মন্ত্রীর দেয়া শাস্তিমুলক বদলীর নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে বহাল তবিয়্যতে মুরাদনগরে দুর্নীতিতে নিমজ্জিত প্রভাবশালী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা

মোঃ মোশাররফ হোসেন মনির, মুরাদনগর(কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ —
প্রাথমিক ও গনশিক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী আবছারুল আমীনের দেয়া শাস্তিমুলক বদলীর নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে বহাল তবিয়্যতে থেকে মুরাদনগরে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়ম করে বীরদর্পে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যাবস্থাকে শোষন করছে শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুল হাসান।
জানা যায়, তিনি গোপালগঞ্জ জেলার অধিবাসী হিসেবে এ জেলার নাম ভাঁঙ্গিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে নানান অনিয়ম দুর্নীতি। গোপালগঞ্জে বাড়ী হওয়ার কারনে শিক্ষক নেতৃবৃন্দ সহ স্থানীয় আ’লীগের নেতাকর্মীরাও তার অনিয়মের বিষয়ে মুখ খুলেনা। যোগদানের মাত্র ৭ মাসে তিনি এ সেক্টরের প্রতিটি স্তরকে জিম্মি করে হাতিয়ে নিয়েছে বিপুল পরিমান অর্থ। তার বিরুদ্ধে মুরাদনগরের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যাবস্থা সংশ্লিষ্ট সকল পর্যায়ে অভিযোগের অন্ত নেই। নিয়োগ বানিজ্য, বদলী বানিজ্য, শিক্ষা উপকরন ক্রয় সহ প্রতিটি ধাপে ধাপে রয়েছে তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ। জানা যায়, গত বছরের অক্টোবরের শুরুতে যোগদান করে তিনি বিপূল সংখ্যক দফতরী কাম পিয়ন নিয়োগ দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন মোটা অংকের টাকা। ইতিমধ্যে ১৭৫টি বিদ্যালয়ে ৩০ হাজার টাকা করে সরকারী অনুদান আসলে ওই টাকা প্রতিটি স্কুল থেকে শিক্ষা উপকরন ক্রয় করার নামে ১০ হাজার টাকা করে উত্তোলন করার জন্য তিনি কয়েকজন শিক্ষককে দায়িত্ব প্রদান করেছেন। ওই শিক্ষকরা ১০ হাজার টাকা আদায় করে ৪ হাজার টাকার সামগ্রী প্রদান করে বাকী টাকা আতœসাতের চিন্তা ভাবনা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কামরুল হাছান ইতিমধ্যে মুরাদনগর উপজেলায় অবস্থিত বেশ কিছু বেসরকারী রেজিষ্টার প্রাথমিক বিদ্যালয় যাচাই বাছাইয়ের নামে প্রতিটি স্কুল থেকে ৬ হাজার টাকা করে প্রায় ৫ (পাঁচ)লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষক সহ অভিবাবক প্রতিনিধিরা। এ বছরের ফেব্র“য়ারী মাসে প্রাথমিক গনশিক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী আবছারুল আমীন শিক্ষার মান উন্নয়নে মুরাদনগরে মা সমাবেশ করতে আসলে ওই কর্মকর্তা মা সমাবেশের নামে শিক্ষক সমাবেশ করে হাতিয়ে নিয়েছেন ৪ লক্ষ ১৬ হাজার টাকা। মন্ত্রী তার এ অনিয়মে ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে খাগরাছড়ি জেলার দিঘীনালা উপজেলায় শাস্তিমুলক বদলী করলেও তিনি মন্ত্রীর নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে খুটির জোরে মুরাদনগরে বহাল তবিয়্যতে থেকে তার অনিয়ম দুর্নীতি অব্যাহত রেখেছে।
তিনি এলাকায় দম্ভোক্তি করে বলেন, আমাকে বদলী করার মতো ক্ষমতা মন্ত্রীর হয়নি। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষকরা তার অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে চাকুরীর ভয়ে কেউ মুখ খুলেনা। এ দিকে কামরুল হাছানের পুর্বের ষ্টেশন মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর সেখানেও তিনি ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়ম, ও ঘুষ কেলেংকারী করে চরমভাবে ধিকৃত হয়েছিলেন।
দৌলতপুরের উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কাদির তার বিরুদ্ধে ক্ষুদ্র মেরামতের নামে অর্থ আতœসাৎ , ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ করে দুদুকে একটি মামলা দায়ের করেছে। তার বিরুদ্ধে দুদুকে দায়েরকৃত ওই মামলা চলমান রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানায়, সে মুরাদনগরে চাকুরী করলেও তার বাসা ঢাকায়, তিনি ঢাকা থেকে সপ্তাহে ২/৩ দিন এসে অফিস করে ফের চলে যায়। মুরাদনগর উপজেলায় তার কার্যালয়টি একটি মাস্তানের আখড়ায় পরিনত করেছে। ভয়ে কোন শিক্ষক তার কাছে আসতে সাহস পায়না বলে অভিযোগ করেছে কেউ কেউ। সরকারী বিধি মোতাবেক প্রশ্নপত্র থেকে আয়ের কয়েক লক্ষ টাকা একাউন্টে রেখে শিক্ষামুলক কর্মকান্ডে ব্যায় করার বিধান থাকলেও কামরুল হাছান ওই টাকা একাউন্টে জমা না করে নিজেই আত্বসাৎ করে বলে অভিযোগ ওঠে।
মুরাদনগরের সর্বস্তরের শিক্ষক ও অভিবাবকরা অবিলম্বে তাকে অপসারন করে উপজেলার শিক্ষা ব্যাবস্থাকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার দাবী জানান।
তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে অভিযুক্ত কামরুল হাছান তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ গুলো অস্বীকার করে কৌশলে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান। সে প্রতিবেদকে দেখা করার অনুরুধ জানিয়ে বলেন, দেখা করলে সব কিছুর সমাধান হয়ে যাবে।
এ ব্যাপারে মুরাদনগরের উপজেলা চেয়ারম্যান হারুন আল রশিদ জানান, তার ব্যাপারে অভিযোগ এখনো আমার কাছে আসেনি তবে দুর্নীতি ও অনিয়মের কথাটি যেহেতু উঠেছে বিষয়টি আমি তদন্ত করে ব্যাবস্থা গ্রহন করবো।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply