দেবিদ্বারে স্বামী হত্যার চেষ্টার উদ্দেশ্য ছিল : স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি দখল শেষে প্রেমিকের হাত ধরে পলায়ন !

মোঃ আমির হোসেন আমু,দেবিদ্বার :–

দেবিদ্বারে পরকীয়ায় বাঁধাদানে ক্ষুব্ধ স্ত্রী কানিজ ফাতেমা তার স্বামী মোঃ রফিকুল ইসলামকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার চেষ্টার পেছনের কারন ছিল নগদ টাকা ও স্থাবর সম্পত্তি দখলে ষড়যন্ত্রের অংশ। চাঞ্চল্যকর এ মামলার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে। পুলিশ কানিজ ফাতেমা ও তার প্রেমিক হৃদয়ের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে এবিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন। পুলিশের ধারনা এ ষড়যন্ত্রের পেছনে কানিজ ফাতেমার আরো একাধিক প্রেমিক ও পরিবারের কেউ জড়িত থাকতে পারে। তবে স্বামী রফিককে হত্যা ও স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি আত্মসাতের পর কার হাত ধরে কানিজ পলায়ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সে বিষয়ে পুলিশ নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেনি। আহত রফিকুল ইসলাম সুস্থ্য হওয়ার পর তার সাথে কথা বলার পরই আসল রহস্য উন্মোচন করতে পারবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ইতিমধ্যে পুলিশ গত সোমবার দুপুরে কানিজ ফাতেমার সহযোগীতায় স্বামী হত্যার পরিকল্পনাকারী নবাগত প্রেমিক কুমিল্লা মহানগরের ইষ্টার্ণ ইয়াকুব প্লাজার কাপড় ব্যবসায়ি আব্দুল হাই ওরফে হৃদয়ের গ্রেফতার করেছে। অপরদিকে পলাতক দেবিদ্বার সদরের স্বর্ণ ব্যবসায়ি ‘আপন জুয়েলার্স’র আপনসহ একাধিক প্রেমিকের সন্ধানে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। কুমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত রফিকুল ইসলাম বলেন, চান্দিনা উপজেলা সদরের জমি বিক্রির ৪২লক্ষ টাকা আমার শ্বাশুরী রানু বেগম’র ও স্ত্রী কানিজ ফাতেমা তার নিজস্ব ব্যাংক হিসাবে রাখার চেষ্টা করেছিল, ওই টাকা নিয়ে প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়ে যাওয়ার ষড়যন্ত্র ছিল বলেও জানা যায়। সে টাকা আমার ব্যাংক হিসাবে রাখার কারনে সে ক্ষুব্ধ ছিল। অপরদিকে আমার শ্বশুর বিশিষ্ট আ’লীগ নেতা ও ৯নং গুনাইঘর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ খোরশেদ আলম নির্বাচনের সময় ৩০লক্ষ টাকা ধার নিয়েছে। গুনাইঘর গ্রামে ৭শতাংশ জমি ৪২লক্ষ টাকায় ক্রয় করলেও শ্বাশুরী রানু বেগম কৌশলে তার নিজ নামে দলিল করিয়ে নেয়। সর্বশেষ শ্বশুর আমার কাছ থেকে ধার নেয়া ৩লক্ষ টাকা ফেরত দিলে শ্বাশুরী ষড়যন্ত্র করে ওই টাকা কানিজ ফাতেমার ব্যাংক হিসাবে জমা দেয়ায় উক্ত টাকা পেয়ে কানিজ আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে। এছাড়া বসবাসকারী ৩য় তলা বাড়িটি স্ত্রী নিজ নামে লিখে নেওয়ার জন্য জোরালো চেষ্টা করারও অভিযোগ রয়েছে।
প্রায় ৫বছর পূর্বে উপজেলার গুনাইঘর(উঃ) ইউপি চেয়ারম্যান ও আ’লীগ নেতা মোঃ খোরশেদ আলমের মেয়ে কানিজ ফাতেমার সাথে একই উপজেলার মোহনপুর গ্রামের হাজী জুনাব আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম বিয়ে হয়। কানিজ ফাতেমা প্রায় ৮মাস পূর্বে জিন্স প্যান্ট কিনতে গিয়ে কুমিল্লা ইষ্টার্ণ ইয়াকুব প্লাজার জিন্স পয়েন্ট এর মালিক আঃ হাই ওরফে হৃদয়ের সাথে পরিচয় হয়। এরপর দু’জনের মধ্যে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক হয়। একাধিকবার তাদের একান্তভাবে দেখা সাক্ষাত হয়েছে। প্রেমিকের প্ররোচনায় পরকীয়া প্রেমে বিজয় ও সম্পত্তি দখলের জন্য স্ত্রী কানিজ ফাতেমা গত শুক্রবার দিবাগত রাত প্রায় ২টায় দেবিদ্বার পৌর এলাকাধীন পূর্বাশা আবাসিক এলাকায় নিজ বাসায় স্বামীকে হত্যার চেষ্টা চালায়। বর্তমানে রফিক কুমেক হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply