কুমিল্লার বুড়িচংয়ে দাফনের ২ মাস পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন

বুড়িচং প্রতিনিধি:—

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ছয়ঘরিয়া গ্রামে দেড় বছরের শিশু সন্তান হত্যার অভিযোগে স্বামী ও শ্বশুর-শ্বাশুরিসহ ৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে স্ত্রী। ওই মামলায় আদালতের আদেশে ২ মাস পর মঙ্গলবার কবর থেকে লাশ উত্তোলন করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই কাজী নাজমুল হক, এসআই মনিরুল হক, এসআই নাছির উদ্দিন পাটোয়ারি, এসআই জাকির হোসেন, ষোলনল ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। পরে শিশু সিফাতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়।

পুলিশ, মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ মার্চ দুপুরে জেলার বুড়িচং উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া (ভরাসার) গ্রামের মামুন মিয়ার দেড় বছরের শিশু পুত্র সিফাত বাড়ির পাশে পুকুরের পানিতে ডুবে মারা যায়। পরে সিফাতকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। স্থানীয়রা শিশু সিফাতের পানিতে ডুবে মৃত্যুকে নিছক দুর্ঘটনা (অপমৃত্যু) এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা না থাকায় এ মামলার সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেন।

এদিকে শিশু সিফাতকে হত্যা করা হয়েছে উল্লেখ করে গত ১৯ এপ্রিল সিফাতের মা শিমু আক্তার (২৫) বাদী হয়ে স্বামী, জ্যা, ২ ননদ, শ্বশুর-শ্বাশুরিসহ ৬ জনকে আসামি করে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

বিজ্ঞ আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে বুড়িচং থানার ওসিকে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিলে গত শুক্রবার (১০ মে) ওই ৬ জনকে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার আসামিরা হচ্ছে- স্বামী মামুন মিয়া (২৭), শ্বশুর সুলতান মিয়া (৬৫), শ্বাশুরি আমেনা খাতুন (৫৫), জ্যা আজমিরী আক্তার (৩০), ননদ বিউটি আক্তার (৩৫) ও শিউলী আক্তার (৩০)। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কাজী নাজমুল হক জানান, বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে লাশটি কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়া গেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

এদিকে শিশু সিফাতের মৃত্যু নিয়ে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। সিফাতের মা শিমু আক্তার জানায় তার ছেলেকে তার জ্যা আজমিরি আক্তার ও অন্যান্য আসামিরা পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে পুকুরের পানিতে ফেলে দেয়। তাকে পানি থেকে উদ্ধারের পর তার জিহ্বায় কামড়, মুখে ভাত, ঘাড় ভাঙ্গা এবং পেটে পানি ছিল না বলে দাবি করেন।

অপরদিকে সিফাতের ফুফু আমেনা আক্তার (৪০) জানান, একই পুকুরে বিগত সময়ে তার এক সন্তান ও ছোট ভাইসহ বাড়ির ৩ জন ডুবে মারা গেছে। সিফাত পানিতে ডুবেই মারা গেছে উল্লেখ করে তিনি এ ঘটনাকে অপমৃত্যু বলে দাবি করেন।

তিনি আরো জানান, মামুন মিয়ার সাথে বিয়ের পর শিমু আক্তারের বনিবনা হচ্ছিল না। এছাড়াও শিশু সিফাতের মৃত্যুর পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে চলমান মনোমালিন্যতা সুরাহার জন্য শিমু আক্তারের পিতার বাড়ি উপজেলার বাকশিমুল ইউনিয়নের বলরামপুরে এক শালিস বৈঠকে শিমুর নামে ৪ গন্ডা জমি লিখে দেয়ার জন্য বলা হলে মামুনের পিতা সুলতান মিয়া ছেলের নামে জমি দেয়ার কথা বলেন। এতে তারা রাজি হয়নি।

পরে শিমু তার ছেলে সিফাতকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ এনে স্বামী- শ্বশুর-শ্বাশুরি, জ্যা, ২ ননদসহ ৬ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply