সরাইলে কালিকচ্ছ পাঠশালার প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ : সংসদ সদস্যের স্বাক্ষর জাল

আরিফুল ইসলাম সুমন :–

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে কালীকচ্ছ পাঠশালা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মুখলেছুর রহমানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, জালিয়াতি, সেচ্ছাচারিতা, অনিয়মসহ নানা দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থায় দুর্নীতিবাজ এই প্রধান শিক্ষকের শাস্তিসহ অপসারণের দাবি জানিয়েছে অভিভাবক মহলসহ এলাকাবাসী।
এই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, বিদ্যালয়ের নানা ফান্ডের অর্থ কৌশলে আত্মসাৎ, বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা পরিষদ সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের স্বাক্ষর জালিয়াতি, প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন উন্নয়ন বরাদ্দে লুটপাট, বিভিন্ন পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র ছাপার নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া, শিক্ষা বিস্তারের নামে দেওয়া সরকারি বরাদ্দ বাগভাটোয়ারা ইত্যাদি।
বিদ্যালয়, অভিভাবক মহল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে কালীকচ্ছ পাঠশালা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন মুখলেছুর রহমান। তিনি ব্যবস্থাপনা পরিষদের কয়েকজন অসাধু সদস্যকে নিয়ে এ বিদ্যালয়ে একটি বলয় গড়ে তোলে। নানাভাবে দুর্নীতির মহোৎসব চালিয়ে লুফে নেয় টাকা। শিক্ষা বিস্তারের উদ্দেশ্যে এ বিদ্যালয়ে চলমান সেকায়েপ প্রকল্পে নানাভাবে অনিয়ম চালিয়ে প্রধান শিক্ষক হাতিয়ে নিচ্ছে সরকারি অর্থ। এ বিদ্যালয়ে সেকায়েপ প্রকল্পের আওতায় ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে অতিরিক্ত ক্লাশ কার্যক্রমে কাগুজে-কলমে পাঁচজন রিসোর্স টিচার আছে। বাস্তবে নামেমাত্র দায়িত্ব পালন করছেন তিনজন। এই দুইজন রিসোর্স টিচার প্রধান শিক্ষকের নানামূখী অত্যাচারের শিকার হয়ে গত চার-পাঁচমাস যাবত বিদ্যালয়ে আসছেন না। কিন্তু প্রধান শিক্ষক প্রত্যেকমাসে জাল-জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে পাঁচজন রিসোর্স টিচারের বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন। এই প্রকল্পে এসটি শিক্ষক নিয়োগে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ আছে। অনিয়ম ও কৌশল খাটিয়ে পছন্দের শিক্ষকদের এসটির দায়িত্ব দিয়ে প্রধান শিক্ষক প্রতিমাসে মোটা অংকের টাকা কামিয়ে যাচ্ছেন। কয়েকমাস আগে সীমাহীন দুর্নীতির কারণে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এ বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক লিখিত অনাস্থার প্রস্তাব আনেন। পরে ব্যবস্থাপনা পরিষদের কাছে নিশর্ত ক্ষমা চেয়ে রক্ষা পান তিনি।
গত ২৩ এপ্রিল সেকায়েপ প্রকল্পের ক্লাশ রুটিং-এ বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা পরিষদ সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধার স্বাক্ষর জাল করে প্রধান শিক্ষক মুখলেছুর রহমান অসৎ উদ্দেশ্য হাসিল করার চেষ্টা করেন। রোববার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ জালিয়াতি ধরা পড়ে। এ ঘটনায় এলাকায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অভিভাবকমহলসহ স্থানীয় অনেকে এই প্রধান শিক্ষকের শাস্তিসহ অপসারণের দাবি জানিয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দফতর সূত্রে জানা যায়, কালীকচ্ছ পাঠশালা উচ্চ বিদ্যালয়ে সেকায়েপ প্রকল্পের আওতায় ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে অতিরিক্ত ক্লাশ কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য পাঁচজন রিসোর্স টিচার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের প্রত্যেক শিক্ষক মাসে ৪৫টি ক্লাশ নেওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিটি ক্লাশের জন্য (৬০ মিনিট) একজন শিক্ষক ভাতা পান পাঁচশ’ টাকা। আর এসটি শিক্ষক পান (প্রতি ক্লাশ) ১৭৫ টাকা। এসবের সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। এ জন্য তাকে প্রতিমাসে ১৫শ’ টাকা অতিরিক্ত সম্মানি প্রদান করা হয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিনিধি মোঃ মারুফ খান জানান, সংসদ সদস্যের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। যারা এই জঘন্যকাজটি করেছে তাদের বিচার হউক। ব্যবস্থাপনা পরিষদের দাতা সদস্য মোঃ আতাহার হোসেন বকুল জানান, ধারনা করা হচ্ছে কমিটির অসাধু ২/১ জন সদস্য ও কতিপয় শিক্ষক মিলে সংসদ সদস্যের স্বাক্ষর জাল করেছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমান জানান, এমপি মহোদয়ের স্বাক্ষরটি জাল নিশ্চিত হয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে একাধিকবার ফোন করেছি। তার মোবাইল ফোন বন্ধ। তিনি জানান, এটা সম্পূর্ণ আইন পরিপন্থী কাজ করেছে।
এদিকে বিদ্যালয় ও ভাড়া বাড়িতে খোঁজ করেও প্রধান শিক্ষক মুখলেছুর রহমানকে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মুঠোফোন (০১৯২৪-৩১২৫৫৬) বন্ধ। তবে কালীকচ্ছ পাঠশালা উচ্চ বিদ্যালয়ে দায়িত্বে থাকা প্রধান শিক্ষিকা হোসনা বানু জানান, প্রধান শিক্ষক ছুঁটিতে আছেন। আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না।
বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা পরিষদের সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা জানান, অসৎ উদ্দেশ্য হাসিল করতেই তারা স্বাক্ষর জাল করেছে। এটি গর্হিত অপরাধ। প্রধান শিক্ষকসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে। তিনি জানান, এই জালিয়াতির সাথে যে-ই জড়িত থাকুক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

Check Also

কুমিল্লায় তিন গৃহহীন নতুন ঘর পেল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ– কুমিল্লা সদর উপজেলায় গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের গৃহহীন নুরজাহান বেগম, ...

Leave a Reply