়ে ফেল করেছে এমন কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রীও পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। শিক্ষার্থীদের গাফিলতিই ওই ফলাফলের মূল কারণ।
অপরদিকে মাদ্রাসাটিতে ইবতেদায়ী সমাপনী, জেডিসি, দাখিল, আলিম, ফাযিল, কামিলসহ মোট ৬টি পাবলিক পরীক্ষার কেন্দ্র রয়েছে। কিন্তু এর কারণে ফলাফল বিপর্যয় হচ্ছে না বলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দাবি করেন। তিনি বলেন, পরীক্ষার ফাঁকে যে বন্ধ থাকে ওই সময় আমরা ক্লাস চালু রাখি। জানাগেছে, মাদ্রাসাটিতে ইবতেদায়ী থেকে কামিল পর্যন্ত মোট ২৮ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা, প্রভাষক রয়েছেন। এছাড়া ৮ জন কর্মচারী রয়েছেন। এতজন শিক্ষক-শিক্ষিকা থাকা সত্ত্বেও ওই ফলাফলে এলাকাবাসী বিষ্ময় প্রকাশ করেছে।
বর্তমানে মাদ্রাসাটিতে আরবি, বাংলা প্রভাষক, বিপিএড, কৃষি শিক্ষা, কম্পিউটার শিক্ষার শিক্ষক, ইবতেদায়ী প্রধান, ইবতেদায়ী ক্বারীসহ মোট ৭ টি শূন্যপদ রয়েছে। কিন্তু নানা সমস্যার কারণে ওই পদগুলোতে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply