কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় : না পাওয়ার পাল্লা ভারী হচ্ছে দিনকে দিন

রাসেল মাহমুদ, কুবি প্রতিনিধি :–

১৯৬০- এর দশকে কুমিল্লায় বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) প্রতিষ্ঠার কথা থাকলেও দীর্ঘ ৪০ বছরের অধিক সময় অপেক্ষার পর ২০০৬ সালের ২৮ মে দেশের ২৫তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ৫০ একর অসমতল লালমাই পাহাড়ি জমির উপর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়, যাহা বস্তুত ২০ একর সমতল ভূমি। ঢাকার অদূরে শিক্ষায় অগ্রসরমান বৃহত্তর কুমিল্লাবাসীর জন্য কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্ব অপরিসীম।
অনেক আশা আকাঙ্খা নিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সাত বছর পার হয়ে গেলেও না পাওয়ার পাল্লা যেন ভারী হচ্ছে দিনকে দিন। একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের যে সব সুযোগ-সুবিধা থাকার কথা তার কিছুই নেই এখানে।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি)বয়স ০৭ বছর। শুরু থেকেই মাত্র ৫০ একর পাহাড় ঘেরা ছোট ছোট টিলায় গঠিত অসমতল ভূমিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সমতল ভূমির অভাবে বর্তমানে কোনো ভবন-এমনকি ছাত্র-ছাত্রীদের ক্রীড়াচর্চার জন্য কোনো খেলার মাঠ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে সভা, সেমিনার, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড পরিচালনা ও অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য নেই কোন অডিটোরিয়াম। মানসম্মত একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল লাইব্রেরী নির্মাণ শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি হলেও আজ পর্যন্ত তাও পূরণ হয়নি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের কোন ভাস্কর্য আজও নির্মাণ করা হয়নি। এখানে নেই একটি জিমনেশিয়াম, ছাত্র এবং শিক্ষকদের মাঝে পারস্পারিক সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য নেই ছাত্র -শিক্ষক কেন্দ্র। বর্তমান সরকার দেশকে ডিজিটাল করতে চাওয়া শর্তেও এখানে ইলেকট্রনিক যোগাযোগ যেমন- ওয়াই-ফাই সংযোগ,ইন্টারনেট ও আইটি সংযোগের কোন ব্যবস্থা নেই। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের কাজ শুরু হওয়ার এক বছর পার হলেও শেষ হয়নি কাজ।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যাতায়াতের জন্য নিজস্ব কোন পরিবহন ব্যবস্থা নেই। বি আর টি সির কয়েকটি বাস থাকলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা অপ্রতুল। ছাত্রদের জন্য তিনটি আবাসিক হল থাকলেও ছাত্রীদের জন্য বর্তমানে একটি মাত্র আবাসিক হল রয়েছে। যেখানে ধারণ ক্ষমতার চেয়েও বেশি ছাত্রী বসবাস করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ শিক্ষক থাকলেও অধ্যাপক আছেন মাত্র একজন। শিক্ষক স্বল্পতার পাশাপাশি যোগ হয়েছে ক্লাসরুম সংকট। ছাত্র-ছাত্রীদের তুলনায় ক্লাসরুম এতো অল্প যে, ক্লাস করতে এসে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় বাইরে। বর্তমানে যে সব একাডেমিক বিল্ডিং-এ শিক্ষা কার্যক্রম চলছে সেগুলোকে ঊর্ধ্বমুখি, বর্ধিতকরণ ও আরো বেশি আধুনিকায়ন করা জরুরী বলে মনে করেন শিক্ষার্থীরা।
সাতটি বিভাগ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর বর্তমানে এখানে রয়েছে ১৪টি বিভাগ। কুবির বর্তমান উপাচার্য ড. আমির হোসেন খান দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতে তিনটি নতুন বিভাগ খুললেও তার পর আর কোন বিভাগ খোলার ব্যাপারে কোন উদ্যোগ দেখা যায়নি।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ২০০৬-০৭ শিক্ষা বর্ষে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করলেও এখন পর্যন্ত এখান থেকে একটি ব্যাচও মাস্টার্স শেষ করতে পারেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন সাতটি ব্যাচ থাকলেও শিক্ষা কার্যক্রমে কোন অগ্রগতি নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ বিভাগে ছয় মাসের সেমিস্টার শেষ করতে নয় থেকে দশ মাস সময় লাগছে, যার কারণে চার বছরের কোর্স শেষ করতে সময় লাগছে ছয় থেকে সাত বছর। এতে একদিকে তাদের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে অন্যদিকে চরম উদ্বেগে কাটছে তাদের দিন। সময় মতো ক্লাস-পরীক্ষা শেষ করতে না পারায় হতাস হয়ে পরেছে অনেক শিক্ষার্থী। জানতে চাওয়া হলে বাংলা ২য় বর্ষ ২য় সেমিস্টারের ছাত্র শেখর চন্দ্র মন্ডল বলেন, ‘এখন আমাদের ৩য় বর্ষে থাকার কথা হলেও আমরা এখনও ২য় বর্ষের পরীক্ষা শেষ করতে পারিনি। আমাদের বিভাগের চারটি ব্যাচের জন্য ক্লাস রুম মাত্র দুটি,তাই ক্লাস রুম সংকটের কারণে ক্লাসও ঠিকমতো হয়না। একই বিভাগের ছাত্রী সিনথিয়া মুমু মনে করেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক কিছুই নেই। সব কিছু না থাকার পরও যদি ক্লাস পরীক্ষা নিয়মিত হতো, তাহলে না পাওয়া গুলো বেশি কষ্ট দিতনা।

কুবি উপাচার্য ড. আমির হোসেন খানের সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোন বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

সকল না পওয়া খুব তাড়াতাড়ি পাওয়ায় পরিণত করে বিশ্ববিদ্যালয়টি শিক্ষার আলো ছড়াবে যুগযুগ, এমনটিই প্রত্যাশা কুবির সকল শিক্ষার্থীর।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply