এলাকায় তোলপাড় ॥ আজ শুনানী : তিতাসে সরকারী প্রকল্প পরিদর্শনে বাঁধার অভিযোগ

নাজমুল করিম ফারুক :–
তিতাসে সরকারী বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শনে বাঁধা ও সরকারী কর্মকর্তাদের হাত-পা ভেঙ্গে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম ও অফিস সহকারী আবুল কাশেম কলাকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি মো. জবেদ আলীর বিরুদ্ধে উক্ত অভিযোগ তুলেন। জবেদ আলী উক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত হয়ে পাল্টা ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ তুললে তা বিভিন্ন হাট বাজারে ও অফিসপাড়ায় আলোচনা সমালোচনার ঝড় তোলে। উক্ত অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের উপর আজ মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট শুনানীর দিন ধার্য্য করেছে।
অভিযোগে বলা হয়, গত ৩০ এপ্রিল প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম ও অফিস সহকারী আবুল কাশেম কলাকান্দি ইউনিয়নের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচীর সাধারণ/বিশেষ ও অতিদরিদ্রের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচীর আওতায় উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ সরেজমিনে পরিদর্শনে যাওয়ার পথে কলাকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান জবেদ আলী মোবাইল ফোনে ‘প্রকল্প পরিদর্শনে গেলে হাত-পা ভেঙ্গে দেয়াসহ অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে। বিষয়টি তাৎক্ষনিক ইউএনও কে লিখিত আকারে জানানো হলে উক্ত চেয়ারম্যান গত ০২ মে উক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঘুষসহ নানাহ দুর্নীতির অভিযোগ তুলে জেলা প্রশাসক ও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
বিষয়টি একাধিক ইউপি চেয়ারম্যান মিমাংসা করার লক্ষ্যে অগ্রসর হলে জবেদ আলী তাঁদের সাথে অপ্রীতিকর কথা বার্তা বলেন বলে ইউপি চেয়ারম্যান কালাম উদ্দিন ও এমদাদ হোসেন আখন্দ দৈনিক রূপসী বাংলাকে জানান।
এদিকে উক্ত চেয়ারম্যান সমন্বয় কমিটির সভাসহ বিভিন্ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন, আক্রমনাত্মক কথাবার্তা ও অসৌজন্যমূলক ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ তুলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ তুলেন।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রোণিত বলে কলাকান্দি ইউনিয়নের অধিকাংশ ইউপি সদস্য ও বিভিন্ন প্রকল্পের সভাপতি এবং বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানগণ লিখিত ভাবে জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন করেন।
এব্যাপারে ইউএনও শ্যামলী নবী দৈনিক রূপসী বাংলাকে বলেন, অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের ভিত্তিতে আগামীকাল মঙ্গলবার (আজ) উভয়পক্ষের শুনানীর দিন ধার্য্য করা হয়েছে। শুনানী শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা চেয়ারম্যান পারভেজ হোসেন সরকার বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস কোন অনিয়ম বা দুর্নীতি করে থাকলে চেয়ারম্যান সেটা আমাকে জানাতে পারতো। উপজেলা পরিষদকে পাশ কাটিয়ে চেয়ারম্যান যে অভিযোগ তুলেছে এবং কর্মকর্তাদের হুমকি দিয়েছে তা অত্যান্ত দুঃখজনক। টিআর/কাবিখার চাল বিক্রির যে অভিযোগ এনেছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কারণ জেলার মধ্যে তিতাসেই একমাত্র সর্বোচ্চ টন প্রতি দর নেয়া হচ্ছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply