ধর্ষিতা অন্ত:সত্বা শেফালী রাণীর অবশেষে পুত্র সন্তান প্রসব : দোষ চাপাতে চাচ্ছে নীরিহ বেলালের কাঁধে – প্রকৃত ধর্ষক পলাশ ধরাছোঁয়ার বাইরে

জামাল উদ্দিন স্বপন কুমিল্লা :–
ঘটনাস্থল নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের জামুরাইল গ্রামে। মানসিক প্রতিবন্ধি সংখ্যালঘু পরিবারের মেয়ে শেফালী রাণী। বিয়ে হয়েছিল রংপুরের এক মফিজের সাথে। মানসিক প্রতিবন্ধী বুঝতে পেরে মফিজ তালাক দিয়ে চলে যায়। একে সংখ্যালঘু অপর দিকে নিতান্ত গরীব, তাই কু-দৃষ্টি পড়ে একই গ্রামের আবদুর রহিমের পুত্র আ. হামিদ পলাশের। বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিতে থাকে শেফালীকে, শেফালী রাজী না হওয়ায় একদিন জোর করে ঘর থেকে বের করে বাড়ীর পাশেই রেল লাইন সংলগ্ন জঙ্গলে ধর্ষন করে। এরপর শুরু হয় অবৈধ মেলামিশা। এক পর্যায়ে শেফালী রাণী অন্ত:সত্বা হয়ে পড়ে। শেফালীর অন্ত:সত্বার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় কানাঘুষা চলতে থাকে পলাশকে নিয়ে। আর পলাশের সাথে আরেকজন জড়িত থাকার গুঞ্জন শুনা গিয়ে ছিল তিনি হলেন পলাশের বন্ধু একই গ্রামের সফিকুর রহমানের পুত্র মো. পারভেজ হোসেন মিয়া। পলাশের এ অপকর্ম স্বয়ং তার পিতার হাতেও ধরাপড়ে। তার পিতা তাকে শাসন করার খবর এলাকাবাসী জানায়। পাশাপাশি পলাশের পিতা আ. রহিম শেফালীকে বেধড়ক লাঠিপেটা করে। ইতিমধ্যে শেফালীর অন্ত:সত্বার বয়স বাড়তে থাকলে তার গর্ভপাত ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। দ্বিগবিদিক শূন্য হয়ে পলাশের পিতা আ. রহিম ছেলেকে বাঁচানোর জন্য এদিক সেদিক ছুটোছুটি করে। স্মরনাপন্ন হয় গ্রামের মোড়ল ও হিটলার নামে পরিচিত ভন্ড মাওলানা নূরু হুজুরসহ কতেকের। নূরু হুজুর ও ধর্ষক পলাশের পিতা আ. রহিম উভয়ের দহররম মহররম সম্পর্ক। এদের অত্যাচারে এলাকা নীরিহ লোকজন অতিষ্ঠ। ২/৪ টি পরিবারকে নি:শেষ করার খবর পাওয়া গেছে। এখন বন্ধুর ছেলেকে বাঁচানোর জন্য গ্রামের মিয়া, সোহাগ, মাহফুজ, শাহিন, মির হাশেম সহ যুক্তি করে অন্ত:সত্বার দায় গ্রামের নীরিহ বেলালের উপর চাপায়। এ খবর প্রকাশ করতে থাকলে এলাকাবাসী কোনভাবেই বিশ্বাস করতে চায় না। এলাকার বলাবলি করছে দেখছ কার দায় কার উপর চাপাতে চায়। এ হল নূরু হুজুরের কেরামতি। অবশেষে শেফালী পুত্র সন্তান প্রসব করে। কিন্তু নিরুপায় শেফালীর মা রজবালা। নূরু হুজুরের পরামর্শমতে বাধ্য হয়ে বেলালের বিরুদ্ধে কুমিল্লার আদালতে ধর্ষন মামলা দায়ের করে।
এদিকে মামলার বাদীনি রজবালার সাক্ষাৎ গ্রহন করা সম্ভব হয়নি। পরিকল্পনাকারীরা রজবালা ও তার মেয়ে ধর্ষিতা শেফালীকে অজ্ঞাত স্থানে লুকিয়ে রেখেছেন। আরো চাঞ্চল্যকর বিষয় প্রকৃত ধর্ষক আবদুল হামিদ পলাশ এ ধর্ষন মামলার ৩ নং স্বাক্ষী। এলাকাবাসী স্বাক্ষীর তালিকায় পলাশের নাম শুনে হাস্যকর করে বলে- “ মজা মারে গজা মিয়া, দোষ পড়ে বেলাল মিয়ার”।

Check Also

করোনাযুদ্ধে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিমকে বুড়িচংয়ে সমাহিত

বুড়িচং প্রতিনিধিঃ করোনাযুদ্ধে পুলিশে প্রথম জীবন উৎসর্গকারী কনস্টেবল জসিম উদ্দিনকে (৩৯) কুমিল্লায় সমাহিত করা হয়েছে। ...

Leave a Reply