রাখে আল্লাহ মারে কে: ১৭ দিন পরে জীবিত উদ্ধার হলেন রেশমা

ঢাকা:–
সাভারে রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে পর ১৭তম দিনে রেশমা নামে এক জীবিত নারীকে উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেল ৪টা ২৬ মিনিটে তাকে উদ্ধার করা হয়। প্রাণান্ত চেষ্টায় তাকে উদ্ধার করে সেনাবাহিনীর উদ্ধারকারী দল।

শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ধসে পড়া রানা প্লাজার সামনের অংশে রেশমার সন্ধান পাওয়া যায়। উদ্ধারকাজ চলাকালে একটি পাইপ নাড়িয়ে তিনি তার উপস্থিতি জানান দেন। উদ্ধারকারী ওয়ারেন্ট অফিসার রাজ্জাক বলেন, তিনি দেখেন যে একটি পাইপ কেউ নাড়াচ্ছেন। রাজ্জাক তখন প্রশ্ন করে বলেন, ‘কেউ ভেতরে আছেন কি’? তখন নারীকণ্ঠের সাড়া মেলে-‘স্যার আমাকে বাঁচান’। তখন মেজর রাজ্জাক বলেন, কিছু খাইছো? নারীকণ্ঠ বলে- ‘দুদিন ধরে কিছু খাইনি। এর আগে শুকনা খাবার খাইছি’। এ সময় তাকে পানি ও বিস্কুট সরবরাহ করে উদ্ধারকারী দল। উদ্ধারকর্মীরা তার নাম জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘রেশমা’। তখন উদ্ধারকারীদের একজন বলেন, ‘মা তোমার ভয় নেই। আমরা তোমাকে উদ্ধার করব’।

রেশমা তৃতীয় তলার মার্কেটে ছিল, ঘন ঘন পিলার থাকার কারণে মার্কেটের ক্ষতি কম হয়েছে। সেখানে হাঁটার জায়গা ছিল, অল্প-আলো বাতাসও ছিল। এ তথ্য জানান উদ্ধারকর্মী ওয়ারেন্ট অফিসার রাজ্জাক।

গর্ত করে উদ্ধার কাজে ভেতরে যাওয়া মেজর মোয়াজ্জেম বলেন, তার (রেশমা) বেঁচে থাকা অস্বাভাবিক ঘটনা। ভেতরে টর্চের আলো ফেললে রেশমা হাত নাড়ে। তার নাম জিজ্ঞেস করলে-সে বলে, রেশমা। ওই সময় তাকে অল্প পানি ও বিস্কুট দেওয়া হয়।

রেশমাকে উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে উঠানোর সময় সে স্মিত হাসি দেয়। তার এ যেন হাসি জীবনের জয়গান!

ওয়ারেন্ট অফিসার রাজ্জাক বলেন, এখন আর ওপর থেকে ভারী যন্ত্র ব্যবহার করা হবে না। গর্ত করে দেখা হবে ভেতরে আর কেউ জীবিত আছেন কিনা।

উদ্ধারকারীরা জানান, রেশমা মোটামুটি সুস্থ আছেন। রেশমাকে সাভার সিএমএইচের (সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল) আইসিইউতে নিবিড় তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।

রেশমা উদ্ধার হওয়ার পর বিকেল ৫টার দিকে রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপের কাছে আসেন তার বোন আসমা। আসমা জানান, তাদের বাড়ি দিনাজপুরে। তারা দুই বোন সাভারে একসঙ্গে থাকলেও আসমা অন্য পোশাক কারখানায় কাজ করেন। রানা প্লাজা ধসে পড়ার পর থেকে গত ১৬ দিনই আসমা যখন কাউকে জীবিত বা মৃত উদ্ধারের খবর শুনেছেন, তখনই সেখানে ছুটে গেছেন।

আসমাকে সাভার সিএমএইচে তার বোন রেশমার কাছে নিয়ে গেছে সেনাবাহিনীর একটি গাড়ি।

২৪ এপ্রিল সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডের পাশে রানা প্লাজা নামক ভবনটি ধসে পড়ে। এই ভবনে পাঁচটি গার্মেন্ট ছিল। এ পর্যন্ত ওই ভবন থেকে ১ হাজার ৪২ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রায় আড়াই হাজার মানুষকে আহত ও জীবিত উদ্ধার করা হযেছে। শেষে গত কয়েকদিন ধরে জীবিত কাউকে উদ্ধারের আশা ছেড়ে দিয়ে উদ্ধার কাজ চলছিল।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply