ভবন ধসের পর নিখোঁজ শাহনাজ : অর্থের অভাবে মেয়ের খোঁজ নিতে পারছেন না বাবা-মা

মো. শরিফুল আলম চৌধুরী, মুরাদনগর (কুমিল্লা) থেকেঃ–

সাভারে রানা প্লাজা ধসে পড়ার দশ দিন পার হয়ে গেলেও শাহনাজ আক্তার (২০) নামের এক গার্মেন্টস কর্মীর খোঁজ পাচ্ছেন না তার বাবা-মা। গত বুধবার রাতে টিভির খবরে ‘অভিবাবকের সন্ধান মিলছেনা মুরাদনগরের শাহনাজের’ এমন সংবাদে পাগলের মতো খুঁজে বেড়াচ্ছেন তাদের মেয়ে শাহনাজকে। শাহনাজের বাবা-মা সাংবাদিককে জানান, ২৪ এপ্রিল বুধবার সাভারে ভবন ধসের ঘটনা ঘটলেও তারা তখনো জানতেন না যে তাদের মেয়ে শাহনাজ যেখানে চাকুরি করত সে ভবনটিই সাভারের ধসে পড়া ভবন। বৃহস্পতিবার দুপুরে নিখোঁজ শাহনাজের নানা উপজেলার রাজামেহের গ্রামের মনু মিয়া (৬৫) এসে তার বাবা-মাকে জানান, আমরা বুধবার রাতে টিভিতে শুনতে পেয়েছি মুরাদনগরের শাহনাজ নামের একটি মেয়ের কোন অভিবাবকের খোঁজ মিলছে না। এ খবর শোনা মাত্রই কান্নার রোল পড়ে যায় ওই পরিবারে। বাবা-মা এতই গরীব যে অর্থ সংকটের কারনে সাভারে যেয়ে খোঁজ নিতে পারছেন না নিজ মেয়ে শাহনাজ জীবিত কি না মৃত। এখন তাদের কান্না ছাড়া যেন আর কিছুই করার নেই। শুক্রবার দুপুরে এই রিপোর্ট লেখার যখন প্রস্তুতি চলছিল তখন ঢাকার মিরপুরের আরেক গার্মেন্টস কর্মী নিখোঁজ শাহনাজের প্রতিবেশি দূর সম্পর্কের চাচাত ভাই আবু হানিফ ও ভাবী খাদিজা বেগম মোবাইল ফোনে সাংবাদিককে বলেন, তারা খবর পাওয়া মাত্রই সাভারে যান। কিন্তু ভবন ধসের দশ দিন পেরিয়ে গেলে মেডিকেলসহ সব জায়গায় খোঁজে জীবিত বা মৃত কোন অবস্থায়ই তারা শাহনাজকে খুঁজে পাচ্ছেন না। শাহনাজের মা খতেজা বেগম (৪৮) কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, অভাবের তাড়নায় আমার ৪ মেয়ে ও ৩ ছেলের মধ্যে শাহনাজ দ্বিতীয়সহ আমার বড় ছেলে আবদুর রহিমকে প্রথমে (২০১০) সালের এপ্রিল মাসে কুমিল্লা ইপিজেডে একটি পোষাক কারখানায় কাজ করতে দেই। পরে অভাব অনটনের কারনে পারিবারিক মনোমালিন্য হওয়ায় শাহনাজ গত বছর ঢাকায় চলে যায়। তারপর থেকে সে আমাদের সাথে যোগাযোগ না রাখলেও আমরা পরস্পর শুনতে পাই; সে ঢাকার সাভারে আর একটি গার্মেন্টেসে চাকুরি করছে। এখন শুনছি ওই গার্মেন্টস নাকি ভেঙ্গে পড়ে শত শত লোক মারা গেছে। আমার মেয়ের কি অবস্থা কোথায় আছে তার কিছুই আমরা জানি না। মানুষ বলাবলি করছে সাভারে আসা যাওয়া করতে নাকি ৫-৬ হাজার টাকা লাগবে। এই টাকার অভাবে সাভারে যেয়ে নিজের মেয়ের খোঁজ খবর পর্যন্ত নিতে পারছি না। আপনারা দয়া করে আমার মেয়েকে জীবিত হউক আর মৃত্যুই হউক তার খোঁজ দিন। আমার মেয়েকে আমার কাছে ফেরত দিন। এভাবে কথাগুলো বলতে বলতে সে কান্নায় অজ্ঞান হয়ে পড়ে। বাবা-মা তাদের সবার কাছে আকুতি একটাই আপনার আমার মেয়েকে ফিরিয়ে দিন। আমরা আমাদের মেয়েকে চাই। শাহনাজের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার কাজিয়াতল গ্রামে। তার বাবার নাম আবদুল খালেক (৫২)।সে রানা প্লাজার ছয়তলার পোষাক কারখানায় দীর্ঘ দিন ধরে কাজ করতো। যদি কেউ শাহনাজের মৃত বা জীবিত অবস্থার খোঁজ পান ০১৮৪৯-৮১০৪৫৬; ০১৬৮৩-৪১৬৬৩৮ এই নম্বর গুলোতে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হলো।
উল্লেখ্য, বুধবার (২৪ এপ্রিল) সকাল পৌনে ৯টার দিকে সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডের পাশে রানা প্লাজা নামে বহুতল ভবনটি ধসে পড়ে। আহতদের এনাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালসহ আশপাশের অন্য হাসপাতাল, পঙ্গু হাসপাতাল, সিএমএইচ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply