বিশ্ব শ্রমিক দিবস ও রানা প্লাজায় শ্রমিক হত্যা ———মো. আলী আশরাফ খান

আজকে যদিও আমরা সাভারের রানা প্লাজায় সংঘটিত নির্মম হত্যাকা- নিয়ে যারপরনাই মর্মাহত-ব্যথীত ও আবেগাপ্লুত। তারপরে যেহেতু ১ মে বিশ্ব শ্রমিক দিবস সেহেতু প্রথমে শ্রমিকের আন্দোলনের ইতিবৃত্ত নিয়ে কিছু আলোকপাত করার চেষ্টা করবো এ লেখায়।
এ পৃথিবীতে মানব বসতি স্থাপনের পর থেকেই শ্রমিকের ধারাবাহিক যে ঘাম ঝরে আসছে এবং যে আন্দোলন চলে আসছে সে আন্দোলনই দিনে দিনে এ বিশ্বকে আধুনিক থেকে আরো আধুনিক করেছে-করছে। আমাদের জীবন যাত্রাকে করছে বহুলাংশে গতিময়। নি:সন্দেহে নারী ও পুরুষের সমান প্রচেষ্টায় আজকের আধুনিক বিশ্বে মানুষ যে সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে, এসব শ্রমিকেরই সাধনার ফল তা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। কিন্তু বিশ্বে এমন কিছু অর্থলিপ্সু ও ধান্দাবাজ মানুষ রয়েছে যারা সাধারণ মানুষদের রক্ত চোষে বিরাট পূঁজিপতি ও বিত্ত-বৈভবের মালিক হয়েছেন-হচ্ছেন। তাদের চাওয়া-পাওয়ার যেনো শেষ নেই। সকল নিয়ম-নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন করে তারা বড় হওয়ার পথ খোলসা করছেন। যেভাবেই হোক ওই সকল রক্ত পিপাসুদের বড় হওয়া চাই। যেনো অশুভ এ প্রতিযোগিতায় তাদের জয়ী হতেই হবে। এ অসুস্থ প্রতিযোগিতার ফলে এখন বিশ্বের সর্বত্রই শ্রমিক-মালিক বৈষম্যের বিষয়টি বেশ আলোচিত হয়ে উঠেছে। দিন যতই যাচ্ছে ততই সৃষ্টি হচ্ছে বৈষম্যের প্রাচীর। এমন এক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে যে, এখন শ্রমিকদেরকে হত্যা করে তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে মরিয়া হয়ে উঠছে। আমাদের শ্রমিক সমাজ প্রতিদিনই মরছে এবং প্রতিদিনই যেনো আবার নতুন করে জন্ম নিচ্ছে।
অথচ, প্রতি বছর বেশ ঘটা করে ১ মে বিশ্ব শ্রমিক দিবস পালিত হচ্ছে। শ্রমের সঠিক মূল্য, শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার রক্ষা এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপি নানা রকম কর্মসূচির মধ্যদিয়ে এ দিনটি পালন করা হচ্ছে। কিন্তু এসব কর্মকা-ের মাধ্যমে শ্রমিকের স্বার্থ উদ্ধার হয়নি, হচ্ছে না। শ্রমের মূল্য বাড়েনি,বাড়ছে না। শ্রমিকের নূন্যতম অধিকারও নিশ্চিত হয়নি,হচ্ছে না এখনও পর্যন্ত। বরং দিনে দিনে শ্রমিক সমাজকে নিস্পেষণ, নির্যাতন ও রক্তবন্যায় ভাসিয়ে তারা বড় থেকে হচ্ছে আরো বড়। আমরা জানি, ১৮৮৬ সালে ৮ ঘন্টা কাজ এবং শ্রমের যথাযথ মূল্যের দাবিতে আমেরিকার শিকাগো শহরের ‘হে মার্কেট’ শ্রমিকের রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল।
কিন্তু এক শতাব্দী পেরিয়ে আরেক শতাব্দীর প্রায় মাঝামাঝিতে এসেও আমরা সভ্যতার দাবিদাররা এখনও পারিনি প্রতিষ্ঠা করতে শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার। জাতিসংঘের অধিনে আইএলও-আন্তর্জাতিক শ্রমসংস্থা শ্রমজীবি খেটেখাওয়া মানুষদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিতকরণে বিশ্ব-রাষ্ট্রসমূহকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা দান করছেন বললেও, আজও এর বাস্তবায়ন হয়নি। শুধু তাই নয়, জাতিসংঘের সনদের ভিত্তিতে বিশ্বের প্রত্যেক দেশের সংবিধানে শ্রমিকদের অধিকার স্বীকৃত এবং কোনোভাবেই শ্রমিকের ওপর কোনো রকম অবিচার করা যাবে না বলে উল্লে¬খ থাকলেও এর কোনো বাস্তব রূপ নেই সমাজে। আমরা দেখি, বছর বছর শ্রমজীবি মানুষদের জন্য সংবিধানে যুক্ত হয় নতুন নতুন আইন। কিন্তু যেই শ্রমিক সেই শ্রমিকই রয়ে যায়। তাদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন ঘটেনা, ঘটেনি এ যাবত পর্যন্ত।
বিশ্বনেতৃবৃন্দরা প্রায়ই বলেন, আমরা শ্রমের সঠিক মূল্যায়ণ ও শ্রমজীবি মানুষের প্রকৃত অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে চলছি। আমাদের মিশনের অন্যতম-শ্রমজীবী মানুষদের ভাগ্যের উন্নয়ন এবং সঠিক প্রাপ্ততা বিধান করা। কিন্তু তাদের চোখে পড়েনা, কতটা ন্যায্যতার ভিত্তিতে-কোন মানের ওপরে চলছে শ্রমিকের জীবিন-জীবিকা, কতটা শ্রমের মূল্য পাচ্ছে শ্রমিকসমাজ।
স্পষ্ট করে বললে, শ্রমিকদের অধিকারের নামে যারা সবচেয়ে বেশি গলাবাজি করেন, তাদের দ্বারাই ভুলন্ঠিত হচ্ছে শ্রমিকের অধিকার। ওইসব মুখোশপরা ব্যক্তি-গোষ্ঠীরদের কারণেই শোষণের শিকার হয় সাধারণ শ্রমিকগোষ্ঠী। রক্তপিপাসু একধরনের মানুষ মানবাধিকারের নামে বিশেষ করে দেশ-বিদেশে এবং এশিয়া ও তৃতীয় বিশ্বের দুঃখী-দরিদ্রদের শ্রমকে পুঁজি করে বিভিন্ন ফাঁদ ও কৌশল এঁটে রাতারাতি অঢেল সহায়-সম্পত্তির মালিক হয়েছেন, হচ্ছেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় গার্মেন্টস শ্রমিকরা কোটি কোটি মানুষের উন্নতমানের বস্ত্র তৈরি করেন এবং দেশি-বিদেশিদের উন্নতকরনে বিরাট ভূমিকা রাখছেন। অথচ, তাদের পরনে ছিন্ন বস্ত্র, অনাহারে-অর্ধ্বাহারে কাটে তাদের দিন। তাদের রক্তে ভিজে পথ-ঘাট, ইট-পাথর। আকাশে-বাতাসে তাদের লাশের গন্ধ ভাসে। এটা কেমন সভ্যতা, কেমন মানবাধিকার, কেমন শ্রমিকদের মর্যাদা?
যেসব শ্রমিকরা বহুজাতিক কোম্পানিতে তৈরী করছে জীবন রক্ষাকারী ওষধপত্র আর এসব শ্রমিকেরই ওষুধের অভাবে মৃত্যু হয়! যেসব শ্রমিকের ঘাম দ্বারা পেটুকের দল উদরভর্তি করছেন প্রতিদিন-প্রতিক্ষণ, খাদ্যাভাবে ওইসমস্ত শ্রমিকেরই করুণ মৃত্যু হয়! মালিকপক্ষ-পূঁজিপতিদের এদিকে কোনো খেয়াল নেই। বরাবরই শ্রমিকদের দলিত-মথিত ও বঞ্চিত করে টাকা, মদ ও নারীর নেশায় বেপরোয়া হয়ে পথ হলে এসব উচ্চাবিলাসির দল। তাদের বিলাসবহুল জীবনযাপনেই সমাজে চরম বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে সাধারণ শ্রমিকরা যে মানের খাবার পাচ্ছে, চিকিৎসা ও বাসস্থানেরও অবস্থাও যে কতটা নাজুক, তা কি একবার ভাবছে ওইসব সমাজপতি-পুঁজিপতিরা? আর এভাবেই দিনে দিনে নামমাত্র মূল্যে সাধারণ মানুষের শ্রমকে নিয়ে একশ্রেণীর মানুষ কলকাঠি নেড়েচেড়ে আঙ্গুলফুলে কলাগাছ বনে যাচ্ছেন।
আমরা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করবো যে, সরকারের দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও উদাসীনতার কারণে আগেকার যে কোন সময়ের তুলনায় এখন আমাদের দেশে গার্মেন্টস শিল্প-কল-কারখানায় অগ্নিকা- এবং ভবন ধসের ঘটনা বেশি ঘটছে এবং বাড়ছে হতাহতের মত ভয়াবহ ঘটনা। দেশের সব সরকারই যতটা না কাজ করে এর চেয়ে বহুগুন বাড়িয়ে বাড়িয়ে বলায় অভ্যস্ত হওয়ায় সমস্যা দিনে দিনে বেড়েই চলছে। ভ্রমণের নেশায় আমার সুযোগ হয়েছে ইউরোপসহ বিশ্বের আঠারটি দেশ ঘোরার। বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা করলে, আমাদের দেশেই এসব সমস্যা প্রকটাকার ধারণ করেছে। শ্রমের মূল্যও আমাদের দেশে অতি নগন্য। তাছাড়া শ্রমিকের মূল্যায়ণ এ দেশে উন্নত বিশ্বের যে কোন দেশের একটি পোষা বিড়ালের দশ ভাগের এক ভাগেরও কম বলা যায়। আমাদের দেশে এমনও শোনা যায়, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি থেকে টাকা কিংবা ব্যাংক ঋৃণ মওকুফের জন্যও নাকি ইচ্ছে করেই ঘটানো হচ্ছে এসমস্ত বীভৎস ওন্যক্কারজনক ঘটনা।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজনীতির খড়কুটু হিসেবে ব্যবহার করতে গিয়েও আমাদের গার্মেন্টস শ্রকিদের মৃত্যুমুখে ঠেলে দিয়েছে কিছু পথভ্রষ্ট কথিত রাজনৈতিক। এরই বড় প্রমাণ, অতিসম্প্রতি ঘটে যাওয়া ‘রানা প্লাজা’ সাভার ট্র্যাজেডি। রানা প্লাজার মালিক একজন স্থানীয় প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতা। তার দাপটে তটস্থ থাকতো এলাকার মানুষ। পত্রিকায় প্রকাশ, ওই এলাকার বর্তমান এমপির যোগসাজসে মাসুদ রানা বিভিন্ন অপকর্মসহ নিরিহ মানুষের জায়গা জমি দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করে ভাড়া দিতেন। এমনই একটি বিল্ডিং ‘রানা প্ল্াজা’। যা ৫ তলার অনুমোদন নিয়ে ৯ তলায় রূপান্তরিত করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, এ ভবনটির ৪টি ফ্লোর ভাড়া দেওয়া হয়েছিল গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীর জন্য। যেখানে প্রতি ফ্লোরে দুই হাজার থেকে বাইশশ’ শ্রমিক কাজ করতো বলে জানা যায়। তাছাড়া ভারী ভারী যন্ত্রপাতি তো আছেই। যার ফলে এ ভবনে ফাটল দেখা দেয় ৩য় তলার কয়েকটি পিলারে। যা দেখে ওই দিনই শ্রমিকরা কাজ ছেড়ে চলে যায়। ইঞ্জিনিয়ারাও এ ভবনকে ব্যবহারের অনোপযুগী ঘোষণা দিয়ে সকলকে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে বলেন। কিন্তু পরের দিন এ শ্রমিকদের দিয়ে হরতাল বিরোধী কর্মকা- চালনার জন্য আওয়ামীলীগ নেতা মাসুদ রানা এবং ৪টি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীর মালিকদের যোগসাজশে শ্রমিকদেরকে বলেন, ‘ভবনের তেমন কিছুই হয়নি, তোমাদেরকে আজকে সকাল দশটাই ছেড়ে দেয় হবে।’ এবং একরকম জোরপূর্বক ও লাঠিপেটা করে শ্রমিকদেরকে ভবনে ঠুকিয়ে গেইটে তালা মেরে দেয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পরেই ভবনটি ধসে পরে।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ আরেকটি অধ্যায়ের যোগ হয়। নিমিষেই ৯ তলা ভবনটি আড়াই তলায় পরিণত হয়। লাশ আর লাশের মিছিলে মানুষ হয় কিংকর্তব্যবিমূঢ়। লাশের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। স্বজন হারানো মানুষদের হৃদয়বিদারক কান্নার শব্দে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। কারো কারো হাত-পা কেটে বের করে আনা হয় বাহিরে। এই বীভৎসতা এতটাই করুণ যে, বলার ভাষা নেই-লেখার ভাষা নেই। আমরা জানি না, কত শ্রমিককে হত্যা করা হয়েছে এখানে। আমরা জানি না, কত শ্রমিক পঙ্গু-বিকলাঙ্গ হয়েছে এ ভবন ধসে। আমরা জানি না, কতটা ক্ষতিপূরণ পাবে নিহতদের পরিবার। আমরা জানি না, আদৌ বিচার হবে কিনা এসব হত্যাকারীদের। তবে রাষ্ট্র পরিচালনাকারীদের বক্তব্য আমাদের পুরু জাতির শোকের মাত্রাকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। তাদের দায়িত্ব জ্ঞানহীন কথাবার্তায় প্রমাণ হয়েছে যে, তারা আর ক্ষমতায় থাকার যোগ্যতা রাখেন না।
এ বিষয়টিকে ঘিরে আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে বলবো যে, টাকার জন্য, রাজনীতির জন্য কি করে সম্ভব হলো, দেশের উন্নতির প্রাণ অগণিত গার্মেস্টস শ্রমিককে হত্যা করা? কিভাবে অসংখ্য মায়ের বুক খালি করা হলো সন্তানদেরকে ইটপাথরে চাপা দিয়ে? বিন্দুমাত্রও বুক কাঁপলো না এসব নরপিশাচদের? জানি, এসব প্রশ্নের উত্তর আমরা পাবো না। বিচার হবে না, এসব হত্যাকারীদের। ইতিহাস এমনটাই বলে। আমরা স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করি, তিনিই বিচার করবেন এসব হত্যাকারীদের। আমরা প্রার্থনা করি, আল্লাহ যেন আর আমাদেরকে রানা প্লাজার ধ্বংসস্তুপের মত অবস্থায় না ফেলেন। পূঁজিপতিদের মধ্যে উদয় হোক আলোর ও মানবতা বোধের।
পরিশেষে আমরা বলতে চাই, শুধু একদিন ঘটা করে শ্রমিক দিবস পালন এবং হইচই করে আমাদের কখনও মুক্তি আসবে না, কখনই এ সমস্যার সমাধান হবে না এ পথ ধরে চললে। নারী-পুরুষের শ্রমের মুজুরীর বৈষম্য, সকল শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ণ ও শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার রক্ষায় কর্মকা- চালিয়ে যেতে হবে বছরের ৩৬৫ দিনই। মালিকদের নিজ নিজ স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি শ্রমিকদের স্বার্থকেও শতভাগ প্রাধান্য দিতে হবে। দেশ-বিদেশের সকল সংগঠনকে একজোটে কাজ করতে হবে-শ্রমিকের যথাযথ অধিকার নিশ্চিতকরণে। শ্রমিকের প্রতি সহযোগিতা ও সহমর্মীতার হাত সম্প্রসারিত করতে হবে মালিক পক্ষকে। তবেই শ্রমিকরা তাদের কাজের সঠিক গতি পাবে, উৎসাহ-উদ্দীপনা ও স্বতঃস্ফূর্তার সঙ্গে কাজ করবে। এ ধারায় উৎপাদন যেমন বৃদ্ধি পাবে তেমনি শ্রমিক-মালিক বৈষম্য দূর হবে। দেশ-জাতির সামগ্রিক উন্নতি হবে।

———-
লেখক: কবি-কলামিস্ট ও সংগঠক
গৌরীপুর, দাউদকান্দি, কুমিল্লা।

এখানে প্রকাশিত সব মতামত লেখকের ব্যাক্তিগত, কুমিল্লাওয়েব ডটকম’র সম্পাদকীয় নীতির আওতাভুক্ত নয়।

Check Also

মিনি ওয়াক-ইন-সেন্টারের মাধ্যমে রবি’র গ্রাহক সেবা সম্প্রসারণ

ঢাকা :– গ্রাহক সেবাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে মোবাইলফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেড সম্প্রতি মিনি ওয়াক ...

Leave a Reply