৪ বছর পর বিদেশে সিরিজ জয়ের হাতছানি বাংলাদেশের

ঢাকা :–

অন্ধগলি থেকে রাজপথে-বুলাওয়ে এলে এ অনুভূতিই এতোদিন হয়েছে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের। নইলে বিদেশ বিভূঁইয়ের উইকেট যেখানে বিভীষিকা সেখানে বুলাওয়েতে ১০ ওয়ানডের ৭টিই কেন জিতবে বাংলাদেশ? প্রত্যাশার বেলুনটা ফুলে ফুঁপে উঠছিল তাই। চার বছর পর বিদেশের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ জয়টাও মনে হচ্ছিল সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু সেই বেলুনটা ফুঁটো হওয়ার জোগাড়। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৬ উইকেটে হারায় তিন ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতা। বুধবার শেষ ম্যাচে হারলে পূর্ণ হবে ব্যর্থতার ষোলকলা। তাই সতর্ক বাংলাদেশ। প্রস্তুত সামর্থ্যের শতভাগ উজাড় করে দিতেও। মোহাম্মদ আশরাফুলের কণ্ঠে তারই অনুরণন, দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আমরা দুই ওপেনার দ্রুত ফিরে গেছি। অথচ এ উইকেটে ভালো করতে শুরুতে মজবুত ভিত গড়া জরুরি। শেষ ম্যাচে তাই দ্রুত উইকেট হারানো চলবে না। আমরা খেলব নিজেদের উজার করে।

টেস্টে যেমনই হোক ওয়নডেতে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত শক্তি। সর্বশেষ শ্রীলংকা সফরের ৩ ম্যাচের সিরিজ ড্র করেছে ১-১এ। দেশের মাটিতে হারিয়েছে টোয়েন্টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আর ফাইনালে পৌঁছেছিল এশিয়া কাপের। তবে বিদেশের মাটিতে সিরিজ জিতেছিল সর্বশেষ চার বছর আগে। ২০০৯ সালে জিম্বাবুয়েতেই ৫ ম্যাচের সিরিজে বিজয় কেতন ওড়ে ৪-১’এ। সেই জিম্বাবুয়েতেই এবার সুযোগ না জেতার বৃত্তটা ভাঙার। তবে প্রিয় বুলাওয়ে অপ্রিয় হয়ে উঠেছে উইকেটের জন্য। বাংলাদেশের প্রধান শক্তি স্পিন হওয়ায় উইকেটে রাখা হয়েছে পর্যাপ্ত ঘাস যা মনে করাবে সবুজ গালিচার কথা। এতে তারকা দুই স্পিনার সাকিব ও রাজ্জাক যেমন টার্ন পাচ্ছেন না তেমনি অস্বাচ্ছন্দ্যে ভুগছেন টপ অর্ডাররাও। বল পিছলে একটু দ্রুত ব্যাটে আসায় ছন্দ পাচ্ছেন না ব্যাটসম্যানরা। গোদের উপর বিষফোঁড়া হয়ে সকালের সুইং তো আছেই। আশরাফুল জানালেন সেটাই,‘ প্রথম দুই ওয়ানডেতে আমাদের টপ অর্ডারের চার ব্যাটসম্যানের ফিফটি নেই। প্রথম ম্যাচে নাসির আর দ্বিতীয় ওয়ানডেতে রাজ্জাক ফিফটি না পেলে বড় স্কোর হত না। এই উইকেটে শুরুতে বল স্কিড করায় প্রথম ১৫ ওভার স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যাট করা কঠিন। পরে অবশ্য উইকেট সহজ হয়ে যায়। তাছাড়া চাপটাও বেশি এই সিরিজে। বড় দলের বিপক্ষে খোলা মনে খেলা যায় কেননা হারলে সমালোচনা কম হয়। কিন্তু জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জিততেই হবে ভেবে খেলি আমরা।’

এজন্য টস জেতাটা জরুরি। তবে ভাগ্যের উপর তো কারও হাত নেই। প্রথম দুই ম্যাচে টস জিতলে জিম্বাবুয়েকে চোখ বন্ধ করেই ব্যাটিংয়ে পাঠাতেন মুশফিকুর রহিম। বুধবার তাই অদৃষ্টের সহায়তাও কায়মনবাক্যে চাইবেন বাংলাদেশি অধিনায়ক। সে সঙ্গে চাইবেন টপ অর্ডারের রানে ফেরাটাও। মঙ্গলবার কম্পিউটার অ্যানালিস্ট নাসির আহমেদের ক্লাসে মনযোগী ছাত্র হয়ে ছিলেন নাসির, সাকিব, মমিনুলরা। ড্রাইভের সময় মমিনুল শক্তির প্রয়োগ চোখে বিঁধার মতো। আর শফিউল অফস্টাম্পের বাইরে ব্যাটসম্যানদের শট খেলার জন্য জায়গা দিচ্ছেন অনেক বেশি। এ নিয়েই আজকের টিম মিটিংয়ে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কোচ শেন জার্গেনসন। এখন কোচের ক্ষোভে যদি ভালো খেলার স্ফুলিঙ্গটা তৈরি হয়!

ম্যাচে স্ফুলিঙ্গের আগে অবশ্য হলিডে ইন হোটেলের আগুনের স্ফুলিঙ্গে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল যথেষ্ট। সোমবার ভোরে হঠাৎ করেই ফায়ার অ্যালার্ম বেজে ওঠায় ছুটে বাইরে চলে আসেন সবাই। যদিও পরে জানা যায়, হোটেলের এক কর্মী গরম জলে স্নান করায় অযাচিত এই ফায়ার অ্যালার্ম। শেষ ম্যাচের আগে এ ধরনের অ্যালার্ম অবশ্য বেজে গেছে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের মনেও। সেটা স্ফুলিঙ্গ হয়ে ঠিকরে বেরুলোই হয়।

Check Also

কুমিল্লার বিপক্ষে ১৫৩ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে রাজশাহী

ক্রীড়া প্রতিবেদক :– বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেটে রাজশাহী কিংসকে ১৫৩ রানের টার্গেট দিলো কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। ...

Leave a Reply