সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য সুসংবাদ

সাগর চৌধূরী, সৌদি আরব প্রতিনিধি :–

সুসংবাদ সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য, যারা বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের অন্যতম । এখন পর্যন্ত এ দেশে সর্বাধিক বাংলাদেশী কর্মী কাজ করছে । কিন্তু বিগত তত্বাবধায়ক সরকারের সময় দেশটির সাথে সম্পর্কের টানাপোড়ন ঘটে । যার ফলে শুধু মাত্র বাংলাদেশীরা বঞ্চিত হয় স্পন্সরশীপ পরির্বতন (তানাজ্জল বা নাকাল কপালা), পেশা পরিবর্তন, ভিজিট ভিসা, ফ্যামিলি ভিসা, হুরুপ কাটানো (কপিল থেকে পলাতক হওয়ার সাধারন ডায়েরি) সুবিধা থেকে । যার ভুক্তভোগী কয়েক লক্ষ শ্রমজীবী মানুষ । এরপর থেকে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হয় এ সকল সমস্যা সমাধান কল্পে । প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্টমন্ত্রী, বৈদিশিক কর্মসংস্হানমন্ত্রী সহ বেশ কয়েকটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল দফায় দফায় বৈঠক করে সৌদি সরকারের সাথে । দূর্ভাগ্যবশত সংকট নিরশনের পথ বন্ধুর হয়ে যায় । বৈধ পথে পাসপোট ভিসা নিয়ে এই দেশে আসা সত্বেও শ্রমীকরা হয়ে যায় অবৈধ । আবার মরার উপর খাড়ার ঘা হয়ে আসে নতুন সৌদি আইন নিতীকাত (সৌদিকরন) প্রকল্প । নির্দিষ্ট সংখ্যক সৌদি কর্মী নিয়োগ দেওয়ার এ আইন অমান্যকারী কোম্পানীগুলো জাতীয় ডাটাবেজে লাল হওয়ায় তাদের আকামা (রেসিড্যান্স ভিসা) নবায়ন সয়ংক্রীয় ভাবে বন্ধ হয়ে যায় ।

পররাষ্টমন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি গত সপ্তাহে গনমাধ্যমকে বলেছিলেন সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য সুখবর আসছে । মহান আল্লাহর রহমতে রাজকীয় সৌদি সরকার অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশী শ্রমীকদেরও সাধারন ক্ষমা ঘোষনা করেন ।

দূতাবাস, কনস্যুলেট অফিস, স্থানীয় লেবার অফিসে গিয়ে যোগাযোগ করতে প্রবাসীদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস। এছাড়াও সৌদি শ্রম মন্ত্রনালয় (www.mol.gov.sa) সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের (www.moi.gov.sa) নিজস্ব ওয়েব সাইট থেকে বিস্তারিত জানা ও অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করা যাবে।

আনন্দের বন্যা বয়ে যায় সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশীদের মাঝে । বাংলাদেশে অবস্হানরত প্রবাসীদের আত্বীয় স্বজনরা খোজ খবর নিতে থাকেন কবে কখন ঘোষনাটি কার্য্যকর হয় ।

সৌদি আরবের বাদশা আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজীজ বিন সৌদ এবং ক্রাউন প্রিন্স সোলায়মান বিন আব্দুল আজীজ বিন সৌদকে বাংলাদেশ সরকার ও জনগনের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান দেশটিতে নিয়োজিত রাষ্ট্রদূত শহীদুল ইসলাম ।

সাধারন ক্ষমার বিস্তারিত অবহিত করনের লক্ষে রিয়দস্হ বাংলাদেশ দূতাবাসে আয়োজন করা হয় মতবিনিময় সভার । এতে রাষ্ট্রদূত শহীদুল ইসলাম সৌদি সরকার ঘোষিত তথ্যটি বিস্তারিত তুলে ধরেন উপস্হিত সাংবাদিক, কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তি বর্গ ও কর্মজীবীদের কাছে ।

সৌদি সরকার ঘোষিত বৈধ হওয়ার সুযোগ সমূহ নিম্নে দেওয়া হলো,

১. যারা বৈধ হওয়ার সুযোগ পাবেন :
৬ এপ্রিল ২০১৩ তারিখের পূর্বে যাদের ওর্য়াক পারমিট এবং আকামা বৈধতা হারিয়েছে ।
তাদের কোনো জরিমানা কিংবা শাস্তি হবে না, বরং তারা নিয়োগকর্তার নিকট ফেরত যেতে পারবেন । এবং নিয়োগকর্তার বিনা অনুমতিতে অন্য নিয়োগকর্তার নিকট ট্রান্সফার হতে পারবেন ।

২.নিয়োগকর্তা কর্তৃক পলাতক ঘোষিত(হুরুব):
যেসকল প্রবাসী কর্মী নিয়োগকর্তা কর্তৃক পলাতক ঘোষিত (হুরুব) তাদের পারস্পারিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা । অথবা নতুন নিয়োগকর্তার নিকট ট্রান্সফার হতে পারবেন আগের নিয়োগকর্তার বিনা অনুমতিতে ।
নিয়োগকর্তার সাথে অধিকার কিংবা পাওনা সংক্রান্ত কোনো সমস্যা থাকলে তা সংশ্লিষ্ট বিচার কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সমাধান করতে হবে ।
ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে গৃহকর্মীগন জাওয়াজাতের (পাসপোট ও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ) বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মীগন মকতবুল আমেল (শ্রমঅফিস) এর মাধ্যমে ট্রান্সফার হতে পারবেন ।

৩. যাদের কপিল নেই :
কোনো বিদেশী বিনিয়োগকারী সৌদি আরব থেকে ফাইনাল এক্সিটে চলে গেলে এবং তার কোনো প্রতিনিধি পাওয়া না গেলে তার অধীনে যে সকল প্রবাসী কর্মরত রয়েছেন তারা নতুন নিয়োগকর্তার নিকট ট্রান্সফার অথবা ফাইনাল এক্সিটে যেতে পারবেন আগের নিয়োগকর্তার বিনা অনুমতিতে ।

৪. হজ ও ওমরাহ ভিসায় অবৈধ ভাবে অবস্হানকারী :
৩ জুন ২০০৮ তারিখের পূর্বে আগত হজ ও ওমরাহ ভিসায় অবৈধ ভাবে অবস্হানকারীগন কোনো নিয়োগকর্তার গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতে পারবেন । এ ক্ষেত্রে জাওয়াজাতের মাধ্যমে বৈধ হতে হবে । বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে হলে জাওয়াজাত তাদের তথ্য এন্ট্রি করবে এবং মকতবুল আমেল (শ্রমঅফিস) শ্রমিকের উপযুক্ততা যাচাই করবে ।

৫. স্পন্সরশীপ পরির্বতন :
যে কোনো কর্মী স্পন্সরশীপ পরির্বতন করতে পারবে যদি না তার নিয়োগকর্তা ওর্য়াক পারমিট এবং আকামা নবায়ন না করে ।
আগের নিয়োগকর্তার বিনা অনুমতিতে নতুন নিয়োগকর্তা তা পরির্বতন করতে পারবেন ।
বৈধভাবে অবস্হানকারী গৃহকর্মীরা বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে ট্রান্সফার হতে পারবেন ।
শ্রম অফিসের মাধ্যমে তা সম্পন্ন হবে ।
৬ এপ্রিল ২০১৩ এর পর যেসকল বেসরকারী প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠীত হয়েছে সেসকল প্রতিষ্ঠানে ট্রান্সফার হওয়া যাবে না ।

৬. পেশা পরির্বতন :
সকল প্রকার পেশা পরির্বতন করতে পারবেন বিনা ফিতে । তবে সৌদি নাগরিকদের জন্য কিছু পেশা সংরক্ষিত থাকবে ।

৭. দেশে প্রত্যাবর্তন (ফাইনাল এক্সিট):
যারা আগামী ৩ জুলাই ২০১৩ তারিখের মধ্যে সৌদি আরব থেকে ফাইনাল এক্সিটে যেতে পারবেন । তাদের অতিতের অপরিশোধিত আকামা অথবা ওর্য়াক পারমিটের ফি দিতে হবে না এবং কোনো প্রকার শাস্তি বা জরিমানা হবেনা ।
সৌদি আরব ত্যাগের সময় তাদের হাতের ছাপ রাখা হবে । তারা ইছ্চা করলে পরবর্তিতে সৌদি আরব আসতে পারবেন ।

৮. বিশেষভাবে লক্ষনীয় :
উপরে বর্নিত সুযোগ সুবিধা আগামী ৩ জুলাই ২০১৩ পর্যন্ত বলবত থাকবে ।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে প্রত্যাবর্তন না করলে অবৈধভাবে অবস্হানকারীদের জেল জরিমানার সম্মূখীন হতে হবে ।

এসময় রাষ্ট্রদূতকে সহযোগিতা করেন শ্রম কাউন্সিলর ড. এমদাদুল হক । উস্হিত ছিলেন মিশন প্রধান আইউব, অর্থনৈতিক কাউন্সিলর ড.মিজানুর রহমান, ডিফেন্স এ্যার্টাচি, কাউন্সিলরসহ দূতাবাসের কর্মকর্তা ও বাংলাদেশী কমউনিটির বিভিন্ন স্তরের শ্রমজীবী মানুষ ।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply