নাসিরনগরে ১২২ প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনের জন্য ২ কর্মকর্তা : মাঠ পযার্য়ে বেহাল অবস্থা

আকতার হোসেন ভূইয়া, নাসিরনগর :–

নাসিরনগর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে ৫টি ক্লাষ্টারে সরকারি ও রেজির্স্টাড ১২২ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা ব্যবস্থা মনিটরিংয়ের জন্য মাত্র ২জন উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা রয়েছে । ফলে প্রয়োজনীয় জনবল সংকটের কারণে একদিকে যেমন অফিসের কার্যক্রম মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে অন্যদিকে মাঠ পর্যায়েও বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ১ জন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, ৬ জন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা, ৩ জন অফিস সহকারী, ১ জন হিসাব রক্ষক ও ১জন এমএলএসএস(পিয়ন) পদের বিপরীতে মাত্র একজন শিক্ষা কর্মকর্তা, ২জন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ও ২ জন অফিস সহকারী কর্মরত রয়েছে । চতুর্থ শ্রেণীর কোন কর্মচারী নেই দীর্ঘদিন ধরে। ৩ জন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার পদ দীর্ঘদিন ধরে শূণ্য থাকায় উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় অচলাবস্থা বিরাজ করছে । উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত থাকায় অন্য দুইজন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে মাঠ পর্যায়ের কাজে হিমশিম খেতে হচ্ছে । ফলে বিদ্যালয় পরিদর্শন, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ক্লাষ্টার ট্রেনিং এবং শিক্ষকদের হাজিরার বিষয়টি তদারকি সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে । তাছাড়া ৪ জন অফিস সহকারীর স্থলে মাত্র ২ জন কর্মরত থাকায় এর দুরাবস্থার প্রভাব পড়ছে উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে । ফলে অভিযোগ রয়েছে শিক্ষকরা টাইমস্কেল, মেডিক্যাল ছুটি, পেনশনসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। এ উপজেলায় ১২০টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ২টি (নতুন) বে-সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছে শিক্ষক স্বল্পতা ও আসবাবপত্রের অপ্রতুলতাসহ নানা সমস্যা । উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে সূষ্ঠু তদারকি না থাকার সুযোগে কতিপয় শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করছে অনেকটা গা ছাড়া ভাবে । এর খেসারত দিতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি নাসিরনগর উপজেলা শাখার সভাপতি ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবদুল হামিদ খান জানান, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার অভাবে বিদ্যালয় গুলোর মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা যাচ্ছে না। তার মতে পযার্প্ত সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা থাকলে তারা বিভিন্ন বিদ্যালয় পরিদর্শনে যেতে পারতেন। এতে করে শিক্ষকরা দায়িত্বশীল বেশী হতেন,লেখাপড়ার মানও উন্নত হত। নাসিরনগর উপজেলা সদর থেকে ৮ কিলোমিটার দুরে উপজেলার চান্দেরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ওই বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি
বেলু রাজা জানান, সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করার পরও সরকারি কর্মকর্তাদের তদারকির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তারা বিদ্যালয় পরিদর্শন করলে শিক্ষকরা আরও দায়িত্ববান হন।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হেমায়েতুল ফারুক ভুইয়া জনবল সংকটের কথা স্বীকার করে জানান,প্রতিটি ক্লাস্টারের¡ একজন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও কর্মকর্তার অভাবে অনেকটা জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছে। ফলে কাজ করতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অবগত করা হয়েছে ।

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply