ক্ষমতার মোহের রাজনীতি জাতিকে ধ্বংস করছে —–মো. আলী আশরাফ খান

আজ প্রথমে আমি দেশের রাজনীতি নিয়ে স্থানীয় একজন ব্যবসায়ী ও চাকুরীজীবীর কিছু বক্তব্য তুলে ধরার চেষ্টা করবো এ লেখায়। দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো: গিয়াস উদ্দিন, বিশিষ্ট ব্যাংকার মো: শাহ আলম এবং তাদের মত অনেকের সাথেই মাঝে মধ্যে কথা হয় আমাদের রাজনীতি প্রসঙ্গে। সকালের হাঁটাহাঁটি শেষে যখন গৌরীপুরের ভাই ভাই আবাসিক ভবেেনর নীচে দাঁড়াই, তখন অনেককেই দেখা যায় ওইখানে দাঁড়িয়ে গল্প করতে। বেশিরভাগ গল্পই থাকে দেশের চলমান ভ্রান্ত রাজনীতির বিষয় নিয়ে। সাভার ট্র্যাজেডির পর গত ৫ তারিখের হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ নিয়ে কথা হচ্ছিল বুধবার সকালে। কথা হচ্ছিল সরকার কর্তৃক হেফাজতে ইসলামের উপর স্ট্রিমরোলার চালানোর বিষয়টিও। রাতের অন্ধকারে ঘুমিয়ে থাকা নিরস্ত্র ও নিরীহ মানুষকে যেভাবে হত্যা করা হলো তা কেউই মানতে পারছেন না বলে মন্তব্য করলেন অনেকে। এ দেশ ইসলাম প্রিয় দেশ। এটি সকলেরই জানা। ওইদিন ধর্মপ্রাণ মুসলমান তাদের দাবি নিয়ে শাপলা চত্বরে জড়ো হয়েছিল। দাবিগুলো ইসলামিক দাবি। (হয়তো আন্দোলনকারীদের পদ্ধতিগত ভুল কোন জায়গায় থাকতে পারে।) এসব দাবি কোন মুসলমান অস্বীকার করতে পারেন না। বহু দুর-দুরান্ত থেকে মুসল্লিরা এসেছিল তাদের দাবি সরকারকে জানাতে। কিন্তু সরকার তাদের উপর যে ভয়াবহ নির্যাতন চালিয়েছে এটি কোনভাবেই সাধারণ জনগণ মানতে পারছে না বলে অভিমত প্রকাশ করতে দেখা গেছে অনেককেই।
গিয়াস উদ্দিন সাহেব গৌরীপুর বাজারের একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। তিনি মনে করেন, দেশ সকলের। নির্বাচনের পরে সরকারও সকেলের; সকল জনগণও সরকারের। কে আওয়ামীলীগ, কে বিএনপি এবং কে জাতীয় পার্টি এটি ভাবার যেমন অবকাশ নেই সরকারের। তেমনি বর্তমানে জনগণও এমন ভাবার কোন অবকাশ নেই যে, সরকার আওয়ামীলীগের, মন্ত্রী-এমপিরাও আওয়ামীলীগের। এমনটা ভাবলেই সমস্যা বহুগুনে বেড়ে যায়। এবং বর্তমানে যে সমস্যা বিরাজ করছে দেশজুড়ে এসব চিন্তার কারণেই হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরো বলেন, আসলে বাস্তবতা হলো, আমাদেরে দেশে যে দল ক্ষমতায় আসে সে দলই মনে করে, দেশটা তাদের দলের এবং সংসদকে তারা নিজ দলের কার্যালয় মনে করে যেনতেনভাবে ব্যবহার করে থাকেন। শুধু তাই নয়, যারা সরকারি দল করেছেন, ভোট দিয়েছেন বা এখনও দল করেন তাদেরকেই বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে। এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। আর এভাবেই ধারাবাহিক সমাজ-দেশ-জাতির মধ্যে বিরাট বৈষম্য সৃষ্টি করে ক্ষমতাসীন দলগুলো। যার ফলে নানা রকম ভয়াবহ বিশৃংখলা দেখা দেয় দেশব্যাপি। এসব সমস্যা থেকে উত্তরণে প্রকৃত দেশপ্রেমিক ও দেশের চিন্তাশীল মানুষদের অগ্রণী ভূমিকা গ্রহন করতে হবে বলে তিনি মনে করেন।
মো: শাহ আলম। তিনি বিশিষ্ট ব্যাংকার ও একজন সংগঠকও। সমাজ, দেশ ও জাতি সম্পর্কে তার রয়েছে স্পষ্ট ধারণা। তিনি মনে করেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে আমাদের দেশে রাজনীতির নামে অপরাজনীতির চর্চা চলে আসছে। ক্ষমতার জন্য দেশের রাজনৈতিক দলগুলো দেশের সম্পদ ও জনগণকে নিয়ে নানা রকম খেলা চালিয়ে যাচ্ছে। যে দল ক্ষমতায় যায় তারা নিজেদের মত করে দেশ চালাতে শুরু করেন। অন্য দলের সদস্যদের কিংবা অন্য কোন রাজনৈতিককে প্রধান্য না দিয়ে তাদের উপর নানাভাবে নানা রকম নির্যাতন চালান। অপর দিকে বিরোধী দল কিংবা অন্যান্য দলও সরকারকে এবং সরকারের কর্মকা-কে সহযোগিতা করার পরিবর্তে শুরু করেন চরম বিরোধীতা। এসব অপরাজনীতির কারণেই দেশ পিছিয়ে যাচ্ছে। দেশে নানা রকম বিশৃংখলা বেড়েই চলছে। আরও একটি বিষয় উল্লেখ করার মত যে, আমাদের দেশে সরকারের পরিবর্তন হয়, হয় দলের পরিবর্তন। প্রকৃত পক্ষে জনগণের ভাগ্যের তেমন কোনো পরিবর্তন হয় না। দেশে স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও ক্ষমতায় টিকে থাকা কিংবা ক্ষমতা দখলের প্রবণতা রয়েছে সব দলেরই। প্রকৃত ও শুদ্ধ রাজনীতি চর্চা কোন রাজনৈতিক দলের আছে বলে তিনি মনে করেন না। ক্ষমতায় যাওয়ার পূর্বে যেসব প্রতিশ্রুতি তারা দেন ক্ষমতায় আসীনের পরে তা বেমালুম ভুলে যান। সরকার বদল হওয়ার পরপরেই সব পর্যায়ে নতুন করে সরকারের দলীয় লোকজন এবং ক্যাডাররা আবার পুরুদমে শুরু করেন চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এবং ক্ষমতায় টিকে থাকার লড়াই। সরকার পরিবতর্নের সাথে সাথে ব্যক্তি ও দলের পরিবর্তন হয় কিন্তু স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও ক্ষমতায় টিকে থাকার লড়াই তীব্র থেকে তীব্রতর হয়। আর দিনে দিনে এর খেশারত গাণিতিবভাবে দিতে হয় সাধারণ জনগণকে। এ ভয়াবহতা থেকে মুক্তি পেতে হলে পূর্ণাঙ্গ ইসলামি শাসন ব্যাবস্থা প্রতিষ্ঠার পক্ষে মত দেন তিনি।
অপ্রিয় হলেও সত্য যে, স্বাধীনতার পর থেকে রাজনীতি এবং ক্ষমতা দখল নিয়ে যে সব ঘটনা ঘটেছে এ দেশে তা কোনভাবেই মেনে নেয়ার মত নয়। কোন ব্যক্তি-গোষ্ঠী যদি মনে করে, জনগণ তা মনে রাখেনি এবং বর্তমানে অনুধাবন করছে না তা হবে চরম বোকামী। আমাদের বুঝতে হবে, আধুনিক যুগে মানুষ এখন অল্প সময়ে এবং স্বল্প কথায় অনেক কিছু বোঝাতে চায় এবং বুঝতে চায়। মানুষ মনে করে, ঘুরিয়ে ফিরিয়ে কথা না বলে পরিষ্কার ভাষায় যারা কথা বলেন এবং কথার সঙ্গে মিল রেখে সঠিক কাজ সম্পন্ন করেন তারাই যোগ্য নেতৃত্বের দাবি করতে পারেন। মানুষ তাদেরকেই গ্রহণ করেন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম এ বিষয়টিকে খুব বেশি গুরুত্ব দেন বলে আমি মনে করি। আমি বর্তমান সরকারের শাসনামলের প্রথম বছরের সময় ‘বর্তমান সরকার কি ব্যর্থ হওয়ার পথে’ শিরোনামে একটি লেখা জাতীয় দৈনিকসহ আঞ্চলিক কয়েকটি পত্রিকায় দিই। যা ছাপাও হয় বেশ গুরুত্বসহকারে শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি পত্রিকায়। লেখাটিতে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে সার কথায় বলেছিলাম, ‘চারদলীয় জোট তথা বিগত সরকারের আমল, তত্ত্বাবধায়ক সরকার অর্থাৎ অনির্বাচিত সরকারের দীর্ঘ পথ পরিক্রমা যে কতটা ভালো কেটেছে এবং মহাজোট তথা আওয়ামী লীগের প্রথম বছরের এ সময়ে দেশ শাসনের প্রক্রিয়াকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে যে, এই সময়ে অন্যান্য সরকারের মত মহাজোট অর্থাৎ এ সরকারও চরম ব্যর্থতারই পরিচয় দিচ্ছে’। তখন হয়তো দেশের অনেকেই আমার লেখাটিকে পজিটিভভাবে গ্রহণ করতে পারেননি। কিন্তু এর প্রমাণ বর্তমান সরকারের বিগত দিনের কর্মকা- থেকে পদে পদে পাওয়া গেছে। এখন প্রায় ৭ মাস বাকি সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার। এ পর্যায়ে এসে বেশামাল হয়ে পড়ার অবস্থা থেকেই প্রতিয়মান হয় যে, সরকার পদে পদে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে পুরু সময়জুড়ে।
মানুষ দীর্ঘ অপেক্ষার পর ভালো কিছু আশা করে। এটাই স্বাভাবিক। তেমনি গেল নির্বাচনে যে আশা-আকাংখা নিয়ে দেশবাসী মহাজোটকে ভোট দিয়েছিল, তা ছিল চরম ভুল এবং ভবিষ্যতে আর কখনও ভোট দেবেন না এ দলকে, এমন কথাবার্তা মাঠে-ঘাটে, হাটে-বাজারে লোকজন বলাবলি করছে এখন। শুধু তাই নয়, মানুষ এখন বলছে মহাজোট-বর্তমান সরকার চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে দেশ পরিচালনায়। মহাজোট যে অঙ্গিকারে জনগণের মহামূল্যবান ভোটে জয়ী হয়েছিলেন তা বাস্তবায়ন তো দূরের কথা এর দ্বারেকাছেও পৌঁছতে পারেনি। বরং এখন সাধারণ জনগণ মনে করছে, সরকারের আমলা-মন্ত্রীরা বেফাঁস কথাবার্তা বলে জনগণের আস্থা হারিয়ে ফেলার পাশাপশি জাতির গলারকাটা হিসেবে ত্যক্ত ও বিরক্তের কারণ হয়ে দাঁড়িছে।
আমরা জানি, বিশেষ করে তরুণ ভোটাররাই চারদলীয় জোট সরকারের মন্দ দিকগুলোকে বেশি লক্ষ করেছে মিডিয়া এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আশির্বাদের কারণে। দেশের বেশ কিছু ব্যক্তি-গোষ্ঠী চারদলীয় জোট সরকারের বেশ কিছু সংখ্যক অরাজনৈতিক দুর্নীতিবাজদের শিক্ষা দিতে গিয়ে চরমভাবে দলটির মূলে আঘাত করে। এই ব্যাপারটি ঘটার ফলে ওইসময় মহাজোটকে সমর্থন করে সাধারণ মানুষ। আর এ সুযোগটি কাজে লাগিয়ে মহাজোট রাতারাতি ক্ষমতা পেয়ে যান! একের পর এক অনাকাক্সিক্ষত সিদ্ধান্তসমূহ জাতির ঘাড়ে চাপাতে শুরু করেন। তদন্ত কমিটি আর তদন্ত কমিটির নামে শেষ হচ্ছে তাদের শাসনামল। দেশের গার্মেন্টস শিল্প, আইন শৃংখলা থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি সেক্টরে এমন সব অরাজকতা সৃষ্টি করে তাদের দলীয় কর্মীরা যা আর কোনভাবেই মেনে নিতে পারছে না জনতা। সাধারণরা মনে করেন, একদল অনভিজ্ঞ, অদক্ষ, অযোগ্য ও আনাড়িদের হাতে দেশের মহামূল্যবান দায়িত্ব ভার ছেড়ে দেয়া হয়েছে! প্রতিহিংসা, রেষারেষি এবং যাচ্ছেতাই আক্রমণাত্মক কর্মকা-ের যে সংস্কৃতি আমাদের দেশে দীর্ঘদিন যাবৎ চালু রয়েছে এর সঙ্গে নতুন করে তারা যোগ করছে হাস্যকর সব তথ্য-উপাত্ত।
আজ সরকার বিরোধী দল ও হেফাজতে ইসলামকে দমন করার জন্য যে পহ্না অবলম্বন করছেন, তাতে মনে হয়, ‘জোর যার মুল্ল¬ুক তার’। যেভাবে দলীয় ক্যাডার, পুলিশ, বিজেবি ও র‌্যাবসহ অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি বাহিনীকে রাস্তায় নামাচ্ছেন তারা তা জাতির জন্য এক ভয়ানক ব্যাপার বলে মনে করছেন সমাজ বিশ্লেষকরা। সরকার এখন মনে করেন, সরকারের বিরুদ্ধে যে ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান কথা বলবে তাদেরকেই নানাভাবে হয়রানীর মাধ্যমে বুঝিয়ে দেয়া হবে, সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলে পার পাবে না কেউ। বিরোধীদের হামলা-মামলা, নির্যাতন-নিপীড়ন, গ্রেফতার ও রিমান্ডসহ যে সব অশুভ কায়দা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার তা মোটেও একটি স্বাধীন দেশের জন্য মঙ্গল বয়ে আনতে পারে না। বরং তা দিনে দিনে দেশে একটি অসহিষ্ণু ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে পুরো জাতিকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে। এ ভয়াবহ করুণ পরিণতির ব্যাপারে আগ থেকে জরুরিভিত্তিতে যদি সরকার ও বিরোধী দলগুলো এক টেবিলে বসে ঐক্যমতে না পৌঁছান এবং সংযম ও সহনশীলতার পরিচয় না দিতে পারেন, তাহলে দেশের যে মহাসর্বনাশ হয়ে যাবে-তা হলফ করে বলা যায়।
সরকার ও সরকার বিরোধীদের কর্মকা-ের ফলে জনভোগান্তি, সাংবাদিক নির্যাতন, বুদ্ধিজীবীদের প্রতি অমানবিক আচরণ, পেরেশানি, ধ্বংস-জ্বালাও পোড়াওসহ যেসব হিংসাত্মক ঘটনা ঘটছে তা জনগণ মেনে নিচ্ছে না-তা তাদের বুঝতে হবে। আমরা দেখছি সরকার ও বিরোধী দলীয়রা প্রায় সময়ই বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন করে আইন তথা মানবাধীকারের পরিপন্থি অনেক কর্মকা- চালিয়ে যান। সরকারে বেশ কিছু মাননীয় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও এমপি এমন সব আস্ফালন মার্কা, ভীতিকর ও উস্কানীমূলক বক্তব্য রাখেন যা কোনোভাবেই সৃজনশীল, সুস্থ রাজনীতি চর্চা এবং গণতান্ত্রীক সরকারের কর্মকা- হতে পারে না। বরং তা জাতির সামগ্রিক জীবনে নিগুঢ় কালো অন্ধকারে ঠেলে দেয়। আজ যেখানে সরকার ও বিরোধী দলগুলোর কর্মকা-ের কারণে গণ-মানুষের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্থ হচ্ছে, সাধারণ মানুষের জানমালের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হচ্ছে, দেশজুড়ে চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই-রাহাজানি, চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি, হত্যা, ধর্ষণ, গুম-অপহরণ, সাংবাদিকদের ওপর অমানষিক নির্যাতন-হত্যা, বুদ্ধিজীবীদের নেই কোনো জীবনের নিশ্চয়তা, চলছে মাদকের মহাবাণিজ্যসহ সন্ত্রাসের হলিখেলা, যেখানে সাধারণ দাবি দাওয়ার ছুঁতোয় দেশের মূল্যবান সম্পদ ধ্বংস করা হচ্ছে, জ্বালিয়ে পুড়িয়ে মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছে; ছাত্ররাজনীতির নামে চলছে চাঁদাবাজি, দাঙ্গাহাঙ্গামা ও ভাগবাটোয়ারা নিয়ে নিজেদের মধ্যে ঘটছে চরম রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, জ্বালাও-পোড়াও-ভাঙ্গো পন্থায় নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে হেন হীন কর্ম নেই যা বাদ যাচ্ছে, মন্ত্রী মহোদয়দের কথাবার্তায় প্রকাশ পাচ্ছে চরম হিং¯্রতা, সেখানে দেশমাতৃকার দায়িত্ব প্রাপ্তদের সাধারণ জনগণ কি করে গ্রহণ করতে পারে?
সরকার ও বিরোধী দলকে বুঝতে হবে, জনগণ এখন যথেষ্ট সচেতন। ভুলিয়ে-ভালিয়ে, ভয়-ভীতি দেখিয়ে একটি ঘটনাকে ধামাচাপা দিয়ে আরেকটি ঘটনার জন্ম এবং ভ্রান্তধারার রাজনীতিচর্চায় আর তাদেরকে ভোলানো যাবে না। কি সরকার কি বিরোধী দল, রাজনীতির সুস্থধারাকে ব্যতিরেকে নিজেদের মন মতো হিং¯্র কর্মকা- চালিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা কিংবা ক্ষমতায় আসার দিন শেষ হয়েগেছে-এটা মনে রাখতে হবে। বিগত দিনে আমরা দেখেছি, ক্ষমতায় যাওয়ার আগে রাজনৈতিক নেতারা বড় বড় কথা বলেছেন। তাদের মুখে শোনা গেছে, আমরা জনগনের কল্যাণেই সব কিছু করবো; আমরা কখনও হরতাল-অবরোধ করবো না। ক্ষমতায় যাওয়ার পর কিংবা ক্ষমতা হারানোর পর নানান অজুহাত ও ছলচাতুরীর মাধ্যমে প্রায় সব ওয়াদা ভুলে যান তারা। তারা ভেবে দেখেন না যে, এই দিনই শেষ দিন নয়, আরেকটি দিন অপেক্ষা করছে তাদের সামনে। যে দিনটিতে বাংলার আপামর জনগণ আবার ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভোট রায়ের মাধ্যমে চরমভাবে প্রত্যাখ্যান করবে যারা ক্ষমতার মোহের রাজনীতি করে, যারা রাজনীতি নিয়ে ব্যবসা এবং রাজনীতির নামে জাতিকে ধ্বংস করছে তাদেরকে।
এখন দেশে ভ্রান্তরাজনীতির কারণে যে অস্থিতিশীল ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তাতে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে প্রত্যেক সচেতনজনেরা ভীষণ চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। জনগণ বরাবরই এখন বড় দুই রাজনৈতিক দলের উপর আর আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। দেশের বড় বড় রাজনৈতিক দলগুলো যে কলকাঠি নেড়েচেড়ে দেশকে একান্তই নিজেদের সম্পদ মনে করেন এবং নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্যই রাজনীতি করেন এটা এখন দিনের আলোর মতই পরিস্কার হয়েগেছে। তারা যে বারবার ক্ষমতায় গিয়ে একে অপরের প্রতিশোধ নেয়ার জন্য ব্যস্ত হবে এবং দেশের বারোটা বাজাবে-এটা মানুষ বুঝে গেছে। সুতরাং মানুষ এখন এ বড় দুই দলকে বাদ দিয়ে নতুন কোনো দলকে চাইছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, তেমন কোনো দলও নেই এখন। যে কারণে আমজনতা হতাশায় ভোগছে। তারপরেও মানুষকে আশাহত হলে চলবে না। সর্বঐক্যের ভিত্তিতে যদি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেন প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো তাহলে হয়তো এ সমস্যার সমাধান হতে পারে। তবে এ জন্য সর্বাগ্রে জাতীয় স্বার্থে তরুণ-শিক্ষিত প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে এবং পিছনের সব কিছু ভুলে পরিশুদ্ধ হওয়ার ব্রত নিতে হবে সকল রাজনৈতিকদের। নিজেদের ব্যক্তি স্বার্থ-ব্যবসা! ব্যবসা!! ব্যবসা!!! রক্ষা এবং দলকে ক্ষমতায় আসীন করার জন্যই আন্দোলন-এ চিন্তা বাদ দিতে হবে সর্বপ্রথম। ‘রাজনীতি কোনো ব্যবসা নয়, সেবার জন্যই রাজনীতি করতে হয়’ এ মন্ত্রে দীক্ষা নিতে হবে সকলকে। দেশের রাজনীতিবিদদের শুভবুদ্ধির উদয় হোক। এই কামনা আমাদের সকলের।

=======================
লেখক: কবি, কলামিস্ট ও সংগঠক
গৌরীপুর দাউদকান্দি, কুমিল্লা।

Check Also

মাদকসন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সরকারকেই জোরালো ভূমিকা নিতে হবে

—-মো. আলীআশরাফ খান লেখার শিরোনাম দেখে হয়তো অনেকেই ভাবতে পারেন, কেনো লেখাটির এমন শিরোনাম দেয়া ...

Leave a Reply