নারায়ণগঞ্জে হেফাজতের সঙ্গে সংঘর্ষে পুলিশ-বিজিবিসহ নিহত ২১

নারায়ণগঞ্জ:–

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে কাঁচপুর, সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক, সানারপাড়, শিমরাইল এলাকায় পুলিশের সঙ্গে হেফাজত কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে দফায় দফায় সংঘর্ষে এ পর্যন্ত ২১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দুজন পুলিশ, একজন বিজিবি সদস রয়েছেন।

নিহতরা হলেন- বিজিবির সদস্য শাহ আলম ও লাভলু, আমর্ড পুলিশের নায়েক ফিরোজ এবং কনসটেবল জাকারিয়াকে পিটিয়ে ও ইট দিয়ে মাথা থেতলে হত্যা করা হয়।

নিহত অন্যরা হলেন-সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনাদি নতুন মহল্লার আলী আহম্মেদের ছেলে জসিমউদ্দিন(৩২), ইদ্রিস আলীর ছেলে হান্নান (৩২) গুলিবিদ্ধ হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জের সুগন্ধা হাসপাতালে মারা যায়, একই হাসপাতালে মুসলিম (৩০) নামে আরো একজন মারা যায়। এছাড়া মাদানী নগরেরর আবদুল খালেকের ছেলে পলাশ (২৫), নিমাইকাশারী এলাকার শহীদুল্লাহর ছেলে সুতা ব্যবসায়ী নাজির আহম্মেদ (৩০), নিমাইকাশারী এলাকার কায়কোবাদ এর ছেলে দনিয়া কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ওসমান গনি বাঁধন (১৮), ডেমরার দক্ষিণ বক্সনগরেরর বাচ্চু বাবুর্চির ছেলে গার্মেন্টকর্মী রুবেল (২৫), একই এলাকার ভ্যান চালক সাদেক (৩২), সিদ্ধিরগঞ্জের পূর্ব নিমাইকাশারীর আবু মুন্সীর ছেলে রিকশা চালক হাবিবুল্লাহ (৩৪), পূর্ববাগমারা এনামুল হকের ছেলে (এসএসসি ফল প্রার্থী) মাজহারুল ইসলাম সৌরভ (১৬), পাইনাদি নতুন মহল্লার মৃত আবুল হাশেমের ছেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের সমবায় মার্কেটের ফাহিম ফ্যাশনের কর্মচারী সাইফুল (৩৬), শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া থানার উপসি গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে বাবু গাজী (৩৬), সিদ্ধিরগঞ্জের রসুলবাগের আলী আকবর স্কুলের শিক্ষক নাজমুলের ছোট ভাই (এসএসসি ফল প্রার্থী) খালেদ (১৬), ডেমরার ধলেশ্বরের মোকাররম মিয়ার ছেলে সাইদুল (২৮), জুয়েল (২৫), চাঁদপুরের তাহের ক্বারীর ছেলে সিদ্ধিরগঞ্জের নিমাইকাশারীর বাসিন্দা রাজমিস্ত্রি আবদুল গফুর (৩৫) এবং কভার্ড ভ্যানের হেলপার মিজানুর রহমান (২০)।

সংঘর্ষে বিপুলসংখ্যক পুলিশ, বিজিবি, সাংবাদিক ও পথচারীও আহত এবং গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাদের কয়েকজনকে নারায়ণগঞ্জ ২০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, চট্টগ্রাম মহাসড়কের সানারপাড় এলাকার মাদানীনগর মাদ্রাসায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তল্লাশি চালানোকে কেন্দ্র করে হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী লীগ কর্মীদের ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় মাদ্রাসার মাইকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ছাত্রলীগ-যুবলীগ কর্মীদের হামলার খবর প্রচার হওয়ার পর থেকেই ওই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

হেফাজতের লোকজন কাঁচপুর পুলিশ ফাঁড়িসহ পুলিশের দুটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। সংঘর্ষ চলাকালে মাদানীনগর মাদ্রাসার বিভিন্ন কক্ষে আগুন ধরিয়ে দেন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীরা। এ সময় বৃষ্টির মতো গুলি ছুড়ে পুলিশ। মৌচাক এলাকায় বিআরটিসির একটি দ্বিতল বাসে আগুন ধরিয়ে দেন হেফাজতের কর্মীরা। এছাড়া মহাসড়কের প্রায় ৫০ স্পটে হেফাজতকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply