পাকিস্তানে আসন্ন নির্বাচনকে পণ্ড করতে তৎপর তালেবানরা

ঢাকা :–

পাকিস্তানের অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্যমন্ত্রী আরিফ নেজামি অভিযোগ করেছেন, আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য তালেবানরা ব্যাপক চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি বলেছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালানোর জন্য তালেবানরা সুপরিকল্পিতভাবে এগোচ্ছে।

নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য তালেবানরা প্রার্থীদেরকে হত্যা করা কিংবা ভয়-ভীতি দেখিয়ে নির্বাচন থেকে তাদেরকে বিরত রাখার চেষ্টা করছে।

আগামী মাসের ১১ তারিখে পাকিস্তানে প্রাদেশিক ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে পণ্ড করার জন্য তালেবানরা গত কয়েক দিনে বেশ কিছু সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় বেশ কজন প্রার্থীসহ অনেক মানুষ নিহত হয়েছে।

এর আগে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুন খা ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশ এবং উপজাতি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে সশস্ত্র তালেবানের হামলার পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে বলে আভাস দিয়েছিল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনে ব্যাঘাত সৃষ্টির জন্য তেহরিকে তালেবানের ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্য কয়েকটি দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ। প্রথমত, তার এ বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, তালেবানের প্রতি বাইরের বিভিন্ন মহলের সমর্থন রয়েছে।

তালেবানরা নিজেদেরকে পাকিস্তান রাষ্ট্র এবং ইসলামের সেবক দাবি করলেও পাকিস্তানের তত্ত্বাবধায়ক সরকার তালেবানের পেছনে বাইরের মদদের অভিযোগ এনেছে। তালেবানের বিরুদ্ধে সরকারের এ অভিযোগের কারণে দেশটির নিরাপত্তা ও বিচারবিভাগ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। এর আগে পাকিস্তানের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেহমান মালিকও তালেবানের বিরুদ্ধে একই ধরণের অভিযোগ তুলেছিলেন।

তালেবানের ব্যাপারে তথ্যমন্ত্রী আরিফ নেজামির বক্তব্যের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হচ্ছে, তালেবানের সঙ্গে অন্যান্য সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর সম্পর্ক ও সহযোগিতা থাকতে পারে। কারণ তালেবানরা সমগ্র পাকিস্তানে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে। পাকিস্তানের কর্মকর্তারা মনে করেন, অন্য সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর সহযোগিতা ছাড়া তালেবানের একার পক্ষে সারা দেশজুড়ে তাণ্ডব চালানো সম্ভব নয়। এ কারণে তথ্যমন্ত্রী বলেছেন, তালেবানের একার পক্ষে কেবলমাত্র আতংক সৃষ্টি করা ছাড়া আর কিছুই করা সম্ভব নয়।

তৃতীয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে, বর্তমান অস্থায়ী সরকার আশঙ্কা করছে সেনা ও গোয়েন্দা বিভাগের কোনো কোনো মহলের সঙ্গে এসব উগ্র গোষ্ঠীগুলোর সম্পর্ক থাকতে পারে। কারণ পাকিস্তানের সমাজে এ কথা প্রচলিত আছে যে, প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর কোনো কোনো মহলের সঙ্গে উগ্র গোষ্ঠীগুলোর গোপন সম্পর্ক রয়েছে।

এদিকে, পাকিস্তানের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা তালেবানের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা বিশেষ করে জাতিসংঘের নীরবতারও তীব্র সমালোচনা করেছেন। কারণ বৃহত শক্তিগুলো পাকিস্তানে নৈরাজ্য সৃষ্টি ও দেশটিকে খণ্ড-বিখণ্ড করার জন্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো বিশেষ করে তালেবানদেরকে ব্যবহার করছে। আইআরআইবি।

Check Also

রিয়াদে জ্যাবের ‘অমর একুশে’ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

ষ্টাফ রির্পোটার :– “অমর একুশের চেতনায় গন মানুষের মনে জেগে উঠুক উজ্জলতা উৎকৃষ্টতা” শীর্ষক আলোচনা ...

Leave a Reply