চৌদ্দগ্রামে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান: ৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আংশিক ভবন সিলগালা করেছে উপজেলা প্রাশসন

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা)প্রতিনিধি:–
চৌদ্দগ্রামে প্রায় অর্ধশত বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। ঝরাজীর্ণ এসব ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। সাভারের রানা প্লাজা ধসের পর থেকে ঝুকিপূর্ণ এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্রছাত্রীদের মাঝে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে।
জানাগেছে, উপজেলা সদরের চৌদ্দগ্রাম এইচ জে পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, বাতিসা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সলাকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়, চাঁন্দিশকরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, জয়ন্তিনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়, তারাশাইল প্রাথমিক বিদ্যালয়, লুদিয়ারা প্রাথমিক বিদ্যালয়, দূর্গাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বদরপুর কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ উপজেলার প্রায় অর্ধশত প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবনের আংশিক ও পুরোটা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তারমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোতাহার হোসেন ও উপজেলা প্রকৌশলী লিয়াকত আলী সরেজমিনে পরিদর্শন করে তারাশাইল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩টি কক্ষ, লুদিয়ারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩টি কক্ষ, দূর্গাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২টি কক্ষ ও বদরপুর কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় একটি ভবন বন্ধ করে রাখার নির্দেশ দেন।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার চৌদ্দগ্রাম এইচ জে পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশের ভবনের দেয়ালের মাঝখানে ফেটে দুই ভাগ হয়ে রয়েছে। এছাড়া ছাদের প্লাষ্টারও আস্তে আস্তে ধ্বসে পড়ছে। ওই ভবনে ষষ্ঠ শ্রেণীর ক, খ, গ, সপ্তম শ্রেণীর ক ও খ শাখার ৬’শ শিক্ষার্থী নিয়মিত ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করে। চলমান এইচএসসি পরীক্ষার্থীরাও সেখানে পরীক্ষা দিতে দেখা গেছে।
রোমন নামের এক পরীক্ষার্থী বলেন, হাইস্কুলের এ ভবনটিতে প্রথমদিন পরীক্ষা দিতে এসে ভয় পেয়ে ছিলাম। মনে হয় যেন এখনই ভেংগে পড়ছে। সাভারের ভবন ধসের পর ওই ভয়টি আরো বেশী কাজ করছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কিভাবে এ বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা ক্লাস করছে আল্লাহ জানেন।
৬ষ্ঠশ্রেণীর ছাত্র মাহফুজ আহমেদ বলেন, আমরা যখন ক্লাসে যাই তখন ভয়ে ভয়ে থাকি। কখন জানি ছাদ ধসে পড়ে। এ জন্য আমরা শ্রেণী কক্ষে ঠিকমতো মনোনিবেশ করতে পারি না।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, বিদ্যালয়ের এ ভবন গুলো ১৯৫৬ সালে নির্মাণ করা হয়েছে। অফিস কক্ষসহ বেশীরভাগ ভবনই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। কিন্তু বিকল্প কোন ব্যবস্থা না থাকার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ ওইসব ভবনেই ক্লাস নিতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য আবদুল হক জানান, উপজেলা সদরে অবস্থিত বিদ্যালয়টি ভবন গুলো অনেক পুরোনো। ভবনগুলো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। যতক্ষণ ক্লাস চলে ততক্ষণ মনের মধ্যে ভয় থাকে ‘কখন জানি দুর্ঘটনা ঘটে’। এ বিদ্যালয়ে সকল পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও বিদ্যালয়টিতে উন্নয়নের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যেন কোন দায়িত্ব নেই। এ বিদ্যালয়ে ১২শ ছাত্রছাত্রী লেখাপড়া করে। কোমলমতি এ শিশুদের জীবনের কথা চিন্তা করে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা কররা জন্য মাননীয় রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের কাছে জোর দাবী জানাচ্ছি।
চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার কাউন্সিলর আবদুল মতিন জানান, তার ওয়ার্ডের জয়ন্তিনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবনটি নির্মাণ ত্র“টির কারণে ঝুঁকির্পূণ অবস্থায় রয়েছে। সলাকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আইয়ুব আলী জানান, বিদ্যালয়ের একটি ভবনের ভিমের উপরের ইট সরে রয়েছে যে কোন সময় ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। চাঁন্দিশকরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সদস্য শাহআলম পাটোয়ারী জানান, বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনের ছাদের পলেষ্টার ধসে পড়ে ৩ শিক্ষার্থী আহত হয়েছিল।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোতাহার হোসেন জানান, চৌদ্দগ্রাম হাইস্কুলের ভবন ফাটলের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক লিখিতভাবে জানান। পরিদর্শন পূর্বক রির্পোট পেশ করার জন্য উপজেলা প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া আরো কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়রে ২/৩টি কক্ষ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply